পবিত্র কুরআনে ৬২৩৬টি মতান্তরে ৬৬৬৬টি আয়াত রয়েছে।
'বাকারা' শব্দের উপস্থিতি থেকে প্রতীকী হিসেবে এর নামকরণ করা হয়েছে সুরা আল-বাকারা।
সুরা আল-বাকারা কুরআন মাজিদের সর্ববৃহৎ সুরা। হাদিসে এর নাম 'সুরা বাকারা' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকারা অর্থ 'গাভী' এ সুরার ২৮৬টি আয়াতের মধ্যে ৯টি আয়াতে (৫১-৫৪ ও ৬৭-৭১) ইসরাইল জাতির সাথে সম্পৃক্ত দুটো 'গাভী' কাহিনির উল্লেখ রয়েছে। ৫১-৫৪ নং আয়াতে বনি ইসরাইলের গো-বৎস পূজার কাহিনি এবং ৬৭-৭১ নং আয়াতে একটি বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গাভী জবেহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ পাওয়া যায়। উল্লিখিত আয়াতের মধ্যে 'বাকারা' শব্দ থেকে এ সুরার প্রতীকী নামকরণ করা হয়েছে।
দৃশ্যপট-২ এ হযরত আবু বকর (রা) এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা) কুরআন সংকলন করেন। এজন্য ইসলামের ইতিহাসে তার নাম চিরস্মরণীয়। নবিজির (স) পার্থিব জীবনের শেষ সময়ে অসুস্থতার কারণে হযরত আবু বকর (রা) রাসুলের (স) ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই কুরআন সংকলনের সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণকারী। দৃশ্যপট-২ এ তাঁর প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ রাসুলের (স) ইন্তেকালের পর হযরত আবু বকর (রা) এর কুরআন গ্রন্থাবদ্ধ করার বিষয় বর্ণিত হয়েছে। দ্বাদশ হিজরিতে ভণ্ডনবি' মুসায়লামাতুল কাযযাবের বিরুদ্ধে পরিচালিত ইয়ামামার যুদ্ধে সত্তর জন হাফেজে কুরআন সাহাবি শাহাদাত বরণ করেন। এতে কুরআন মাজিদ সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বিপর্যয় সৃষ্টির আশঙ্কা প্রবল হয়ে ওঠে। হযরত উমর (রা) কুরআন সংকলনের জন্য আবু বকর (রা) এর কাছে যান এবং কুরআনকে গ্রন্থাবদ্ধ রূপে সংকলনের প্রস্তাব দেন। হযরত আবু বকর (রা) 'কাতেবে ওহি' হযরত যায়েদ বিন সাবেত (রা) এর নেতৃত্বে কুরআন সংকলন বোর্ড গঠন করেন। এ বোর্ড কুরআনের বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপির সংকলন করেন। সুতরাং বলা যায়, দৃশ্যপট-২ এ ইয়ামামার যুদ্ধ পরবর্তী হযরত আবু বকর (রা) কর্তৃক কুরআনের গ্রন্থাবদ্ধ সংকলনের কথাই বলা হয়েছে।
শুদ্ধরূপে কুরআন শিক্ষার লক্ষ্যে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের হরকত ও নোকতা সংযোজনের উদ্যোগটির প্রভাব অপরিসীম। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিলেন আরব প্রশাসক ও উমাইয়া খেলাফতের একজন মন্ত্রী। তিনি বুদ্ধিমান ও কঠোর প্রকৃতির শাসক ছিলেন। তিনি পবিত্র কুরআনে হরকত ও নোকতা সংযোজনের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন। উদ্দীপকের দৃশ্যপট-৩ এ উমাইয়া শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কর্তৃক কুরআন মাজিদে হরকত ও নোকতা সংযোজনের বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। বস্তুত হাজ্জাজ বিন ইউসুফ খলিফা আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ানের নির্দেশে বিখ্যাত তাবেঈ ও আরবি ব্যাকরণবিদ আবুল আসওয়াদ আদ দুআলির নেতৃত্বে পবিত্র কুরআনে হরকত ও নোকতা সংযোজন করেন। আরবী ভাষী লোকদের জন্য কুরআন বোঝা সহজ ছিল, কারণ তাদের আরবি ভাষার জ্ঞান ছিল। কিন্তু অনারবদের জন্য হরকত ও নোকতা ছাড়া কুরআন বোঝা ছিল কষ্টসাধ্য। ফলে কুরআন তিলাওয়াত ও বোঝার ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। আবার হরকত ও নোকতার ভুল ব্যবহারে কুরআনের আয়াতসমূহের অর্থের তারতম্য ঘটে। মূলত কুরআন সঠিকভাবে বোঝার জন্য হাজ্জাজ বিন ইউসুফ হরকত ও নোকতা প্রয়োগ করেন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, পবিত্র কুরআন মাজিদের শুদ্ধ ও সঠিক তেলাওয়াত এবং বোঝার ক্ষেত্রে হরকত ও নোকতা সংযোজন রহমত স্বরূপ।
Related Question
View Allসবর শব্দের অর্থ অবিচল থাকা, ধৈর্যধারণ করা।
মুত্তাকি' বলতে আল্লাহভীরু লোকদের বোঝায়। মুত্তাকি শব্দের অর্থ আল্লাহভীরু বা পরহেজগার। জন্মগত বা বংশগত কারণে কারো পক্ষে মুত্তাকি হওয়া সম্ভব নয়। মুত্তাকি হতে হলে কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন। সুরা বাকারার আলোকে সেগুলো হলো অদৃশ্য বিষয়ের অস্তিত্বে বিশ্বাসী হতে হবে। সব হুকুম-আহকাম পালনের মাধ্যমে সালাত কায়েম করবে। তাকে আল্লাহ যে রিজিক দিয়েছেন তা থেকে মানুষের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করবে।
জনাব জাহিদ কুরআন অবতরণের পদ্ধতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আল-কুরআন সর্বপ্রথম লাওহে মাহফুজ বা সুরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ ছিল। তারপর আল্লাহ তায়ালা লাওহে মাহফুজ থেকে কুরআন অবতরণের সূচনা করেন। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকাবস্থায় মহান আল্লাহর নির্দেশে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে আল-কুরআনের সুরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নিয়ে মহানবি (স) এর কাছে অবতরণ করেন। যা উদ্দীপকের জনাব জাহিদের বক্তব্যে ফুটে ওঠে।
উদ্দীপকের জাহিদ পবিত্র কুরআনের অবতরণ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন, এটা একবারে নাজিল বা অবতীর্ণ হয়নি এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছে। এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) বলেন, 'লাওহে মাহফুজ থেকে সমগ্র কুরআন কোনো এক কদরের রাতে পৃথিবীর আকাশের 'বায়তুল ইযযাহ' নামক স্থানে নাজিল হয়। বায়তুল ইযযাহ হলো বায়তুল মামুরের অপর নাম। এটি বায়তুল্লাহ বরাবর পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশে ফেরেশতাদের ইবাদতগৃহ। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে রাসুল (স)-এর প্রতি ধীরে ধীরে প্রয়োজন মতো অল্প অল্প অংশ নাজিল হয়ে দীর্ঘ তেইশ বছরে এ নাজিল প্রক্রিয়া পূর্ণতা পায়' (আল-ইত্কান, বায়হাকি)। রাসুল (স) এর ওপর স্বপ্নযোগে, ঘন্টাধ্বনিতে, জিবরাইল (আ) নবিজির অন্তরে কুরআন ঢেলে দেওয়ার মাধ্যমে, জিবরাইল (আ) এর নিজস্ব আকৃতিতে নবিজির কাছে ওহি নিয়ে অবতরণ, সরাসরি আল্লাহর সাথে কথোপকথন প্রভৃতি মাধ্যমে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। সুতরাং জনাব জাহিদ এসব পদ্ধতিরই ইঙ্গিত করেছেন।
আদর্শ জাতি গঠনে পবিত্র কুরআনের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে- জনাব নাহিদের এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করি। পবিত্র কুরআন সর্বশেষ আসমানি কিতাব। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর নবুয়ত জীবনের সুদীর্ঘ তেইশ বছরে এটা অবতীর্ণ হয়েছিল। কুরআনে মানবজীবনের সবকিছুর সমাধান রয়েছে। যা নাহিদের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের জনাব নাহিদ আদর্শ জাতি গঠনে কুরআনের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করেন। কুরআন মাজিদ বিশ্বমানবের সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবননির্বাহের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত বিধি-ব্যবস্থাপনা। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ব্যক্তিজীবন হতে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ও বিভাগে মানব সমস্যার অন্ত নেই। মানবজাতিকে এ সমস্যার আবর্ত হতে পরিত্রাণ করে সুষ্ঠু- শান্তিময় ও উদ্বেগহীন জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ তায়ালা সর্বশেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর প্রতি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব আল-কুরআন নাজিল করেছেন। তিনি মানবজীবনের সব সমস্যার সমাধান এই মহাগ্রন্থে উপস্থাপন করেছেন।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- আর আমি তোমার ওপর কিতাব নাজিল করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা সম্বলিত, হেদায়েত, রহমত এবং সুসংবাদ-মুসলিম জাতির জন্য (সুরা নাহল: ৮৯)। রাসুলুল্লাহ (স) তাঁর বিদায় হজের ভাষণে এজন্যই বলেছেন- 'আমি তোমাদের মাঝে দুটো বিষয় রেখে যাচ্ছি। যদি তোমরা এ দুটোকে আঁকড়ে ধর, কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। একটা হলো আল্লাহর কিতাব এবং অপরটি তাঁর রাসুলের সুন্নত' (মিশকাত)। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের পরিপূর্ণ অনুসরণ করার মাধ্যমে আদর্শ ও কল্যাণকর জাতি গঠন করা সম্ভব।
কুরআন বিশ্ববাসীর জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা, সুপথের নির্দেশনা ও রহমত স্বরূপ।
স্বকীয় উপস্থাপনা ও আলোচ্য বিষয়ের বৈচিত্রের কারণে কুরআন সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ। আল-কুরআন আল্লাহর কালাম। এর রচনাশৈলী ও বিষয়বিন্যাস স্বতন্ত্র। এর প্রকাশরীতি, ব্যঞ্জনা, অভিব্যক্তি ও আবেদন অনুপম। এর ভাষা অনন্য। এ গ্রন্থ বিষয়ভিত্তিক ধ্যান-ধারণায় রচিত নয়। স্বকীয় উপস্থাপনা ও বিষয়বৈচিত্র্যের কারণে কুরআন অনবদ্য। বিশিষ্টতা পেয়েছে। আল-কুরআন সর্বজনীন ও সর্বকালীন এক চিরন্তন সত্য মহাগ্রন্থ। এ গ্রন্থের সংশয়হীনতা ও অভ্রান্ত নির্দেশনা এতটাই সুনিশ্চিত ও অকাট্য যে, তা সব কালের ও সব দেশের মানুষের জন্য প্রযোজ্য। তাছাড়া পবিত্র কুরআনের ভাষাচয়ন লক্ষ করলে দেখা যায়, এটা সম্পূর্ণ পদ্য কিংবা পুরোপুরি গদ্য নয়। বরং এ দুয়ের সংমিশ্রণে নাজিল এক অভূতপূর্ব গ্রন্থ- যা এ গ্রন্থটির উচ্চ মর্যাদা প্রকাশ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!