দৃশ্যপট-১: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় যে জনৈক ব্যক্তি 'ক' কে তার অনুসারীরা সিজদা করছে।

দৃশ্যপট-২: জামান সাহেব তার সহকর্মীদের কাছ হতে কোনো কিছু ধার নিলে তা যথাসময়ে ফেরত দেন না। তার কাছে কোনো কিছু গচ্ছিত রাখলে তা যথাযথভাবে ফেরত দেন না।

Updated: 3 weeks ago
উত্তরঃ

ঈমান শব্দের অর্থ বিশ্বাস। ইসলামী পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর প্রতি এবং আখেরাত, ফেরেশতা, আসমানী কিতাব ও তাকদিরের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাকে ঈমান বলে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

তাকদিরে বিশ্বাস মানুষের জীবনে সুশৃঙ্খল ও উদ্দেশ্যমূলক করে তোলে। এটি মানুষকে ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ এবং দায়িত্বশীল হতে শেখায়, যা তার ইহকালীন ও পরকালীন জীবনকে সুন্দর করে তোলে।

তাকদিরে বিশ্বাস মানুষকে হতাশা ও দুশ্চিন্তামুক্ত রাখে। এর মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, তার জীবনে যা কিছু ঘটে, তা আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত বিধান অনুসারেই ঘটে। এই বিশ্বাস তাকে বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা রাখতে শেখায়, যা একজন মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

দৃশ্যপট-১ এ জনৈক ব্যক্তি 'ক' কে তার অনুসারীদের সিজদা করা মূলত আল্লাহর সাথে শিরক করার শামিল। সিজদা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য নির্ধারিত, যা তাঁর ইবাদতের সর্বোচ্চ রূপ। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদা করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি তাওহিদের পরিপন্থী, যা ইবাদতের মৌলিক শর্তকে লঙ্ঘন করে।

শিরকের কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী। শিরক আল্লাহ তাআলার সাথে কৃত সবচেয়ে বড় অবিচার এবং এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর একত্ববাদের মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হয়। এর ফলস্বরূপ, ব্যক্তি তার সব নেক আমল ধ্বংস করে ফেলে এবং আখিরাতে চিরস্থায়ী শাস্তির যোগ্য হয়। সামাজিক জীবনে শিরক মানুষের মধ্যে অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার ও বিভেদ সৃষ্টি করে, যা সুস্থ ও আলোকিত সমাজ গঠনের অন্তরায়।

দৃশ্যপট-১ এ জনৈক ব্যক্তি 'ক' এবং তার অনুসারীদের কর্মকাণ্ড ইসলামী মূল্যবোধের চরম অবমাননা ও নৈতিক অবক্ষয়ের দৃষ্টান্ত। 'ক' ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর আসনে বসানোর মতো গর্হিত কাজ করছেন এবং তার অনুসারীরাও অজ্ঞতাবশত অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে শিরকে লিপ্ত হচ্ছেন। এই কার্যকলাপ তাদের ঈমান ও আকিদাকে ধ্বংস করে দেয়, আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করে এবং ইহকালে লাঞ্ছনা ও পরকালে কঠিন শাস্তির কারণ হয়। এটি সমাজে ভণ্ডামি ও অনৈসলামিক সংস্কৃতির জন্ম দেয়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও ধর্মীয় আদর্শের পরিপন্থী।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

দৃশ্যপট-২ এ জামান সাহেবের কর্মকাণ্ডে আমানতের খিয়ানত (আমানত নষ্ট করা) এবং ঋণ পরিশোধে অবহেলা বা অনীহা নামক অনৈতিক বিষয়টি ফুটে উঠেছে। আমানত হলো মানুষের কাছে গচ্ছিত কোনো সম্পদ, গোপন কথা বা যেকোনো দায়িত্ব যা সঠিকভাবে পূরণ করার জন্য আমানতকারীর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা হয়। অনুরূপভাবে, ঋণ হলো অন্যের কাছ থেকে ধার নেওয়া অর্থ বা বস্তু যা নির্ধারিত সময়ে ফেরত দেওয়া অত্যাবশ্যক।

উদ্দীপকের জামান সাহেব তার সহকর্মীদের কাছ থেকে ধার নেওয়া জিনিস যথাসময়ে ফেরত দেন না এবং তার কাছে গচ্ছিত রাখা কোনো কিছু যথাযথভাবে ফেরত দিতেও ব্যর্থ হন। এটি সরাসরি আমানতের খিয়ানত এবং ঋণ পরিশোধে অবহেলার নামান্তর। ইসলামে আমানত রক্ষা করা এবং যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মহানবী (সা.) আমানত রক্ষা করাকে ঈমানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলেছেন এবং ঋণ পরিশোধ না করাকে ভয়াবহ পরিণতি বলে সতর্ক করেছেন।

সমাজজীবনে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের কুফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ভয়াবহ। প্রথমত, এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক বিনষ্ট করে। যখন একজন ব্যক্তি জানে যে তার ধার দেওয়া জিনিস বা গচ্ছিত রাখা সম্পদ ফেরত পাওয়া যাবে না, তখন সে অন্যের সাথে লেনদেনে সন্দিহান হয়ে ওঠে। এর ফলে সমাজে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা হ্রাস পায়, যা সামাজিক বন্ধনকে দুর্বল করে। দ্বিতীয়ত, এটি সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত সৃষ্টি করে। আমানত নষ্ট হলে বা ঋণ পরিশোধ না হলে মানুষের মধ্যে তিক্ততা, ঝগড়া-বিবাদ এমনকি মামলা-মোকাদ্দমা পর্যন্ত হতে পারে। তৃতীয়ত, এমন ব্যক্তির প্রতি সমাজের মানুষের শ্রদ্ধা ও সম্মান কমে যায়, সে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়।

সুতরাং, জামান সাহেবের মতো ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড সমাজ থেকে নৈতিক মূল্যবোধকে মুছে ফেলে এবং একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে। আমানতের খিয়ানত ও ঋণ পরিশোধে অবহেলা একটি জাতিকে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দেয়, যা জাতীয় উন্নয়ন ও প্রগতিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। ইসলাম আমানতের পূর্ণতা এবং ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
16

Related Question

View All
উত্তরঃ

কুফর শব্দের আভিধানিক অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি । ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিরও প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলা হয় ।

5.3k
উত্তরঃ

আখিরাত জান্নাত ও জাহান্নাম বিশ্বাস না থাকায় কাফির ব্যক্তি অনৈতিকতার  গুরুত্ব উপলব্ধি  করতে পারে না এবং দুনিয়ার স্বার্থে  মিথ্যাচার, অনাচার, ব্যভিচার, দুর্নীতি ইত্যাদি যে কোন পাপ ও অনৈতিক কাজ বিনা দ্বিধায় করতে পারে। নবী -রাসুলগণকে বিশ্বাস না করায় তাদের নৈতিক চরিত্র এবং শিক্ষা ও অনুসরণ  করে না এভাবে কুফরের  মাধ্যমে সমাজে অনৈতিকতার প্রসার ঘটে। 

Emo Akter
Emo Akter
1 year ago
2.9k
উত্তরঃ

আকাম সাহেবের কর্মকাণ্ড শিরকের অন্তর্ভুক্ত।

ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের পরিপন্থী কাজকে শিরক বলা হয়। মহান আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি, ইবাদত ও ক্ষমতার অংশীদার স্থাপন করাই হলো শিরক। এটি ইসলামে সবচেয়ে বড় ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য। শিরকের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর প্রতি তার আনুগত্য ও বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়।

উদ্দীপকে আকাম সাহেব ইচ্ছাকৃতভাবে অমুসলমানদের অনুকরণ করেন এবং তাদের ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহার করেন, যা স্পষ্টতই শিরকের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে মুসলমানদের জন্য অন্য ধর্মের ধর্মীয় রীতি-নীতি বা প্রতীক অনুকরণের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আকামের এই ধরনের কাজ আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি অনাস্থা এবং অন্য ধর্মের প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের শামিল, যা শিরকের অন্যতম উদাহরণ।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
1.9k
উত্তরঃ

ইসলামে তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ হলো মৌলিক বিশ্বাস। এই বিশ্বাসে সামান্যতম বিচ্যুতিও শিরক, যা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ এবং এর পরিণতি ভয়াবহ। উদ্দীপকের মাহমুদ সাহেবের বিশ্বাসগুলো এই মৌলিক তাওহিদের পরিপন্থী এবং ইসলামে এর কঠিন পরিণতি রয়েছে।

উদ্দীপকে মাহমুদ সাহেব আল্লাহ তায়ালার পাশাপাশি বিত্তবানদেরকে রিযিকদাতা মনে করেন। এটি তাওহিদের পরিপন্থী একটি বিশ্বাস। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, "পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর উপর নেই।" (সূরা হুদ: ৬)। রিযিকদাতা একমাত্র আল্লাহ। বিত্তবানরা শুধু আল্লাহ প্রদত্ত রিযিকের মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু তারা নিজেরা রিযিকদাতা নন। এই বিশ্বাস শিরকে আকবর বা বড় শিরকের শামিল, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত করার শামিল। দ্বিতীয়ত, তিনি ফেরেস্তাদের জগৎ পরিচালনাকারী হিসেবে মনে করেন। ফেরেস্তাগণ আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী দাস। তারা আল্লাহর নির্দেশে বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করেন, কিন্তু তারা নিজেদের ইচ্ছায় জগতের কোনো কিছুর পরিচালক নন। জগৎ পরিচালনাকারী একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, "আল্লাহই নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলকে ধারণ করে রাখেন, যাতে তারা স্থানচ্যুত না হয়।" (সূরা ফাতির: ৪১)। ফেরেস্তাদেরকে জগৎ পরিচালনাকারী মনে করা তাওহিদের সাথে সাংঘর্ষিক।

মাহমুদ সাহেবের এই ধরনের বিশ্বাসগুলো ইসলামের মৌলিক আকীদা বা বিশ্বাসের পরিপন্থী এবং শিরকের অন্তর্ভুক্ত। শিরক এমন একটি পাপ যা আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করেন না, যদি শিরকের উপর মৃত্যু হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না, তবে এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন।" (সূরা নিসা: ৪৮)। কুরআন ও হাদিসের ভাষ্যমতে, শিরককারী জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে এবং তার জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নামের শাস্তি অবধারিত। এই বিশ্বাস একজন ব্যক্তিকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দিতে পারে, যদি সে তা থেকে তাওবা না করে।

সুতরাং, মাহমুদ সাহেবের বিশ্বাসের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এটি তার ইহকাল ও পরকালের মুক্তির জন্য চরম অন্তরায়। প্রতিটি মুসলমানের উচিত, কুরআন ও হাদিসের আলোকে সঠিক আকীদা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং সকল প্রকার শিরক থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করা, যাতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ জীবনযাপন করা যায়।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
1.7k
উত্তরঃ

ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাণী মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলা হয় আর যিনি এ দায়িত্ব পালন করেন তাঁকে বলা হয় রাসুল। রাসুল শব্দের বহুবচন রুসুল।

1.7k
উত্তরঃ

'খতমে নবুয়ত' এর অর্থ হল নবুওয়াতের সমাপ্তি বা শেষ হওয়া। ইসলামে বিশ্বাস করা হয় যে, হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন সর্বশেষ নবী। এর মাধ্যমে খতমে নবুয়ত বলতে বোঝানো হয় যে, কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নতুন নবী বা রাসুল আসবেন না। আল্লাহ তায়ালা তাঁর কালাম (কুরআন) হযরত মুহাম্মদ (স.) এর মাধ্যমে পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে নবুওয়াতের শৃঙ্খলা শেষ হয়ে গেছে।

Md Nafi
Md Nafi
1 year ago
1.1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews