আইনগত কাঠামো আদেশ হলো ইয়াহিয়া খান ঘোষিত একটি নির্বাচন প্রক্রিয়া, যেখানে সার্বভৌম পার্লামেন্টের বদলে একটি দুর্বল পার্লামেন্টের রূপরেখা দেওয়া হয়।
জাতিকে মেধাশূন্য ও আন্দোলন স্তিমিত করতেই অপারেশন সার্চলাইটের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো।
বাঙালি জাতির ইতিহাসে সকল আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্র সমাজ। মেধাবী ও সাহসী নেতৃত্বও তৈরি হয় ছাত্রদের মধ্য থেকে। যে কারণে পরিকল্পিতভাবে তারা জাতিকে মেধাশূন্য ও আন্দোলন দমাতে আবাসিক হলগুলোতে আক্রমণ চালায়।
উদ্দীপকে বাশার আহমেদের ভূমিকা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের অবদানকে মনে করিয়ে দেয়।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠন, দেশ ও ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রবাসী বাঙালিরা অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। তারা মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য- সহযোগিতা করেছেন। বিভিন্ন দেশে তারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ে পার্লামেন্ট সদস্যদের নিকট ছুটে গিয়েছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেছেন, পাকিস্তানকে অস্ত্র-গোলাবারুদ সরঘরাহ না করতে আবেদন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে তারা কাজ করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ চালালে তার প্রতিবাদে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন বাশার আহমেদ। তিনি যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছিলেন নৃশংসতা বন্ধের জন্য পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে। বাশার আহমেদের অনুরূপ ভূমিকা দেখা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের ক্ষেত্রে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বাশার আহমেদের ভূমিকা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
হ্যাঁ, আমি মনে করি কবি শামসুর রাহমানের অবদান আমাদের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছে।
কবি শামসুর রাহমান আধুনিক বাংলা সাহিত্যের এক অনন্যসাধারণ নাম। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে কোলকাতার বিখ্যাত দেশ পত্রিকায় লিখতেন। তার রচিত কবিতা বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বিশেষ করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জাতিকে উজ্জীবিত করেছে। তার রচিত বন্দী শিবির থেকে, স্বাধীনতা তুমি, তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা ইত্যাদি কবিতাগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করেছে। তার রচিত 'তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা আর কতকাল ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়' মুক্তিযুদ্ধে কবির উদ্দীপ্ত উচ্চারণে স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে সাহস সঞ্চারিত করেছিল। তার যুদ্ধকালীন লেখা কাব্যগ্রন্থ 'বন্দী শিবির থেকে' এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও একাত্মতা, নিজের বন্দীত্বের বেদনা ও মুক্তির স্বপ্ন এ কবিতাগুচ্ছকে দিয়েছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য কাব্যের গৌরব। এছাড়াও কবি মুক্তিযুদ্ধপূর্বে ১৯৬৮ সালের দিকে পাকিস্তানের সব ভাষার জন্য অভিন্ন রোমান হরফ চালুর প্রতিবাদে রচনা করেন 'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা'। ১৯৬৯ সালে রচনা করেন 'আসাদের শার্ট' কবিতা। এসব রচনাগুলোও বাঙালির মনে সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল।
পরিশেষে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে নিঃসন্দেহে কবি শামসুর রহমানের রচনা অপরিসীম ভূমিকা রেখেছে। তার মতো লেখকদের লেখনীতে উজ্জীবিত হয়েই বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
Related Question
View Allমুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ ও স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনতার ওপর হামলা করে। তারা এ দেশের নিরীহ জনগণের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের এ অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চ লাইট'।
উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিঙ্কনের চরিত্র ও কর্মকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার চরিত্রে দয়া, সরলতা, উপস্থিত বুদ্ধি ও বাগ্মিতার সন্নিবেশ ঘটেছিল। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি বাংলার মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। এছাড়াও পশ্চিম পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাত থেকে তিনি নিরীহ বাঙালিদের রক্ষা করেন। বীর বাঙালি তার নেতৃত্বে অস্ত্রধারণ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, আব্রাহাম লিঙ্কন ছিলেন দয়া, সরলতা, বাগ্মিতা ও মিষ্টি ব্যবহারের অধিকারী। রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি অনন্য প্রতিভার সাক্ষর রেখে গেছেন। তার এ বিষয়গুলোর সাথে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্র এবং কর্মকাণ্ডের মিল দেখতে পাই।
উদ্দীপকের আব্রাহাম লিংকনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তার বলিষ্ঠ ও আপোসহীন নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
এছাড়া তিনি ১৯৬৬ সালের ছয়দফাভিত্তিক আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন বিজয় এবং ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা অর্জনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর প্রথম প্রহরে তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করে।
পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক এবং তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
'শিখা চিরন্তন' ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত।
১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটা একত্রিশ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান লে জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!