হাইডেলবার্গ মানব নিম্ন প্রাচীন প্রস্তর যুগে প্রতিনিধি।
উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা। খ্রিষ্টপূর্ব ৪ হাজার থেকে ২৫০০ অব্দ পর্যন্ত স্থায়িত্বকাল নিয়ে সিন্ধু সভ্যতার উন্মেষ ঘটে। মিসরীয়, ব্যাবিলনীয় ও আসিরীয় সভ্যতার সমসাময়িক এই সভ্যতা। এ উপমহাদেশের অন্যান্য সভ্যতা যেমন মহাস্থানগড়, ময়নামতি প্রভৃতির গোড়াপত্তন ঘটেছিল সিন্ধু সভ্যতার অনেক পরে। এজন্যই সিন্ধু সভ্যতাকে উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা বলা হয়।
দৃশ্যপট-১ এ শিক্ষক প্রাচীন প্রস্তর যুগ সম্পর্কে ছাত্রদের পড়াচ্ছিলেন।
প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষ সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তারা আমাদের আগুনের ব্যবহার ও পোশাক পরিধানের শিক্ষা দিয়েছে। প্রাচীন প্রস্তর যুগের প্রধান আবিষ্কার হলো আগুন ও তার ব্যবহার। তারা পাথরে পাথর ঘষে আগুন জ্বালাতে শেখে। এ আবিষ্কার মানব-সমাজ ও সভ্যতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। পোশাকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রাচীন প্রস্তুত যুগের প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ উলঙ্গ থাকত। এ যুগের শেষ পর্যায়ে তারা পশুর চামড়া দিয়ে শীত নিবারণের কৌশল আয়ত্ত করে। এ যুগের মানুষ খাদ্যের জন্য সম্পূর্ণ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। বন বনান্তর ঘুরে হাতি, জেব্রা, হরিণ, ঘোড়া, বন্যশূকর, ছোট পাখি, খরগোস, বনমোগর, হাঁস ইত্যাদি শিকার করে খেত। অর্থাৎ তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা ছিল সংগ্রহমূলক। দৃশ্যপট-১ এ শিক্ষক যে যুগ সম্পর্কে ছাত্রদের পড়াচ্ছিলেন সে যুগের মানুষও আমাদের আগুনের ব্যবহার ও পোশাক পরিধানের শিক্ষা দিয়েছে। এছাড়া তাদের উৎপাদন ব্যবস্থাও ছিল সংগ্রহমূলক, যা প্রাচীন প্রস্তর যুগের অনুরূপ। সুতরাং বলা যায়, দৃশ্যপট-১ এ শিক্ষক প্রাচীন প্রস্তর যুগ সম্পর্কে পড়াচ্ছিলেন।
বর্তমান সমাজ ও সভ্যতা বিকাশে দৃশ্যপট-২-এ শিক্ষকের পড়ানো নব্যপ্রস্তর যুগের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলে আমি মনে করি।
দৃশ্যপট-২-এ শিক্ষক যে যুগ সম্পর্কে পড়াচ্ছিলেন সে যুগের মানুষ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও উপকরণ নিজেরাই উৎপাদন করত। এছাড়া তাদের সামাজিক সংগঠনের ভিত্তি ছিল টোটেম বিশ্বাস, যা নব্যপ্রস্তর যুগের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষ সমাজ ও সভ্যতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ইতিহাস পাঠে জানা যায়, নব্যপ্রস্তর যুগেই কৃষির উদ্ভব ঘটে। আর কৃষির উদ্ভবের সাথে সাথে মানুষ স্থায়ীভাবে আবাস গড়ে তোলে। নব্যপ্রস্তর যুগেই টোটেম বিশ্বাস থেকে সামাজিক সংগঠনগুলো গড়ে ওঠে। এসব সংগঠন গোষ্ঠী জীবনে শৃঙ্খলা ও সংহতি রক্ষা করে। নব্যপ্রস্তর যুগে প্রতিটি গ্রাম বা সংগঠন ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ। জীবনধারণের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণ গ্রামের মানুষ নিজেরাই উৎপাদন করত। এ যুগের মানুষ উন্নত মানের হাতিয়ার তৈরিতে পারদর্শী ছিল। হাতিয়ার তৈরিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্যই এ যুগকে বলা হয় নব্যপ্রস্তর যুগ। নব্যপ্রস্তর যুগের গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার হলো মৃৎপাত্র। এ যুগের আরেকটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হলো চাকা। চাকা আবিষ্কারের ফলে সভ্যতায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়। উন্নয়ন শিল্পের বিকাশেও নব্যপ্রস্তর যুগের প্রভাব অপরিসীম। এ যুগেই সুতা তৈরির যন্ত্র, চরকা, তাঁত ইত্যাদি আবিষ্কৃত হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, নব্যপ্রস্তর যুগেই স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতির বিকাশ ঘটে। এছাড়া বিনিময় প্রথা, সম্পত্তিতে ব্যক্তি মালিকানা সৃষ্টি বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের উদ্ভব এ যুগেই হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, নব্যপ্রস্তর যুগেই ভাষার উদ্ভব ঘটে। তদুপরি শিল্পকলার ক্ষেত্রেও নব্যপ্রস্তর যুগের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বর্তমান সমাজ ও সভ্যতা বিকাশে নব্যপ্রস্তর যুগের অবদান ব্যাপক।
Related Question
View Allমহাস্থানগড় বৌদ্ধ ও হিন্দু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ।
বাংলাদেশের নগরায়ণ বৃদ্ধির হার দ্রুতগতিতে বেড়ে চলায় সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখা দিচ্ছে। দেশে নগরায়ণ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে নগর মানসিকতা সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। অর্থাৎ বস্তুজগতের উন্নতির সাথে তাল মিলিয়ে মনোজগতের উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখা দিচ্ছে।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার মহাস্থানগড় নামক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে শিক্ষা সফরে গিয়েছে।
মহাস্থানগড় প্রাচীন বাংলার সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন ও পুরাকীর্তির স্থান। বগুড়া শহর থেকে তেরো কিলোমিটার উত্তরে বর্তমান শিবগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর তীরে এটি অবস্থিত। এর প্রাচীন নাম পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ডনগর। এক সময় এটি ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী। মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এগুলোর ওপর ভিত্তি করে বাংলার সামাজিক ইতিহাস রচনা করা সম্ভব হয়েছে। মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো হলো- বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, পরশুরামের প্রসাদ, গোকুল মেধ, শীলাদেবীর ঘাট, মুনীর ঘোন ইত্যাদি। এছাড়াও মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত অন্যান্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলক, খেলনা, থালা-বাসন, জলপাত্র, রন্ধনপাত্র, সীলমোহর, ব্রোঞ্জের গহনা ইত্যাদি।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে শিক্ষাসফরে গিয়ে পোড়ামাটির ফলক, তামা ব্রোঞ্জের গহনা, পাথরের মূর্তি, সীলমোহর ইত্যাদি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে পায়। শিক্ষার্থীদের দেখা এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো বগুড়ার মহাস্থানগড়কে নির্দেশ করে, যা উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে শিক্ষাসফরে গিয়েছে।
উদ্দীপকের আসহাব সাহেবের বক্তব্যে সমকালীন সামাজিক ইতিহাস রচনা করার ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান বিষয়টির গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
সমাজবিজ্ঞানকে বলা হয় সমাজকাঠামোর বিজ্ঞান। আর সমাজকাঠামো হলো সমাজের সামগ্রিক ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞান যেহেতু সমাজকাঠামো তথা ব্যক্তি, গোষ্ঠী, বিভিন্ন অনুষ্ঠান- প্রতিষ্ঠান, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও কার্যাবলি, সমাজের অতীত ইতিহাস ইত্যাদি সম্পর্কে পঠন-পাঠন ও গবেষণা করে সেহেতু সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে সমাজ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও গভীর জ্ঞান অর্জন করা যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো এই সমাজকাঠামোরই উপাদান। এ উপাদানগুলোই সমাজ ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সামাজিক ইতিহাসের অংশ। আর সামাজিক ইতিহাস হলো একটি জাতি বা সম্প্রদায়ের অতীতের নির্দিষ্ট সময়ের সমাজব্যবস্থার পূর্ণ বিবরণ। আমরা জানি, ভবিষ্যৎ সমাজকে সুষ্ঠুভাবে গড়ে তুলতে হলে অতীতের মানব গোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, আইন-কানুন, রীতি-নীতি জানা দরকার। এক্ষেত্রে সামাজিক ইতিহাসের জ্ঞান খুবই জরুরি। আর সামাজিক ইতিহাস জানতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সামাজিক ইতিহাস নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করে। তাই বলা যায়, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্লেষণ করে সামাজিক ইতিহাস রচনা করতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই।
সাঁওতালরা রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, মৌলভীবাজার, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সিলেট, নওগাঁ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরে বাস করে।
মানুষের জীবনাচরণের সব দিক সংস্কৃতির আওতাভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক অর্থে সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করে। সংস্কৃতি হলো সমাজস্থ মানুষের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিচয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহনকারী একটি উপাদান। প্রকৃত অর্থে সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষের জীবনপ্রণালি। সংস্কৃতি একটি সমাজ বা জাতিকে পরিচালিত করে। সর্বোপরি বলা যায়, সংস্কৃতি একটি সমাজ বা জাতির পরিচয় বহন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!