মহেঞ্জোদারো কথাটির অর্থ মড়া মানুষের ঢিবি।
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার রাজবংশের রাজাদের উপাধি ছিল 'ফারাও'।
মিশরীয় 'পের-ও' শব্দ থেকে ফারাও শব্দের উৎপত্তি। ফারাওরা স্রষ্টার প্রতিনিধি হিসেবে দেশ শাসন করত। নিজেদের তারা সূর্য দেবতার বংশধর মনে করত। ফারাও পদটি ছিল বংশানুক্রমিক। অর্থাৎ ফারাওয়ের ছেলে উত্তরাধিকার সূত্রে 'ফারাও' হতো। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় ফারাওরা ছিল অত্যন্ত ক্ষমতাশালী।
দৃশ্যপট-১ এর নগরজীবনের সাথে সিন্ধু সভ্যতার নগরজীবনের মিল রয়েছে।
সিন্ধু সভ্যতায় যেসব শহর আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সবচেয়ে বড় শহর। এ সভ্যতার নগরগুলোর ঘরবাড়ি সবই পোড়া মাটির বা রোদে পোড়ানো ইট দিয়ে তৈরি। শহরগুলোর বাড়িঘরের নকশা থেকে সহজেই বোঝা যায়, সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা উন্নত ধরনের নাগরিক সভ্যতায় অভ্যস্ত ছিল। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর নগর পরিকল্পনা একইরকম ছিল। নগরীর ভেতর দিয়ে চলে গেছে পাকা রাস্তা। রাস্তাগুলো ছিল সোজা। প্রত্যেকটি বাড়িতে খোলা জায়গা, কূপ ও স্নানাগার ছিল। জল নিষ্কাশনের জন্য ছোট ছোট নর্দমা সংযুক্ত করা হতো মূল নর্দমা বা পয়ঃপ্রণালির সাথে। এছাড়া রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হতো। পথের ধারে ছিল সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট।
দৃশ্যপট-১-এ দেখা যায়, মালয়েশিয়ার সরকার প্রশাসনিক সুবিধার্থে 'পুত্রজায়া' নামক একটি রাজধানী শহর নির্মাণ করেন। যে শহরে রয়েছে বড় বড় রাস্তা, সুউচ্চ অট্টালিকা, পরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ইত্যাদি। এ দৃশ্যপট-১ এর অনুরূপ নগর পরিকল্পনা দেখা যায় সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনায়, যা উপরের আলোচনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, দৃশ্যপট-১ এর নগরজীবনের সাথে সিন্ধু সভ্যতার নগরজীবনের মিল রয়েছে।
দৃশ্যপট-২ অনুযায়ী প্রাচীন গ্রিসেই গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল- উক্তিটি যথার্থ।
গ্রিসের এথেন্স শহরকে কেন্দ্র করে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। সারা বিশ্বে আজ যে গণতন্ত্রের জয়জয়কার তার ভিত্তিমূল তৈরি হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসের শাসকবর্গের হাত ধরেই। তারাই প্রথম রাষ্ট্র পরিচালনায় এই গণতান্ত্রিক ধারা সূচনা করেছিলেন এবং সময়ের পরিক্রমায় তা আজ হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় শাসন ব্যবস্থা। গ্রিসে গণতান্ত্রিক ধারার সূচনা করেন অভিজাত বংশে জন্ম নেওয়া খ্যাতিমান শাসক 'সোলন'। তবে তার সময়ে গণতন্ত্র শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কিন্তু তার গৃহীত ব্যবস্থাগুলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দ্বার অনেকাংশেই উন্মুক্ত করে দেয়। যেমন 'সোলন' গ্রিক আইনের কঠোরতা হ্রাস করার পাশাপাশি কৃষকদের ঋণ থেকে মুক্ত করার জন্য আইন পাস করেন। তার এ পদক্ষেপগুলো নিঃসন্দেহে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পেছনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। সোলনের পর জনকল্যাণে এগিয়ে আসেন পিসিসট্রেটাস এবং ক্লিসথেনিস। তারাও জনকল্যাণে অনেক আইন পাস করেন। তবে চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায় পেরিক্লিসের সময়। পেরিক্লিসের রাজত্বের ৩০ বছরে তিনি নাগরিকদের সব রাজনৈতিক অধিকারের দাবি মেনে নেন এবং এ সময় তিনি প্রশাসন, আইন ও বিচার বিভাগে নাগরিকদের অবাধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। এমনকি বিচারের দায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি নাগরিকদের মধ্য থেকে জুরি নিযুক্ত করতেন। এ বিষয়গুলোই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিল।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, যে গণতন্ত্র পাওয়ার জন্য মানুষ প্রতিদিন সংগ্রাম করছে, সেই গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসে। উদ্দীপকের এ বক্তব্যের সত্যতা প্রতিভাত হয়ে উঠে উপরের আলোচনা পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে। উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, গণতন্ত্রের সূচনা প্রাচীন গ্রিসেই হয়েছিল।
Related Question
View Allলাতিন রাজা রোমিউলাস (Romulus) রোম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন।
পারস্পরিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে রোমে তিনজনের শাসন টেকেনি।
রোমে অক্টেভিয়াস সিজার, মার্ক এন্টনি ও লেপিডাসের একত্রিত শাসন ব্যবস্থা 'ত্রয়ী শাসন' বা তিনজনের শাসন বলে পরিচিত। তবে এ শাসন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কারণ প্রত্যেকেরই আকাঙ্খা ছিল রোমের একচ্ছত্র অধিপতি বা সম্রাট হওয়ার। ফলে খুব শীঘ্রই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং রোম সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থার সাথে মিশরীয় সভ্যতার নীল নদের অববাহিকার মিল পাওয়া যায়।
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা নীল নদের অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল। নীল নদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। প্রাচীনকালে নীল নদে বন্যা হতো। বন্যার পর পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হয়ে যেত। জমে থাকা পলিমাটিতে জন্মাতো নানা ধরনের ফসল।
উৎপাদিত ফসলের প্রাচুর্যের ওপর ভিত্তি করে মিশরে গড়ে উঠেছিল কৃষি নির্ভর অর্থনীতি। উদ্দীপকেও দেখা যায়, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় প্রায় প্রতিবছরই বন্যায় নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার পানি নেমে গেলে তীরবর্তী এলাকায় পলি জমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এটি প্রচুর ফসল উৎপাদন এবং সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
উপরে বর্ণিত উভয় অঞ্চলের তুলনামূলক আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, উদ্দীপকের বাংলাদেশের অবস্থার সাথে মিশরীয় সভ্যতার নীল নদের অববাহিকার মিল পাওয়া যায়।
পৃথিবীব্যাপী সভ্যতার বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থা তথা নদী অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে ওঠা কৃষিনির্ভর অর্থনীতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রাচীন সভ্যতাগুলোর বিকাশ ও সমৃদ্ধি অর্জনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, প্রায় প্রতিটি সভ্যতাই নদী অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে ওঠা কৃষির ওপর ভিত্তি করে বিকাশ লাভ করেছে। উদাহরণ হিসেবে মিশরীয় ও সিন্ধু সভ্যতার কথা বলা যায়। মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীল নদের অববাহিকায়। প্রতিবছর নদী অববাহিকা অঞ্চলে বন্যার পানি সরে গেলে দুই তীরে পলি মাটি পড়ে জমি উর্বর হয়ে যেত। স্বাভাবিকভাবেই এ উর্বর জমিতে প্রচুর ফসল জন্মাতো। ফসলের এ প্রাচুর্য মিশরকে করেছিল অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী। আমরা জানি যে, অর্থনৈতিক শক্তিই সভ্যতার বিকাশে মূল ভূমিকা রাখে। মিশরীয় সভ্যতার মতোই সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে। আধুনিক প্রত্নতত্ত্ববিদরা এ বিষয়ে একমত যে, সিন্ধু সভ্যতার অগ্রগতির পিছনে মূল ভূমিকা রেখেছিল সিন্ধু নদ বিধৌত অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি। এসব সভ্যতার মতো উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, অঞ্চলটির সমৃদ্ধির পিছনে নদী বিধৌত অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, সভ্যতার বিকাশে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
স্টোইকবাদী দর্শন রোমে প্রথম প্রচার করেন প্যানেটিয়াস।
প্রাচীন পৃথিবীতে প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় এথেন্সে। তবে প্রথম দিকে এখানে ছিল রাজতন্ত্র। খ্রি. পূর্ব সপ্তম শতকে রাজতন্ত্রের পরিবর্তে এক ধরনের অভিজাততন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন পেরিক্লিস। তিনি নাগরিকদের সব ধরনের রাজনৈতিক দাবি- দাওয়া মেনে নেন এবং এথেন্সে গণতন্ত্রের সূচনা করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!