অধ্যাপক মার্শালের মতে অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন।
অর্থনৈতিক কার্যক্রম সংগঠিত করার জন্য বাজার একটি উত্তম পন্থা কারণ বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সকল কাজকর্ম সংগঠিত হয়ে থাকে।
ফার্ম ও পরিবারসমূহের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফলেই কোনো দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয়। ফার্মের মালিকরা বাজারের চাহিদা দেখে দ্রব্য সরবরাহ করে এবং অসংখ্য পরিবার তাদের আয় ও প্রয়োজন অনুসারে এ সব দ্রব্য ও সেবাসামগ্রী ক্রয় করে।
দৃশ্যপট-১, পঠিত বইয়ের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক লিয়নেল রবিন্স- এর অর্থনীতির সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অধ্যাপক এল. রবিন্স অর্থনীতির সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তার মতে, অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা মানুষের অসীম অভাব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য দুষ্প্রাপ্য উপকরণসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনকারী কার্যাবলি আলোচনা করে। এ সংজ্ঞায় কতিপয় বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। যেমন- প্রথমত, মানুষের অভাব অসীম এবং অভাবের প্রকৃতি ও পরিমাণ বিভিন্ন রকমের। দ্বিতীয়ত, অভাব পূরণকারী সম্পদ ও সময় খুবই সীমিত। তৃতীয়ত, অসীম অভাবকে কীভাবে সীমিত সম্পদ দ্বারা পূরণ করা যায় তা অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। চতুর্থত, অভাবের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তা পূরণ করতে হয়। উদ্দীপকের সালাম একজন কৃষক। চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কম থাকায় তিনি অন্যের জমিতে কাজ করেন। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি। এজন্য পরিবারে বিভিন্ন দ্রব্য বা সেবার অভাব লেগেই থাকে। অল্প উর্পাজন দিয়ে তিনি পরিবারের সব অভাব পূরণ করতে পারেন না। তাই তিনি অধিক প্রয়োজনীয় অভাবগুলো আগে পূরণ করেন। সালামের দৈনন্দিন জীবনের কার্যকলাপের সাথে অধ্যাপক এল, রবিন্সের সংজ্ঞার মিল পাওয়া যায়। অধ্যাপক এল, রবিন্সের সংজ্ঞায়ও গুরুত্ব অনুসারে অভাব পূরণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
দৃশ্যপট-২ বিশ্লেষণ করে সেটির আলোকে অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শালের অর্থনীতির সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতা আলোচনা করা হলো-
মার্শালের সংজ্ঞানুসারে, "অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।" অর্থাৎ অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন। অধ্যাপক মার্শালের এই সংজ্ঞার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার মতে, কেবল মানুষের সে সকল কাজই অর্থনীতির অন্তর্ভুক্ত যে সকল কাজ মানবকল্যাণের সাথে সম্পর্কযুক্ত, কিন্তু বাস্তবে এমন অনেক কাজ আছে যা মানুষের কোনো রকম কল্যাণ সাধন করে না অথচ সে সকল কাজও অর্থনীতির আওতাভুক্ত। আবার তিনি মানুষের কল্যাণকে অর্থের দ্বারা পরিমাপ করেছেন। বাস্তবক্ষেত্রে অর্থের মানদণ্ডে মানবকল্যাণ পরিমাপ করার কোনো উপায় নেই। তাছাড়া মার্শাল শুধু মানুষের কল্যাণ সাধন করা নিয়েই আলোচনা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে সম্পদের স্বল্পতার সমস্যাই অর্থনীতির মূল সমস্যা। মার্শালের সংজ্ঞায় মানুষের এ মৌলিক সমস্যাটি বিবেচনা করা হয়নি। তবে সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও অধ্যাপক মার্শালের সংজ্ঞার গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। এ সংজ্ঞায় অর্থনীতিকে মানব আচরণ পর্যালোচনার বিজ্ঞান হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয়েছে। উদ্দীপকের তারেক সাহেব একজন শিল্পপতি। তিনি মনে করেন, পরিবারের সবার সুখের জন্যই তার সকল অর্থ-সম্পদ। অর্থাৎ তারেক সাহেবের কাছে তার সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মধ্যে পরিবারের কল্যাণই মুখ্য যা কি না অধ্যাপক মার্শালের অর্থনীতির সংজ্ঞার অনুরূপ।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, অর্থনীতি কেবল কল্যাণকর কাজকেই সমর্থন করে না, বরং অর্থনীতি হলো একটি নিরপেক্ষ বিজ্ঞান, কোনো নীতিগাস্ত্র নয়।
Related Question
View Allভূমিবাদীদের (Physiocracy) মতে, কৃষিই (খনি ও মৎস্য ক্ষেত্রসহ) হলো অন্যতম বা প্রধান উৎপাদনশীল খাত।
দুষ্প্রাপ্যতা বলতে অসীম অভাবের তুলনায় সম্পদের সীমাবদ্ধতাকে বোঝায়।
মানুষ তার অভাব পূরণ করার জন্য যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ভোগ করতে চায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। অর্থাৎ মানবজীবনের অসংখ্য অভাবের তুলনায় উৎপাদনের উপকরণ তথা প্রাপ্ত সম্পদের স্বল্পতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে। উদাহরণ- সাকিবের কাছে এক হাজার টাকা আছে। তার শার্ট, প্যান্ট এবং ভালো জুতা দরকার। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তার টাকার পরিমাণ কম। এটি সম্পদের 'দুষ্প্রাপ্যতাকে' নির্দেশ করছে।
সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত। সেখানে প্রায় সব শিল্প- কারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি বা সামাজিক নির্দেশে পরিচালিত হয়ে থাকে। তাছাড়া সমাজতন্ত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত দামে দ্রব্যাদি ভোগ করে থাকে। কোনো ভোক্তা চাইলেই নিজের খুশিমতো অর্থ ব্যয় করে কোনো কিছু ভোগ করতে পারে না। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা নেই বললেই চলে, কারণ সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য পরিচালিত হয়। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে জমি, কলকারখানা ও খনি প্রভৃতি প্রায় সকল কিছুর মালিকানা থাকে সরকার বা রাষ্ট্রের হাতে। সেখানে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও বণ্টন প্রক্রিয়া (কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে, কীভাবে এবং কাদের জন্য উৎপাদিত হবে) সম্পর্কে মৌলিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার কিছু পার্থক্য রয়েছে।
যে অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের। ওপর রাষ্ট্রীয় বা সরকারি মালিকানা থাকে তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। পক্ষান্তরে, যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলা হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তার স্বাধীনতা থাকে না। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ভোক্তা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। কারণ সেখানে দাম-সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব কেন্দ্রের হাতে ন্যস্ত। সেখানে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় চাহিদা- যোগানের স্বয়ংক্রিয় ঘাত-প্রতিঘাতের দ্বারা দাম নির্ধারিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোন কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে ও কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কীভাবে বণ্টন করা হবে- এসব পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা নির্ধারিত হয়। তাই সেখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়, তাই সেখানে ধনতন্ত্রের মতো সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা ও মুনাফা অর্জনের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। সেই সাথে বেসরকারি পর্যায়ে - অর্থনৈতিক কার্যাবলির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকে।
কাজেই বলা যায়, সুমির দেশের অর্থব্যবস্থা তথা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার অনেক পার্থক্য রয়েছে।
ইংল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো- "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে।"
অর্থনীতির ভাষায় শ্রমিকদেরকে কাজে উৎসাহিত করার জন্য গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থাই হলো প্রণোদনা।
অর্থনীতিতে উৎসাহ বা প্রণোদনা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষ প্রণোদনা পায় বলেই যে কোনো কাজ যত্নের সাথে সম্পন্ন করে। কাজের স্থায়িত্ব, শ্রমিকদেরকে লভ্যাংশ প্রদান, বিনামূল্যে পোশাক, চিকিৎসা, বাসস্থান, বেতনসহ ছুটি, বৃদ্ধ বয়সে পেনশন, কাজের ঝুঁকি হ্রাস ইত্যাদি প্রণোদনার কৌশল ব্যবহার করে শ্রমিকদেরকে অধিক উৎপাদনে উৎসাহিত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!