কার্ল মার্কসের সামাজিক স্তরবিন্যাস তত্ত্বের ভিত্তি হচ্ছে 'দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ'।
ওয়েবার ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের মধ্যে আইনগত দিক থেকে পার্থক্য নির্ণয় করেন।
ওয়েবার এর মতে, ক্ষমতা যখন বৈধতা লাভ করে তখন তাকে কর্তৃত্ব বলা হয় বা ক্ষমতার ভিত্তি যদি আইন হয় তখন তাকে কর্তৃত্ব বলা হয়। আবার ঐতিহ্যবাহী কর্তৃত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা লাভ করে। যেমন- রাজার ছেলে রাজা হলে তাকে ঐতিহ্যবাহী কর্তৃত্ব বলা হয়।
বিধান সাহেবের জীবন বিসর্জনকে আমি ডুর্খেইম বর্ণিত পরার্থমূলক আত্মহত্যার সাথে তুলনা করব।
ব্যক্তি যখন পরের জন্য আত্মহত্যা করে তখন তাকে পরার্থমূলক আত্মহত্যা বলে। এ ধরনের আত্মহত্যা সাধারণত গোষ্ঠীর কারণে বা গোষ্ঠীর স্বার্থে হয়ে থাকে। সমাজের প্রচলিত নিয়ম তথা সামাজিক স্বার্থও অনেক ক্ষেত্রে পরার্থমূলক আত্মহত্যার কারণ হয়ে থাকে। দেশপ্রেমের স্বার্থে যুদ্ধে আত্মবিসর্জন, আত্মগ্লানিতে আত্মহত্যা, স্বেচ্ছায় সহমরণ ইত্যাদিকে ডুর্খেইম পরার্থমূলক আত্মহত্যা বলেছেন। যেসব সমাজে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সামাজিক স্বার্থ প্রবল আকার ধারণ করে সেসব সমাজে এ ধরনের আত্মহত্যা অধিক হারে সংঘটিত হয়।
দৃশ্যপট-৩-এ আমরা দেখতে পাই, বিধান সাহেব মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। তার এ আত্মহত্যা দেশের মানুষের স্বার্থে হয়েছে, যা এমিল ডুর্খেইমের বর্ণিত পরার্থমূলক আত্মহত্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সুতরাং বলা যায়, বিধান সাহেবের জীবন বিসর্জনকে ডুর্খেইম বর্ণিত পরার্থমূলক আত্মহত্যার সাথে তুলনা করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আত্মহত্যাগুলো হলো আত্মকেন্দ্রিক আত্মহত্যা, পরার্থমূলক আত্মহত্যা, নৈরাজ্যমূলক আত্মহত্যা। এ সকল আত্মহত্যা সামাজিক বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতেই হয়ে থাকে।
ডুর্খেইমের মতে, আত্মকেন্দ্রিক আত্মহত্যা সংঘটিত হয় সামাজিক অবচিতির ফলে। সাধারণত সমাজ বা গোষ্ঠীর সাথে ব্যক্তির সংহতির অভাব দেখা দিলে এ ধরনের আত্মহত্যা ঘটে থাকে। অন্যদিকে আত্মকেন্দ্রিক আত্মহত্যার ঠিক বিপরীত ধরন হলো পরার্থমূলক আত্মহত্যা। এ আত্মহত্যা সংঘটিত হয় সমষ্টির ইচ্ছায়, সমাজের স্বার্থে। অতএব এক্ষেত্রে সমাজের যা অভিপ্রায় তা চরিতার্থ করা ব্যক্তি বিশেষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ ব্যক্তি যখন গোষ্ঠী বা সমাজকে চরম ভালোবাসে এবং এর প্রতিদানস্বরূপ নিজের জীবন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না তখনই এ ধরনের আত্মহত্যার জন্ম হয়। সাধারণত যুদ্ধ বিগ্রহকালে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ এ ধরনের আত্মহত্যা সংঘটিত করে। আবার সমাজে যখন কোনো প্রকার বিপর্যয় দেখা দেয়, তখন মানুষের মনে বিতৃষ্ণার সৃষ্টি হয়। এ বিতৃষ্ণা দূর করার জন্যই ব্যক্তি যে আত্মহত্যা করে তাকে ডুর্খেইম নৈরাজ্যমূলক আত্মহত্যা বলে অভিহিত করেছেন।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আত্মকেন্দ্রিক, পরার্থমূলক এবং নৈরাজ্যমূলক এ সকল আত্মহত্যার পিছনে সামাজিক বিভিন্ন ঘটনা দায়ী।
Related Question
View Allদৃষ্টবাদের জনক ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁৎ।
জার্মান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবারের সমাজ বিশ্লেষণের পদ্ধতি হলো আদর্শ নমুনা।
ওয়েবারের মতে, কোনো সামাজিক প্রপঞ্চ কিংবা ঐতিহাসিক সত্তাকে জানতে বা বিশ্লেষণ করতে হলে তার আদর্শ নমুনা তৈরি করতে হবে। আর এ নমুনা তৈরির জন্য বিজ্ঞানীকে অন্তর্দৃষ্টির আশ্রয় নিতে হবে। বিশেষ করে একটি প্রপঞ্চের সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও যৌক্তিকতাকে আদর্শ ধরে নিয়ে অন্য প্রপঞ্চকে তার সাথে মিল বা অমিলের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। ম্যাক্স ওয়েবারের 'আদর্শ নমুনা' সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতির প্রবর্তন। তিনি আমলাতন্ত্রকে 'আদর্শ নমুনা' তত্ত্বের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করেছেন।
জাউদ্দীপকে উল্লিখিত মানুষের শ্রমবিভাজন ও আত্মহত্যাতত্ত্ব ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমের।
উনিশ শতকের অন্যতম সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম তার 'The Division of Labour in Society' গ্রন্থে আধুনিক শিল্পসমাজে শ্রমবিভাজনের অস্বাভাবিক রূপ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি এর দু'টি প্রধান অস্বাভাবিক রূপকে চিহ্নিত করেন। এগুলো হলো, নৈরাজ্যমূলক এবং বাধ্যতামূলক শ্রমবিভাজন। নৈরাজ্যমূলক শ্রমবিভাজনটি শ্রমের চরম বিশেষীকরণের ফল। এক্ষেত্রে ব্যক্তি তার বিশেষীকৃত কর্মক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বাধ্যতামূলক শ্রমবিভাজন হলো এমন একটি অবস্থা, যাতে ব্যক্তি তার পছন্দ অনুযায়ী বৃত্তি নির্বাচনের সুযোগ পায় না। ফলে বাধ্যতামূলকভাবে তাকে যেকোনো একটি বৃত্তি গ্রহণ করতে হয়। ডুর্খেইম বলেন, ব্যক্তির যোগ্যতাকে অস্বীকার করে এভাবে তার ওপর শ্রম চাপিয়ে দেওয়া সামাজিক সংঘাতের মূল কারণ।
এমিল ডুর্খেইম তার 'The Suicide' গ্রন্থে আত্মহত্যা সম্পর্কে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, আত্মহত্যা হলো ব্যক্তিগত ঘটনা কিন্তু আত্মহত্যার হার সামাজিক ঘটনা। কারণ আত্মহত্যা ঘটনাবলির পরিসংখ্যান গ্রহণ এবং এর পরিমাণও নিরূপণ করা যায়। ফলে এটি কেবল আত্মহত্যা হিসেবেই বিবেচ্য থাকে না, বরং তা সামাজিক ঘটনায় পরিণত হয়। ডুর্খেইম আত্মহত্যাকে তিনভাগে ভাগ করেছেন। যথা- আত্মকেন্দ্রিক, পরার্থমূলক এবং নৈরাজ্যমূলক আত্মহত্যা।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকে উনিশ শতকের অন্যতম পথিকৃৎ সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম প্রদত্ত শ্রমবিভাজন ও আত্মহত্যাতত্ত্বের উল্লেখ রয়েছে।
লাউদ্দীপকে উল্লিখিত মুসলিম মনীষী হচ্ছেন ইবনে খালদুন।
খালদুন ১৩৩২ খ্রিষ্টাব্দে তিউনিসের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। অর্থাৎ জন্মসাল অনুযায়ী তিনি চৌদ্দ শতকের মনীষী। এছাড়া ইবনে খালদুনই সর্বপ্রথম মানুষ সম্পর্কে একটি বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব এবং সামাজিক বা গোষ্ঠী সংহতিকে ব্যাখ্যা করেন, যেমনটা উদ্দীপকে বলা হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানের বিকাশের ক্ষেত্রে আমি ইবনে খালদুনকে পথিকৃৎ দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে মূল্যায়ন করব।
ইবনে খালদুন বিশ্বের ইতিহাস রচনা করতে গিয়ে 'কিতাবুল ইবার' নামে যে গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন তার ভূমিকা 'আল-মুকাদ্দিমা' নামে পরিচিত। এ গ্রন্থটিতে তিনি তার সমসাময়িককালের ইতিহাসবেত্তাদের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ত্রুটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ইবনে খালদুন বুঝতে পেরেছিলেন, শুধু রাজনৈতিক ঘটনার নিছক বর্ণনা ইতিহাসের বিষয়বস্তু হতে পারে না। তাই তিনি রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। এজন্য ইবনে খালদুন একটি নতুন বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। এ নতুন বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু ও পদ্ধতি হবে সুনির্দিষ্ট, যা সত্যিকারের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনায় সাহায্য করবে। ইবনে খালদুন তার এ নতুন বিজ্ঞানের নাম দেন 'আল-উমরান' বা সংস্কৃতির বিজ্ঞান। এ বিজ্ঞান সব ধরনের মানব প্রতিষ্ঠানের উৎপত্তি, প্রকৃতি ও বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করবে। ইবনে খালদুন প্রদত্ত 'আল-উমরান'কে সমাজবিজ্ঞান বলা যেতে পারে। কারণ মানবসমাজই এ বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু। এছাড়া 'আল আসাবিয়া' ইবনে খালদুনের সমাজতাত্ত্বিক চিন্তাধারার কেন্দ্রীয় প্রত্যয়। 'আসাবিয়া' প্রত্যয়টির অর্থ হলো সামাজিক বা গোত্র সংহতি। ইবনে খালদুনের মতে, সমাজের ভিত্তি হচ্ছে গোত্র সংহতি। সমাজ সম্পর্কে তার এ চিন্তাধারা পরবর্তীকালে পৃথক শাস্ত্র হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ও বিকাশে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছিল। এ কারণেই মহান এই মুসলিম মনীষীকে সমাজবিজ্ঞানের 'আদি জনক' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পরিশেষে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞানের মূলভিত্তি রচনায় ইবনে খালদুনের অবদান অপরিসীম।
'সমাজ হচ্ছে সামাজিক সম্পর্কের জাল'- উক্তিটি সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের।
সামাজিক পরিবর্তনে সমাজের বিশিষ্ট চিন্তাবিদেরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজে এমন মহৎ ব্যক্তি জন্ম নেন যারা যুগসন্ধিক্ষণে বা দেশের সংকটময় মুহূর্তে তাদের চিন্তাচেতনা, বিবেক, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এসব ক্ষণজন্মা ব্যক্তিরা শুধু নিজের দেশকেই আলোকিত করেন না বরং পৃথিবীর সব জাতিগোষ্ঠীকে সঠিক পথের সন্ধান দেওয়ার চেষ্টা করেন। যেমন- মহাত্মা গান্ধী, স্বামী বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, এ. কে. ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ ব্যক্তিগণ সমাজের ক্ষণজন্মা ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!