সাংস্কৃতিক পরিবেশ মানুষের সৃষ্টি করা উপাদানসমূহ নিয়ে গঠিত।
পরিবার ছিল এক সময়ে ধর্মীয় শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সম্পর্কে পিতামাতা দাদা-দাদি ও অন্যান্য সদস্য বিভিন্নভাবে শিশুকে অবহিত করেন। ধর্মীয় অনুশাসন ও বিধিবিধান, নৈতিকতা আচার-আচরণ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর শিক্ষা শিশু পরিবার থেকে গ্রহণ করে। শিশুর ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার জন্য পিতামাতাকেই অধিক সচেতন হতে হয়। পারিবারিক মূল্যবোধ থেকেই শিশুর ধর্মীয় শিক্ষা বিকশিত হয়।
উদ্দীপকে লিমনের বাপ-চাচার পরিবারটি যৌথ পরিবার।
যখন দাদা-দাদি, পিতা-মাতার কর্তৃত্বাধীনে বিবাহিত পুত্রগণ ও তাদের সন্তানাদি এক সংসারে বাস করে তখন তাকে যৌথ পরিবার বলে। উদ্দীপকের লিমনের বাপ-চাচার পরিবারেও তেমনি লক্ষ করা যায়। অর্থাৎ, 'লিমনের বাপ-চাচার পরিবারটি যৌথ পরিবার। যৌথ পরিবার সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলে এখনও এ ধরনের পরিবার দেখা যায়। বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা ঐতিহ্যগতভাবে যৌথ পরিবারভিত্তিক। এ পরিবারে পিতা-মাতা, ভাই- বোন, সন্তানাদি, ভ্রাতৃবধূ কিংবা পুত্রবধূর সহাবস্থান দেখা যায়। অর্থাৎ পরিবারের কর্তা, বাবা-মা, একাধিক ভাই-বোন নিয়ে যৌথ পরিবার গঠিত হয়। এ ধরনের পরিবারে যিনি প্রধান কর্তা তার সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য সদস্য তার মতামতকেই প্রাধান্য দেয়।
উদ্দীপকে দৃশ্যপট-২-এ ইঙ্গিতকৃত সামাজিকীকরণের মাধ্যমটি হলো পরিবার যা সামাজিকীকরণের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
সবুজের আচার-আচরণে মুগ্ধ হয়ে তার বন্ধু বান্ধবসহ সকলে বলেন, যে, সে তার বাপ-দাদার মতোই হয়েছে। যা দ্বারা সামাজিকীকরণের পরিবার নামক মাধ্যমকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় শিশু ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত হয় তাকে সামাজিকীকরণ বলে। সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। আর পরিবারই সামাজিকীকরণের সব থেকে শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। শিশুর জন্মের আগে থেকেই পরিবারের মধ্যে সামাজিকীকরণের ক্ষেত্র প্রস্তুত হতে থাকে। যৌথ বা একক যে ধরনের পরিবারেই আমরা বড় হই না কেন পারিবারিক জীবনের মধ্যেই আমাদের শৈশব কাটে। পারিবারিক জীবনের ভালো দিক মন্দ দিক সবই আমাদের আচরণকে প্রভাবিত করে। আমরা সামাজিক নীতিবোধ, নাগরিক' চেতনা, সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি, ত্যাগ, ভালোবাসা প্রভৃতি আমরা পরিবার থেকেই অর্জন করি। বাবা-মায়ের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধ শিশুর ব্যক্তিত্বের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবার দাম্পত্য কলই শিশুদের মধ্যেও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে। পিতামাতার মধ্যে শিশুর জন্য অধিকতর কাছের হলেন মা। স্বভাবতই মায়ের থেকেই সামাজিকীকরণের সূত্রপাত ঘটে। মা শিশুর খাদ্যভ্যাস গঠন ও ভাষা শিক্ষার প্রথম মাধ্যম। মা-বাবার আচরণ মূল্যবোধ শিশুর সামাজিকীকরণে প্রভাব ফেলে। শিশুর আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব মা- বাধায় আত্মপ্রত্যয়ী ব্যক্তিত্বের ফল। তাই বলা যায়, এসব বিষয় শিশুর মানষিক বিকাশ ও ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য করে।
Related Question
View Allকর্তৃত্বের ভিত্তিতে পরিবার দু ধরনের।
পরিবার হলো অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্রস্থল। একসময় পরিবারের যাবতীয় প্রয়োজনীয় বস্তুগুলো গৃহে উৎপাদিত হলেও সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে পরিবারের অর্থনৈতিক কাজগুলো মিল, কারখানা, দোকান, বাজার, ব্যাংক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে। এখন পরিবারের সদস্যরা অর্থ উপার্জনের জন্য ঘরের বাইরে কাজ করে। আর তাই পরিবারকে আয়ের একক বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিদিতার আচরণে সামাজিকীকরণের জ্ঞাতিগোষ্ঠী ও প্রতিবেশীর প্রভাব লক্ষ করা যায়।
নিজ পরিবার ব্যতীত যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে তারাই আমাদের জ্ঞাতিগোষ্ঠী। আর যারা বাড়ির আশপাশে বসবাস করেন তারা হলো আমাদের প্রতিবেশী। শৈশব থেকেই মানুষ প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে বড় হতে থাকে। পরিবার ও জাতিগোষ্ঠীর পরেই প্রতিবেশীর অবস্থান। শিশুর জীবনের সুষ্ঠু বিকাশে প্রতিবেশীর ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাসা বা বাড়িগুলোতে সমবয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতিবেশী দল গড়ে ওঠে। আর এ দল থেকে তারা সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ঐক্য ও নেতৃত্ব ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে। প্রতিবেশীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান; যেমন- বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ, পূজা ইত্যাদিতে অংশ নিয়ে শিশুরা আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে। যার মধ্য দিয়ে তারা সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, সম্প্রীতি প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে। আবার কেউ অসুস্থ হলে নিকট আত্মীয়ের চেয়ে প্রতিবেশীরাই বেশি ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের রিপা বিদিতার প্রতিবেশী হলেও রিপা যখন তার আত্মীয়স্বজনসহ তাদের বাসায় আসে তখন বিদিতা সবাইকেই যত্নসহকারে আপ্যায়ন করে। অর্থাৎ রিপাদের আত্মীয়স্বজনকেও বিদিতা নিজের আত্মীয়স্বজনই মনে করে।
তাই বলা যায়, প্রতিবেশীরাই সুখ-দুঃখের প্রথম অংশীদার যা উদ্দীপকের বিদিতার আচরণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
'শহুরে জীবনে প্রতিবেশীরাই ঘনিষ্ঠজন'- আমি এ বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত নই।
আমরা বাস্তবে দেখি গ্রাম ও শহরভেদে প্রতিবেশীর সম্পর্ক ভিন্ন হয়। গ্রামীণ সমাজে প্রতিবেশীর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে থাকে। অর্থাৎ গ্রামীণ সমাজে প্রতিবেশীদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তেমন কোনো কৃত্রিমতা থাকে না। অপরদিকে শহরে প্রতিবেশীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ হয় না। এ সম্পর্কের ভিতর কেমন জানি একটা কৃত্রিমতা লুকিয়ে থাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে। তবে আনন্দ-উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শহর জীবনের প্রতিবেশীরা একে অন্যে অনেকটা আপন হয়ে যায়। অথচ সামাজিকীকরণে প্রতিবেশীর ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। শৈশব থেকেই আমরা প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে বড় হই। আমাদের পাশাপাশি বাড়িগুলোতে সমবয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতিবেশী দল গড়ে ওঠে। এ দল থেকে শিশু সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ঐক্য, নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে। প্রতিবেশীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান; যেমন- বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ, পূজা, বড়দিন প্রভৃতিতে অংশগ্রহণ করে শিশুরা আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে এবং সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, সম্প্রীতি ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে। আবার কেউ অসুস্থ হলে নিকট আত্মীয়ের চেয়ে প্রতিবেশীই বেশি ভূমিকা পালন করে। বস্তুত প্রতিবেশীরাই সুখ-দুঃখের প্রথম অংশীদার। কিন্তু শহুরে জীবনে এ অংশীদারিত্বে আন্তরিকতা ও স্বতঃস্ফূর্ততা গ্রামের চেয়ে অনেক কম।
তাই বলা যায়, শহরে জীবনে প্রতিবেশীর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ নয়।
বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট সংবাদ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির বিষয়বস্তু, বিশেষ ধ্যানধারণা, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশন করার মাধ্যমই হচ্ছে গণমাধ্যম ।
শিশুর জন্মের পর হতে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন ও খাপখাওয়ানোর প্রক্রিয়াই সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তি যখন এক পর্যায় হতে আরেক পর্যায়ে প্রবেশ করে তখন তাকে নতুন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হয়। এ খাপ-খাওয়ানো প্রক্রিয়ার ফলে তার আচরণে পরিবর্তন আসে। নতুন নিয়মকানুন, রীতিনীতি এবং নতুন পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলার প্রক্রিয়ার নাম সামাজিকীকরণ।
তাই বলা যায়, সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!