গুপ্ত রাজাদের অধীনে বড় কোনো অঞ্চলের শাসকদের বলা হতো 'মহাসামন্ত'।
শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলার রাজনীতিতে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। ইতিহাসে এটি 'মাৎস্যন্যায়' হিসেবে পরিচিত।
শশাংকের মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিলেন না। এ সময় ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠেন। ফলে বাংলায় এক বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ অরাজকতা, বিশৃঙ্খলার যুগ চলে একশ বছরব্যাপী। তার মৃত্যুর পরে এ সময়টুকুতে বাংলার ইতিহাসে এক অন্ধকার যুগের সূচনা হয়।
দৃশ্য-১-এর সত্যজিৎ রায়ের কর্মকাণ্ডের সাথে রাজা লক্ষণ সেনের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।
রাজা বল্লাল সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র লক্ষণ সেন সিংহাসনে বসেন। তিনি গৌড়, কলিঙ্গ, কাশী, প্রাগ-জ্যোতিষ, মগধ প্রভৃতি অঞ্চল নিজের সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। লক্ষণ সেন নিজে সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ 'অদ্ভুতসাগর' তিনি সমাপ্ত করেন। লক্ষণ সেনের রচিত কয়েকটি শ্লোকও পাওয়া গেছে। তার রাজসভায় বহু পণ্ডিত ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের সমাবেশ ঘটেছিল। তিনি শাস্ত্র ও ধর্ম চর্চায় পিতার উপযুক্ত পুত্র ছিলেন।
উদ্দীপকের দৃশ্য-১-এ দেখা যায়, প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায় তার 'আবোল তাবোল' রচনাটি অসমাপ্ত রেখেই মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীকালে তার সুযোগ্য পুত্র সত্যজিৎ রায় গ্রন্থটি সমাপ্ত করেন। সত্যজিৎ রায় নিজেও একজন সুসাহিত্যিক ছিলেন। তার এ কর্মকান্ড উপরে আলোচিত লক্ষণ সেনের কর্মকাণ্ডের অনুরূপ। তাই বলা যায়, দৃশ্য-১-এর সত্যজিৎ রায়ের কর্মকাণ্ডের সাথে রাজা লক্ষণ সেনের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।
দৃশ্য-২-এ উল্লেখিত সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য রক্ষায় রবিন বিশ্বাসের ধর্মনীতি রাজা ধর্মপালের ধর্মনীতির অনুরূপ।
পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন ধর্মপাল। তিনি একজন সুদক্ষ শাসক ছিলেন। সমগ্র বাংলা ও বিহারব্যাপী তার শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। ধর্মপাল ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। তিনি তার সাম্রাজ্যে বিক্রমশীল বিহার, সোমপুর বিহারসহ প্রায় ৫০টি বৌদ্ধধর্ম শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ধর্মপাল নিজে বৌদ্ধ হলেও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর প্রতি তার কোনো বিদ্বেষ ছিল না। প্রতিটি ধর্মের লোক যেন নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে সেদিকে তিনি লক্ষ রাখতেন। একটি হিন্দু মন্দিরের জন্য তিনি করমুক্ত জমি দান করেছিলেন। এছাড়া তিনি যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজকার্যে লোক নিয়োগ দিতেন। গর্গ নামক এক ব্রাহ্মণ যোগ্যতাবলেই ধর্মপালের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।
উদ্দীপকে দৃশ্য-২-এ দেখা যায়, রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিন বিশ্বাস নিজ ধর্ম শিক্ষার জন্যে অনেক শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজ ধর্মের পাশাপাশি অন্য ধর্মের লোক যেন তাদের ধর্ম ঠিকমত পালন করতে পারে সেদিকে লক্ষ রাখতেন। যেমনটি রাজা ধর্মপালের ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়।
উপরের তুলনামূলক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, দৃশ্য-২-এ উল্লেখিত সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য রক্ষায় রবিন বিশ্বাস পাল রাজা ধর্মপালের ধর্মনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
Related Question
View Allখড়গ বংশের রাজধানীর নাম ছিল কর্মান্ত-বাসক।
সেনরা ব্রাহ্মণ থেকে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হওয়ায় তাদের ব্রহ্মক্ষত্রিয় বলা হয়। সেন বংশের লোকেরা প্রথমে ব্রাহ্মণ ছিল। কিন্তু কালক্রমে তারা পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় পেশা গ্রহণ করেন। ফলে কোনো কোনো ঐতিহাসিক তাদেরকে 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' বলেছেন।
উদ্দীপকে নবীনগরের শাসক অজয়ের কর্মকাণ্ডের সাথে সেন শাসক বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
বিজয় সেনের পূর্বপুরুষদের আদি বাসস্থান ছিল সুদূর দক্ষিণাত্যের কর্ণাট। সেখান থেকে তারা বসতি স্থাপন করেন রায় অঞ্চলের গঙ্গা নদীর তীরে। বরেন্দ্র উদ্ধারে রামপালকে সাহায্য করার বিনিময়ে বিজয় সেন স্বাধীনতার স্বীকৃতি পান। এরপর তিনি তার সামরিক কৃতিত্ব দ্বারা রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন এবং হুগলির ত্রিবেণীতে অবস্থিত বিজয়পুরে প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। ধর্মের দিক থেকে বিজয় সেন ছিলেন শৈব। অন্য ধর্মের প্রতি তার কোনো সহিষ্ণুতা ছিল না।
উদ্দীপকের অজয় তার পরিবারের-সাথে পুরোনো বাসস্থান ছেড়ে নবীনগরে নতুনভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার লোকজন ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হন। এ বিষয়গুলো বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিজয় সেনের বংশধরেরা শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন বলে আমি মনে করি।
বিজয় সেন বৈদিক ধর্মের প্রতি বেশ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। পরবর্তীতে তার পুত্র বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি তার যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। তার একটি বিরাট গ্রন্থালয় ছিল। তিনি 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি হিন্দুসমাজকে গঠন করার উদ্দেশ্যে- 'কৌলীন্য প্রথা' প্রবর্তন করেছিলেন। এর ফলে সামাজিক আচার-ব্যবহার, বিবাহ অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয়ে কুলীন শ্রেণির লোকদিগকে কতকগুলো বিশেষ রীতিনীতি মেনে চলতে হতো। আর তার পুত্র লক্ষণ সেনও একজন সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ 'অদ্ভুতসাগর' তিনিই সমাপ্ত করেন। ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গোবর্ধন, উমাপতিধর প্রভৃতি প্রসিদ্ধ কবিগণ তার রাজসভা অলঙ্কৃত করতেন। ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ুধ তার প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মীয় প্রধান ছিলেন।
তাই বলা যায়, বিজয় সেনের বংশধরেরা যথার্থই শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে অবদান রেখেছেন।
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন গোপাল।
শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে যে দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকারময় যুগের শুরু হয়েছিল তা মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত। এ সময় বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো কেউ ছিলেন না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে। এ সময়কালকে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'মাৎস্যন্যায়' বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!