কৃষিকাজে পারদর্শিতা অপেক্ষা M.R.A.C. পাশ করা সহজ।
'পাশ বিক্রয় করা' বলতে লেখিকা সশরীরে পরিশ্রম না করে বিয়ের মাধ্যমে শ্বশুরের সম্পদ হস্তগত করাকে নির্দেশ করেছেন।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি নারী-পুরুষের প্রাত্যহিক জীবনাচরণের বিভিন্ন দিক হাস্যরসাত্মকভাবে বর্ণনা করেছেন। প্রসঙ্গক্রমে তিনি 'পাশ বিক্রয় করা' কথাটি বলে বাঙালি পুরুষের অলস চরিত্রের অন্য একটি দিক তুলে ধরেছেন। এই পাশ বিক্রেতার নাম 'বর' এবং ক্রেতাকে 'শ্বশুর' বলে। পাশের মূল্য অর্ধেক রাজত্ব ও এক রাজকুমারী। এমএ পাশ অমূল্যরত্ন। নিতান্ত সস্তা দরে বিক্রয় করা হলে এর মূল্য এক রাজকুমারী এবং সমুদয় রাজত্ব। এই 'পাশ বিক্রয় করা' বিষয়টিকে লেখিকা বাঙালির অন্যতম ব্যাবসা বলে উল্লেখ করেছেন।
উদ্দীপকে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির অলস-আরামপ্রিয় স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
বাঙালির মেধা, জ্ঞানের অভাব নেই। তবে সেই মেধা ও বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করার মানসিকতার অভাব রয়েছে। তারা মুখে যা বলে তা কাজে প্রয়োগ করে না। তারা অলস, আরামপ্রিয় ও কর্মবিমুখ। তাই সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল আলস্যের কারণে বাঙালি জাতি আজ পৃথিবীর অন্যান্য জাতি থেকে পিছিয়ে আছে।
উদ্দীপকে বাঙালির কর্মবিমুখতার কথা বলা হয়েছে। বাঙালি আরামপ্রিয় ঘরকুনো স্বভাবের। কাজ না করে আরামে, অলস বসে থাকতে চাওয়ার মানসিকতা বাঙালিকে পেছনে ফেলে রেখেছে। এই বিষয় সম্পর্কে তারা সচেতন নয়। মুখে মধুর বাণী আছে তাদের, শুধু অন্তরে কর্মের স্পৃহা নেই। বাঙালির এই স্বভাব-বৈশিষ্ট্য 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকার আলোচনায়ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেখানে বাঙালির অলস-কর্মবিমুখ স্বভাব-বৈশিষ্ট্য কটাক্ষ করে লেখিকা তাদের আত্মসচেতন করে তুলতে চেয়েছেন। বাঙালি একদিকে শ্রমবিমুখ, অন্যদিকে আড্ডাপ্রিয়। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে তারা সংগ্রামকে ভয় পায়। সমস্যা-সংকট এড়িয়ে চলতে গিয়ে আরও বিপদ ডেকে আনে। এভাবেই উদ্দীপকে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির এই অলস-কর্মবিমুখ স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের উক্ত দিক তথা বাঙালির অলস-আরামপ্রিয় স্বভাব-বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে বাঙালি আত্মনির্ভরশীল ও কর্মঠ জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।
বাঙালির কর্মবিমুখতাই জাতীয় উন্নতির অন্তরায়। ফলে এ জাতি যতদিন পর্যন্ত আলস্য ত্যগ করে কঠোর পরিশ্রমী হতে না পারবে ততদিন ভাগ্যের উন্নতি ঘটবে না। তাই আলস্য পরিহার করে পরিশ্রমী হলে এ জাতি হয়ে উঠতে পারে আত্মনির্ভরশীল ও সফল।
উদ্দীপকে বাঙালি সন্তানদের নেতিবাচক স্বভাব-বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। যারা মিষ্টি ভাষায় কথা বলে, তাদের ভাব শিষ্ট, তবে কাজের বেলায় তারা খুবই অলস। কাজ না করে গৃহে ফিরে যাওয়ার টানই তাদের বেশি। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির এসব বৈশিষ্ট্য হাস্যরসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরেছেন। এগুলোর মাধ্যমে মূলত লেখিকা বাঙালি জাতিকে সঠিক পথে চলার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বাঙালি জাতিকে আত্মসচেতন করার জন্য তাদেরকে কঠোর পরিশ্রমী হতে বলেছেন।
উদ্দীপকে বাঙালির আলস্য-আরামপ্রিয় স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাঙালি কীভাবে ক্লান্ত দেহকে টেনে আরামের জন্য গৃহকোণে নিয়ে যায় তা প্রকাশ পেয়েছে। এই অলসদের দিয়ে যে জাতীয় উন্নতি সম্ভব নয় তা 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা ব্যাখ্যা করেছেন। এসব দিক পরিবর্তনের জন্য বাঙালিকে আত্মসচেতন করে তুলতে হবে। তাদেরকে অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের সুপ্ত শক্তি জাগ্রত করতে হবে।
তাদেরকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে জনকল্যাণ সাধনে আগ্রহী করে তুলতে হবে। প্রবন্ধে ব্যঙ্গাত্মক ডায়ার মাধ্যমে লেখিকা বাঙালি পুরুষ ও নারীকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন।
Related Question
View Allশেমিজ জ্যাকেট জাতীয় পোশাককে ইংরেজ ললনাদের নির্লজ্জ পরিচ্ছদ বলা হয়েছে।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালিকে 'মূর্তিমান কাব্য' বলেছেন তাদের আলস্য বা অলসতার জন্য।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির জীবনাচরণের নানা অসংগতিকে কটাক্ষ করেছেন। পুরুষরা আলস্যপ্রিয়। আর নারী অহেতুক রূপচর্চা, পরনিন্দা এবং নিজেকে হীনবল মনে করে গৃহকোণে বন্দি জীবনযাপন করতে বেশি পছন্দ করে। ফলে তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে উন্নতি নেই। তাই লেখিকা বাঙালিকে 'মূর্তিমান কাব্য' বলেছেন।
নন্দলালের বৈশিষ্ট্য 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে আলোচিত অলস বাঙালির কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করে।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। পরিশ্রম না করে কেউ উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে না। বাঙালির অনগ্রসরতার মূলে রয়েছে তাদের শ্রমবিমুখতা। বাঙালির এ স্বভাব তাদের উন্নতির প্রধান অন্তরায়।
উদ্দীপকে নন্দলালের শ্রমবিমুখতা এবং তার আলস্যভরা জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। বাড়ির বাইরে গেলে কোথায় কোন সমস্যায় পড়ে এই ভয়ে সে সব কাজ ফেলে শুয়ে শুয়ে দিন কাটাতে পছন্দ করে। তার এই মূল্যহীন যুক্তি ও অলসতা 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির কার্যক্রমের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি পুরুষদের আলস্যপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা প্রভৃতি নেতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন। পরিশ্রম না করা ও ভোজনপ্রিয়তার ফলে বাঙালি পুরুষদের ভুঁড়িটি সজিনার মতোই স্কুল দেখায়। এভাবে উদ্দীপকের নন্দলালের বৈশিষ্ট্য 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের অলস বাঙালির কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করে।
উদ্দীপকে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের উপেক্ষিত দিকটি হলো বাঙালির আলস্যের প্রতি লেখিকার কঠোর সমালোচনা।
বাঙালি শ্রমবিমুখ, অলস। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল আরামপ্রিয়তার কারণেই তারা পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি থেকে পিছিয়ে আছে। অন্যদিকে বাঙালি জাতি পরিশ্রম অপেক্ষা তোষামোদ করতে বেশি পছন্দ করে।
উদ্দীপকে নন্দলালের অজানা কোনো একটা সমস্যা-সংকটের ভয় এবং অলসতাকে তুলে ধরা হয়েছে। তার এই ভয়, কর্মবিমুখতা বাঙালির মজ্জাগত স্বভাববৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকে নন্দলালের আলস্যকে সবাই সমর্থন করলেও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা তাদের কঠোর সমালোচনা ও কটাক্ষ করেছেন। লেখিকা বাঙালির এমন আরামপ্রিয়তা ও পরিশ্রম না করার দিকগুলোকে নির্বুদ্ধিতা ও অনুচিত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা উদ্দীপকে উপেক্ষিত।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা হাস্যরসের মাধ্যমে বাঙালি পুরুষের কর্মবিমুখতা এবং বাঙালি নারীর দুর্বলচিত্ত ও অহেতুক রূপচর্চা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। লেখিকা দেখিয়েছেন বাঙালির এই নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো তাদেরকে কতটা নিচুস্তরে নামিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যাঙ্গাত্মক এ প্রবন্ধটির মাধ্যমে লেখিকা বাঙালিকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। অথচ উদ্দীপকে সকলে নন্দলালের উদ্ভট কাজগুলোকে সমর্থন করছে, তার আচরণগুলো পরিবর্তনের জন্য কিছুই বলছে না। ফলে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের উল্লিখিত দিকগুলো উদ্দীপকে উপেক্ষিত হতে দেখা যায়।
মূলত যৌতুক প্রথা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক উক্তিটি করেছেন।
বাঙালিরা আরামপ্রিয় হওয়ার কারণে বর অর্থাৎ ছেলেরা পরিশ্রম করে টাকা উপার্জনের চেয়ে পাশ বিক্রয় করে শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা গ্রহণকে বেশি প্রাধান্য দেয়। যার কারণে ছেলের যত পড়াশোনা যৌতুকের বাজারে তার মূল্য তত বেশি, এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালি বরেরা পাশ বিক্রয় করতে ইচ্ছুক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!