গণপরিষদের একমাত্র কাজ ছিল সংবিধান প্রণয়ন।
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদকে তাদের যাবতীয় কার্যাবলির জন্য সংসদের নিকট দায়ী থাকতে হয় বলে এ ব্যবস্থাকে জবাবদিহিমূলক সরকার বলা হয়।
সংসদীয় সরকার পদ্ধতিতে প্রতিনিধিরা জনগণের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন এবং এদের দ্বারাই শাসনকার্য পরিচালিত হয়। এ ব্যবস্থায় জনগণ দেশের সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। ফলে শাসনবিভাগকে তার কাজের জন্য আইনবিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে হয়।
দৃশ্যপট-১-এ যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে শিক্ষার উন্নয়নে গৃহীত কার্যক্রমকে নির্দেশ করে।
স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু সরকার কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর মধ্যে শিক্ষাখাত ব্যাপক গুরুত্ব পায়। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষাক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি ৯০০ কলেজ ভবন ও ৪০০ হাইস্কুল পুনঃর্নিমাণ করেন। প্রথমবারের মতো প্রায় ৩৮ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। এর ফলে এসব স্কুলে কর্মরত ১ লক্ষ ৬৫ হাজার শিক্ষকের চাকরিও সরকারি করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শিক্ষকদের ৯ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের জন্য জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেন।
উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১-এ বলা হয়েছে, বন্যার কারণে গোমতী নদীর ভাঙনের ফলে কতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে। স্থানীয় সাংসদ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারের কাজ করেন। উদ্দীপকের অনুরূপ সংস্কারমূলক কার্যক্রম দেখা যায় উপরে আলোচিত স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে। তাই বলা যায়, দৃশ্যপট-১ যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের শিক্ষা কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করে।
বাংলাদেশকে বিভিন্ন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় ও আন্তর্জাতিক সহায়তা আনয়ন, উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২-এর ঘটনারই প্রতিফলন। আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করছি।
দৃশ্যপট-২-এ দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতা লাভের পর দেশটির সরকারপ্রধান বিভিন্ন দেশের সাহায্যের পাশাপাশি পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থেকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে জোর আহ্বান জানান। অনুরূপভাবে বাংলাদেশও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের সাথে বৈদেশিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আহ্বান জানিয়েছিল।
তৃতীয় বিশ্বের সদ্য স্বাধীন একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্রনীতির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১০ই জানুয়ারি ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে আসার পূর্বে ভারত ও ভুটান ছাড়া বাংলাদেশ আর কোনো দেশের স্বীকৃতি পায়নি। অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য সহযোগিতা লাভ জরুরি হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মেধা দিয়ে উপলব্ধি করেছেন যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে- প্রথমত, স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। দ্বিতীয়ত, দেশ পুনর্গঠনে বিদেশি সাহায্য-সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের জন্য স্বীকৃতি আদায়ের কাজটি খুব সহজসাধ্য ছিল না। বঙ্গবন্ধুর সফল নেতৃত্বে ১৯৭৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র ও জাতিসংঘসহ প্রায় সব আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি লাভ করে।
Related Question
View Allবঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।
বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরদিনই অর্থাৎ ১৯৭২, সালের ১১ জানুয়ারি অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারির মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য বঙ্গবন্ধু সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
রবার্ট এর দেশে '৭২ সালের সংবিধানের 'সমাজতন্ত্র' বৈশিষ্ট্যটি লক্ষ করা যায়।
১৯৭২ সালের সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সমাজতন্ত্র। কারণ বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের সব সময় সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা এবং দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সংগ্রাম করেছেন। আর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় অংশ ছিল নিম্ন পরিবারের সন্তান। স্বাধীনতার পর দেশের মানুষের স্বপ্ন ছিল সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মৌলিক চাহিদা পূরণে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাই সংবিধানে সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকে রবার্ট-এর দেশেও শোষণহীন সমাজ গঠনের ব্যবস্থা করা হয়। এই ব্যবস্থা সমাজতন্ত্রের প্রতীক। রবার্টের দেশের জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে সরকার এবং তার দেশে শোষণহীন সমাজ গঠন করা হয়। ঠিক একইভাবে '৭২-এর বাংলাদেশের সংবিধানেও রবার্টের দেশের সমাজতন্ত্রের রূপ আংশিক পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায় যে, রবার্টের দেশে ৭২-এর সংবিধানের সমাজতন্ত্র বৈশিষ্ট্যটি পরিলক্ষিত হয়।
রাসেলের কথায় '৭২-এর সংবিধানের আংশিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। কেননা মানবাধিকার, স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ছাড়াও '৭২-এর সংবিধানে আরও অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে
গণপ্রজাতন্ত্রী 'বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হলো বাংলাদেশের সংবিধান। '৭২-এর সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে গ্রহণ করা হয় এবং ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়। '৭২-এর সংবিধানে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি হবে একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে। আর রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করবে না এবং প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার ও আচার অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেবে। এই সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এই সংবিধানে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার এবং এক কক্ষবিশিষ্ট আইন পরিষদের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও '৭২-এর সংবিধানে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ আছে।
উদ্দীপকে শুধু মানবাধিকার, ভোটাধিকার এবং প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। যেখানে '৭২-এর সংবিধানের আংশিক প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তবে '৭২-এর সংবিধানে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্য ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যথার্থ সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ।
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এলেন। অবিসংবাদিত নেতার প্রতি জনগণের আবেগময় অভিনন্দন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। পুরাতন বিমানবন্দর হতে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ জনতা উপস্থিত হয়ে প্রিয় নেতাকে অভিনন্দন জানায়। এদিন জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!