দৃশ্যপট-১ : প্রাচীনকালের চৈনিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল হোয়াংহো নদীর তীরে । বর্ষার সময় নদীটি প্রায় শত শত কি. মি. পর্যন্ত এলাকা জুড়ে প্লাবিত হতো । গ্রামের পর গ্রাম ও জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেত। চীনারী তাই একে ডাকত নানা নামে। কখনো ডাকত 'ভ্ৰাম্যমাণ নদী' বলে, কখনো বা 'চীনের দুঃখ' আবার কখনো 'সর্বনাশী' বলে। 

দৃশ্যপট-২ : মেসোপটেমিয়া সভ্যতার রাজধানী ছিল ব্যাবিলন। বাণিজ্য নগরী হওয়ায় এর কেন্দ্রস্থলে থাকত চারদিকে ঘেরা বাজার । তার মধ্যে মালপত্র মজুদ করার আড়ত থাকত। বাজারের চারপাশে থাকত কারিগর, মাঝিমাল্লা ও মুটেদের কুঁড়েঘর- এগুলো তৈরি করা হতো মাটি ও খড়-বিচালি দিয়ে। কখনো বা ছোট ছোট হালকা পাথর দিয়ে।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ সক্রেটিসের শিক্ষার মূল দিক ছিল শিষ্যদের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করা এবং আত্ম-অনুসন্ধান ও নৈতিকতার উপর জোর দেওয়া।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান হলো সুসংহত আইন ও বিচারব্যবস্থা প্রণয়ন। তারা একটি বিস্তারিত ও লিখিত আইনের কাঠামো তৈরি করেছিল, যা তাদের বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনা এবং সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ছিল।

রোমানদের এই আইনব্যবস্থা, বিশেষ করে জাস্টিনিয়ান কোড (Justinian Code), আধুনিক বিশ্বের বহু আইনি কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এটি ন্যায়ের মৌলিক নীতি, সম্পত্তির অধিকার এবং নাগরিকের আইনি সুরক্ষার ধারণাগুলিকে সুসংহত করে, যা পরবর্তীকালে ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক আইন ব্যবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

দৃশ্যপট-১ এর চৈনিক সভ্যতার বিপরীত চিত্র মিশরীয় সভ্যতায় লক্ষ করা যায়।

মিশরীয় সভ্যতা নীল নদের তীরে গড়ে উঠেছিল। নীল নদের প্লাবন ছিল অত্যন্ত নিয়মিত ও পূর্বানুমেয়। এর ফলে পলিমাটি জমে উর্বর ভূমি তৈরি হতো, যা কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ছিল এবং মিশরীয় সভ্যতার বিকাশে মূল ভূমিকা পালন করেছিল। এজন্য মিশরকে 'নীলের দান' বলা হয়।

দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত হোয়াংহো নদীকে যেখানে 'চীনের দুঃখ', 'ভ্রম্যমাণ নদী' বা 'সর্বনাশী' বলা হয়েছে তার কারণ ছিল এর অনিয়মিত ও ধ্বংসাত্মক বন্যা। এর বিপরীতে, নীল নদের নিয়মিত প্লাবন মিশরীয়দের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ ছিল, যা তাদের জীবনযাত্রাকে সমৃদ্ধ করেছিল এবং সভ্যতাকে স্থিতিশীলতা দিয়েছিল। তাই চৈনিক সভ্যতার নদীর ধ্বংসাত্মক প্রকৃতির ঠিক বিপরীত চিত্রটি মিশরীয় সভ্যতার নীল নদের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

দৃশ্যপট-২-এ বর্ণিত ব্যাবিলন নগরী ছিল প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। অন্যদিকে, সিন্ধু সভ্যতার আবিষ্কৃত হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর মতো শহরগুলো ছিল সুপরিকল্পিত নগর স্থাপত্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই দুটি প্রাচীন শহরের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করে তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো।

দৃশ্যপট-২ অনুযায়ী, ব্যাবিলন ছিল একটি বাণিজ্য নগরী, যার কেন্দ্রস্থলে একটি ঘেরা বাজার এবং মালপত্র মজুদের জন্য আড়ত ছিল। বাজারের চারপাশে কারিগর, মাঝিমাল্লা ও মুটেদের মাটি, খড়-বিচালি বা হালকা পাথর দিয়ে তৈরি কুঁড়েঘর দেখা যেত। এর বিপরীতে, সিন্ধু সভ্যতার শহরগুলো যেমন হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। এগুলোর রাস্তাঘাট ছিল প্রশস্ত ও সমান্তরাল, যা জ্যামিতিক নকশার ভিত্তিতে তৈরি। প্রতিটি শহরে দুটি সুস্পষ্ট অংশ থাকত – একটি উঁচু 'সিটাডেল' বা দুর্গ এবং একটি নিচু শহর যেখানে সাধারণ মানুষ বাস করত।

ব্যাবিলন মূলত তার বাণিজ্যিক গুরুত্বের জন্য পরিচিত হলেও, এর সাধারণ অধিবাসীদের বাসস্থান দৃশ্যপট-২ অনুযায়ী মাটি, খড়-বিচালি ও পাথর দিয়ে তৈরি সাধারণ কুঁড়েঘর ছিল। এর স্থাপত্যে সুদূরপ্রসারী নগর পরিকল্পনার তেমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় না, বরং বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি স্বতঃস্ফূর্ত বিন্যাস দেখা যায়। কিন্তু সিন্ধু সভ্যতার শহরগুলোতে উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, স্নানাগার (যেমন মহেঞ্জোদারোর মহাস্থানাগার) এবং শস্যভাণ্ডার ছিল, যা সুসংগঠিত পৌর প্রশাসনের ইঙ্গিত দেয়। সিন্ধুর ঘরবাড়িগুলো পোড়া ইটের তৈরি ছিল, যা ব্যাবিলনের সাধারণ কুঁড়েঘরের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই ও উন্নত নির্মাণশৈলীর পরিচায়ক।

সুতরাং, দৃশ্যপট-২-এর ব্যাবিলন মূলত একটি বাণিজ্যকেন্দ্রিক শহর হিসেবে চিত্রিত হয়েছে যেখানে সাধারণ বাসস্থানগুলো অপেক্ষাকৃত কম উন্নত ছিল। এর বিপরীতে, সিন্ধু সভ্যতার শহরগুলো তাদের সুপরিকল্পিত নগর বিন্যাস, উন্নত অবকাঠামো, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পোড়া ইটের নির্মাণশৈলীর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এই পার্থক্যগুলো উভয় সভ্যতার নগর উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার ভিন্নতা প্রকাশ করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
946

Related Question

View All
উত্তরঃ

ইতিহাস শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো "ঐতিহ্য" বা "যা ঘটেছিল"। এটি অতীতের ঘটনা, তথ্য ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিক অধ্যয়ন ও বিবরণ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
3.3k
উত্তরঃ

ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবনযাপন, তাদের অর্জন ও ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। এটি আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জাতীয় পরিচয়ের উন্মোচন করে, যা বর্তমান পরিস্থিতি অনুধাবন এবং ভবিষ্যতের সঠিক পথ নির্ধারণে সহায়ক হয়।

দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য ইতিহাস জানা অপরিহার্য। ইতিহাস পাঠের ফলে জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত হয়, যা একটি জাতিকে তার গৌরবময় অতীত থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে উৎসাহিত করে। উদ্দীপকের রফিকের মতো, ইতিহাস আমাদের নিজ দেশের গৌরবময় অতীত সম্পর্কে অবগত করে এবং জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews