প্রাচীন বাংলার জনবসতিপূর্ণ ও কৃষিনির্ভর ছোট ছোট অঞ্চলগুলোকে জনপদ বলে।
জলবায়ু জনগণের জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
জলবায়ু বা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের প্রভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা, আচার-আচরণে বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশে বিশাল সমভূমি আর প্রচুর নদ-নদী থাকায় এদেশে যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনের প্রধান মাধ্যম নদীপথ। জলবায়ুর তারতম্যের কারণেই গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষেরা সুতি ও পাতলা কাপড় পরিধান করে। আবার শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষেরা মোটা কাপড় পরিধান করে। এমনিভাবে খাদ্য তালিকা, ঘরবাড়ি সবকিছুই জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত।
শুভর যাদুঘরে দেখা মানচিত্রে নির্দেশিত জনপদটি হলো সমতট।
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে সমতটের অবস্থান। সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত বলা হতো সমতট। কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে বড় কামতা ছিল এর রাজধানী।
উদ্দীপকের শুভ যাদুঘরে গিয়ে মানচিত্রে একটি উল্লেখযোগ্য জনপদ দেখতে পায়, যেটি গঙ্গা-ভাগীরথী নদীর তীর থেকে মেঘনা নদীর মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত। শুভর দেখা এ জনপদটি পূর্বে আলোচিত সমতট জনপদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, মানচিত্রে শুভর দেখা জনপদটি সমতট জনপদ।
উদ্দীপকে শান্ত ও সোহাগের উল্লিখিত স্থানগুলোতে দেখা জনপদের মধ্যে সোহাগের দেখা জনপদ অর্থাৎ পুণ্ড জনপদটি প্রাচীন 'বাংলার নিদর্শনকে সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ করেছে বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে শান্ত সুন্দরবন থেকে পটুয়াখালীতে যায়। ধারণা করা হয় ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি 'বঙ্গ' জনপদের অন্তর্গত নাব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অপরদিকে, সোহাগ শিক্ষা সফরে বগুড়া যায়। বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়েছিল 'পুণ্ড্র' জনপদ।
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে পুণ্ড্র অন্যতম। পুণ্ড নামে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল। বগুড়া থেকে সাত মাইল দূরে মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পন্ডিতেরা ধারণা করে থাকেন। সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে অপরাপর জনপদ অপেক্ষা পুণ্ডই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। পাথরের চাকতিতে খোদাই করা বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি এখানে পাওয়া গেছে। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত পুণ্ড্রনগরের সাথে জল ও স্থলপথে বাংলার অন্যান্য অংশের বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং প্রাচীন যুগে এ জনপদটি ব্যবসা- বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত ছিল।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, পুণ্ড জনপদটি প্রাচীন বাংলার নিদর্শনকে সমৃদ্ধ করেছে।
Related Question
View Allপ্রাচীনকালে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলে বিভক্ত হওয়া বাংলার অঞ্চলগুলোর সমষ্টিকে জনপদ বলা হয়।
গৌড়রাজ শশাংকের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
সপ্তম শতকের চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং-এর ভ্রমণ বৃত্তান্ততে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। ১৯৬০- এর দশকে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত রাজবাড়িডাঙ্গার (পশ্চিম বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার যদুপুর গ্রাম) মঠের সাথে লো-তো-মি-ছি (রক্তমৃত্তিকা)-এর ফলে এখন যথার্থভাবেই বলা যায় যে, খননকৃত প্রত্নস্থলের নিকটে ছিল কর্ণসুবর্ণ। রাক্ষসীডাঙ্গার ধ্বংসস্তূপ খননে আনুমানিক সপ্তম শতকের বৌদ্ধ বিহারের ভিত্তিচিহ্ন পাওয়া গেছে, স্থানীয় ভাবে এটি রাজা কর্ণ-এর প্রাসাদ নামে পরিচিত। তবে নদীপ্রবাহ বা ভাঙ্গনের ফলে অনেক চিহ্ন এখন মুছে গেছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিদর্শনটি প্রাচীন সমতট জনপদে অবস্থিত।
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে ছিল সমতটের অবস্থান। এ অঞ্চলটি ছিল আর্দ্র নিম্নভূমি। কেউ কেউ মনে করেন, সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। আবার কেউ মনে করেন, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে সমতট গঠিত হয়েছিল। তবে সাত শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত বর্তমান ত্রিপুরা জেলা ছিল সমতটের অন্যতম অংশ।
উদ্দীপকে আমরা শালবন বিহারের চিত্র দেখি, যা কুমিল্লা শহর থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বা লালমাই-ময়নামতি পাহাড়শ্রেণির প্রায় মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। কুমিল্লা যেহেতু প্রাচীনকালে সমতট নামে পরিচিত ছিল তাই এই বিহারটি সমতট জনপদে অবস্থিত।
না, উক্ত জনপদ অর্থাৎ সমতট জনপদটি প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে উন্নত জনপদ ছিল বলে আমি মনে করি না। প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে উন্নত জনপদ ছিল পুণ্ড।
সমতট জনপদটি কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল। এ জনপদে দেব রাজবংশের রাজারা বিভিন্ন ধরনের স্থাপত্য, নির্মাণশৈলী, শিল্পকলা ইত্যাদিতে অবদান রেখেছেন। এছাড়াও এ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ময়নামতি অঞ্চল তখনকার সময়ে বৌদ্ধ সংস্কৃতির অন্যতম চর্চাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এর নিদর্শনস্বরূপ রয়েছে অনেকগুলো বৌদ্ধ বিহার। যেমন- আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার ইত্যাদি। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এ অঞ্চলে এসে তাদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছিলেন। তাছাড়া গঙ্গা- ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে মেঘনা নদীর মোহনা পর্যন্ত এ অঞ্চলের বিস্তৃতি বিধায় এ জনপদ নৌ-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে পুণ্ড অন্যতম। পুণ্ড নামে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল। পুণ্ডদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীতে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড় কয়েক শতাব্দীকাল পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন রাজবংশের প্রাদেশিক রাজধানী ছিল। বর্তমান বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা জুড়ে ছিল বিস্তৃত ছিল এ পুণ্ড জনপদ। বগুড়া থেকে সাত মাইল দূরে মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা ধারণা করে থাকেন। সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে অপরাপর জনপদ অপেক্ষা পুণ্ডই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। পাথরের চাকতিতে খোদাই করা বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি এখানে পাওয়া গেছে। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত পুন্ড্রনগরের সাথে জল ও স্থলপথে বাংলার অন্যান্য অংশের বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং প্রাচীন যুগে জনপদটি ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত ছিল। চীনের সঙ্গে মগধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলের ওপর পুণ্ড্রবর্ধনের উপস্থিতি এ গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দেয়। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এর বিবরণীও এ অঞ্চলের সমৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, সমতট নয় পুণ্ড ছিল বাংলার সবচেয়ে উন্নত জনপদ।
জনপদ হলো প্রাচীন ছোট ছোট খণ্ডরাজ্য যার প্রতিটি অঞ্চলের শাসক তার রাজ্যটিকে নিজের মতো করে শাসন করতেন। প্রাচীন যুগে বাংলা এখনকার বাংলাদেশের মতো কোনো একক ও অখণ্ড রাষ্ট্র বা রাজ্য ছিল না। বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। আর প্রতিটি অঞ্চলের শাসক যার যার মতো শাসন করতেন। বাংলার এ অঞ্চলগুলোকে এক-একটি জনপদ হিসেবে নাম দেওয়া হয়। ইতিহাসে বিখ্যাত বাংলার কয়েকটি প্রাচীন জনপদ হলো পুণ্ড, গৌড়, বঙ্গ, হরিকেল, সমতট ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!