মহাভারতের চরিত্র শান্তনু ও গঙ্গাদেবীর পুত্র হলেন দেবব্রত। মহাভারতে তিনি ভীষ্ম নামেই সমধিক পরিচিত।
একদিন রাজা শান্তনু মৃগয়ায় গিয়ে এক মৎস্যজীবীর পালিতা কন্যা সত্যবতীকে দেখে মোহিত হন এবং তাকে বিয়ে করতে চান।
সত্যবতীর পিতা শান্তনুকে কন্যাদান করতে রাজি হন এই শর্তে যে, সত্যবতীর পুত্র বড় হয়ে রাজ্যভার পাবে। শান্তনু এতে বিমর্ষ হন এবং রাজ্যে ফিরে যান। কিন্তু দেবব্রত বিষয়টি জানতে পারেন এবং তিনি মৎস্যজীবীকে কথা দেন যে, তিনি রাজত্ব দাবি করবেন না। তাতেও সত্যবতীর পিতার চিন্তা দূর হয় না। কারণ, দেবব্রত সিংহাসন দাবি না করলেও, দেবব্রতর সন্তানরা তা দাবি করতে পারে। তখন দেবব্রত পিতার ইচ্ছাপূরণের জন্য প্রতিজ্ঞা করেন যে, তিনি কোনোদিনও বিবাহ করবেন না। এমন একটা ভীষণ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন বলেই পরে তিনি ভীষ্ম হিসেবে পরিচিত হন। শৌর্যে, বীর্যে, জ্ঞানে, রাজনীতিতে; দৃঢ়তা ও ধর্ম-সংযমে ভীষ্মে তো মহাপুরুষ জগতে বিরল।
Related Question
View Allযোগীন্দ্রনাথ সরকার রচিত 'তিরন্দাজ' গল্পটি ছোটোদের জন্য লেখা মহাভারতের 'আদিপর্ব' থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে পাণ্ডু ও কুরুর সন্তানদের মধ্যকার পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সম্পর্ক এবং যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শিতা প্রদর্শনের ঘটনা স্থান পেয়েছ।
'তিরন্দাজ' গল্পটি মহাভারতের অন্যতম চরিত্র কৌরব ও পাণ্ডবদের বীরত্ব ও প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ক নিয়ে রচিত। দিল্লির হস্তিনাপুরের রাজা শান্তনুর বংশধর এই কৌরব ও পাণ্ডবগণ। আদিকাল থেকেই রাজা শান্তনুর বংশধরদের মধ্যে রাজত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে। অন্ধ ছিলেন বলে ধৃতরাষ্ট্র পিতার সিংহাসনে বসতে পারেননি। ফলে তার পুত্রও সিংহাসনলাভ করতে পারবে না। সিংহাসনের উত্তরাধিকার হন পান্ডুর জ্যেষ্ঠ পুত্র যুধিষ্ঠির। ফলে কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সম্পর্ক তৈরি হয়। কৌরবরা পাণ্ডবদের সাথে ভালো আচরণ করত না। তবে তাদের পিতামহ ভীষ্ম উভয়দেরই স্নেহ করতেন। তিনি চেয়েছিলেন অস্ত্রবিদ্যার গুরু দ্রোণাচার্যের হাতে তাদের অস্ত্রশিক্ষা দেবেন। দ্রোণাচার্যও তাদেরকে সানন্দে অস্ত্রবিদ্যা শেখাতে লাগলেন। দেখা গেল প্রত্যেকেই অস্ত্রচালনায় বিশেষ জ্ঞানার্জন করে। তাদের মধ্যে অর্জুন দ্রোণাচার্যের কাছে সর্বাধিক প্রিয় হয়ে ওঠেন তার বিশেষ বৈশিষ্ট্যের গুণে। তার অস্ত্রশিক্ষার পারদর্শিতায় মুগ্ধ হয়ে দ্রোণাচার্য তাকে 'ব্রহ্মশিরা' নামের একটি বিশেষ ক্ষমতাধর অস্ত্র উপহার দেন। দ্রোণাচার্য কৌরব ও পাণ্ডবদের রণকৌশলে পারদর্শিতা পরীক্ষার জন্য রণক্ষেত্রের আয়োজন করেন। এতে সবাই প্রত্যেকের যুদ্ধবিদ্যা দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। অর্জুন সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হন।
'তিরন্দাজ' গল্পটিতে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে একটি রাজবংশের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ক, তাদের শ্রম ও আগ্রহের ফলে প্রাপ্ত পুরস্কার, গুরু-শিষ্যের মধ্যকার স্নেহ-ভালোবাসা ও বিশ্বাসের এক মেলবন্ধন। নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকের নির্দেশনাবলি পালন করলে যে সুফল পাওয়া যায় তা অর্জুনের অস্ত্রশিক্ষায় পারদর্শিতা থেকেই অনুমেয়। অর্জুনের অক্লান্ত শ্রম ও চর্চা তাকে শ্রেষ্ঠ তিরন্দাজে পরিণত করে। সেই সাথে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসারও নিদর্শন 'তিরন্দাজ' গল্পটি। দ্রোণাচার্য অর্জুনের নিষ্ঠা, দৃঢ় মনোযোগ ও গুরুভক্তি সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন। এজন্যই কুমিরের আক্রমণে তিনি ভীত হননি, নিজে বাঁচারও চেষ্টা করেননি। তিনি জানতেন অর্জুন তাকে ঠিক বাঁচিয়ে নেবেন। গুরু-শিষ্যের এই অপূর্ব স্নেহ-ভালোবাসা ও বিশ্বাসের মেলবন্ধন গল্পটিকে একটি উচ্চ মাত্রা দান করেছে।
মহাভারতের দুটি বিখ্যাত বংশধর কৌরব ও পান্ডব। তারা একই বংশের হলেও রাজত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের সূত্রপাত হয় এবং রাজত্বের উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে আলাদা হয়ে যায়।
দিল্লির হস্তিনাপুরের রাজা ছিলেন শান্তনু। তিনি মৎস্যকন্যা সত্যবতীকে বিবাহ করেন। তাদের ঘরে চিত্রাঙ্গদ ও বিচিত্রবীর্য নামে দুটি পুত্রসন্তান হয়। বিচিত্রবীর্যের দুই স্ত্রী অম্বিকা ও অম্বালিকা। অম্বিকার গর্ভজাত সন্তান ধৃতরাষ্ট্র এবং অম্বালিকার পুত্র পাণ্ডু। জন্মান্ধ হওয়ায় ধৃতরাষ্ট্র রাজ্যভার নিতে পারেননি। অন্যদিকে ছোট হওয়া সত্ত্বেও পাণ্ডুই দেশের রাজ্যভার গ্রহণ করেন। এই পাণ্ডু ও কুন্তীর পাঁচ ছেলে যাদেরকে 'পঞ্চপাণ্ডব' নামে ডাকা হয়। তারা হলেন যথাক্রমে-যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব। অন্যদিকে ধৃতরাষ্ট্রের দুর্যোধন, দুঃশাসন প্রভৃতি একশত ছেলে আর দুঃসলা নামে এক মেয়ে ছিল। পাণ্ডু কুরুবংশের হলেও তার ছেলেদেরকে 'পাণ্ডব' বলে ডাকত এবং ধৃতরাষ্ট্রের ছেলেদের বলা হতো 'কৌরব'।
মহাভারতের 'কৌরব' ও 'পাণ্ডব'রা আসলে একই রাজবংশের। ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে তারা আলাদা রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।
মহাভারতে 'পঞ্চপাণ্ডব' নামে পরিচিত পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়জন ছিলেন অর্জুন। অর্জুন ধনুর্বিদ্যায় বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর অস্ত্রশিক্ষার গুরু দ্রোণাচার্যের কাছ থেকে তিনি ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন সততা, নিষ্ঠা, আগ্রহ ও গুরুভক্তির মাধ্যমে।
কৌরব ও পান্ডবদের পিতামহ ভীষ্ম ছেলেদের অস্ত্রশিক্ষায় পারদর্শী করে তোলার জন্য ভরদ্বাজ মুনিপুত্র দ্রোণাচার্যের ওপর ভার দেন। দ্রোণাচার্য সানন্দে তাদের অস্ত্রশিক্ষা দিতে থাকেন। তাদের মধ্যে অর্জুন দ্রোণাচার্যের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেন। অর্জুন ছিলেন প্রচণ্ড মনোযোগী, আগ্রহী এবং গুরুভক্ত। দ্রোণাচার্য তাদেরকে বলেন- "আমি তোমাদের এমনভাবে অস্ত্র শিক্ষা দেব যে, সবারই তাক লেগে যাবে। শেষে কিন্তু আমার একটি কাজ করে দিতে হবে।" একথা শুনে সবাই চুপ থাকলেও অর্জুন বলে উঠলেন যে তিনি তার গুরুর আদেশ কখনই অমান্য করবেন না। অর্জুনের কথায় দ্রোণাচার্য অত্যন্ত প্রীত হন এবং তাকে নিজের ছেলের মতো ভালোবাসতে থাকেন। তাদের অস্ত্রশিক্ষার কতটুকু উন্নতি হলো তা দেখার জন্য দ্রোণাচার্য একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। তিনি সবাইকে একটি পাখির চোখের লক্ষ্যভেদ করতে বলেন। দ্রোণাচার্য সবাইকে জিজ্ঞেস করেন তারা কে কী দেখতে পাচ্ছে। কেউই আশানুরূপ উত্তর দিতে পারেননি। একমাত্র অর্জুন মনোযোগ ও লক্ষ্য ঠিক রাখতে পেরেছেন যা দ্রোণাচার্যকে মুগ্ধ করে। আবার কুমিরের হাত থেকেও অর্জুন সাহসিকতার সাথে দ্রোণাচার্যকে বাঁচান। অর্জুনের কাজে খুশি হয়ে তিনি অর্জুনকে অতি শক্তিশালী 'ব্রহ্মশিরা' অস্ত্র উপহার দেন।
দ্রোণাচার্যের অতি স্নেহের ও পছন্দের শিষ্য ছিলেন অর্জুন। অর্জুনের অস্ত্রশিক্ষার ক্ষমতা ও কৌশল প্রায় প্রাবাদিক পর্যায়ে পৌঁছে দেন তিনি। অর্জুন এই বিদ্যা শিখেছিলেন প্রচন্ড আগ্রহ, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। দ্রোণাচার্যের সব পরীক্ষাতেই অর্জুন উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হন। অর্জুনের প্রবল ইচ্ছা, আগ্রহ ও গুরুর প্রতি ভক্তি তাকে উচ্চতম স্থানে জায়গা করে দেয়। দ্রোণাচার্য তাঁর যুদ্ধবিদ্যাকৌশল, তীব্র মনোযোগ, আগ্রহ ও গুরুর প্রতি শ্রদ্ধায় খুবই প্রীত হন। এভাবেই অর্জুন দ্রোণাচার্যের মন জয় করে নিয়েছিলেন।
ভীষ্ম দ্রোণাচার্যের ওপর ছেলেদের অস্ত্রশিক্ষার ভার দিয়েছিলেন। এই অস্ত্রগুরু মহাভারতের যুগের আধুনিক সামরিক কলাকৌশল, ব্যূহ রচনা, দিব্যাস্ত্র প্রভৃতিতে খুবই দক্ষ ছিলেন।
দ্রোণ যিনি দ্রোণাচার্য নামে পরিচিত, তিনি হলেন মহাভারতে বর্ণিত অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তিনি ঋষি ভরদ্বাজের পুত্র এবং ঋষি অগ্নিরসের বংশজ। তিনি অস্ত্রবিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। এমনকি ভয়ংকর দিব্যাস্ত্র ব্রহ্মাস্ত্রের ব্যবহারও তিনি জানতেন। রাজা ভরতের উত্তরাধিকার অনুসারে, একজন যোগ্য ব্যক্তিকে রাজকীয় রীতি মেনে হস্তিনাপুরের রাজা হতে হবে। তাই ভীষ্ম একজন যোগ্য উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য অস্ত্রশিক্ষার গুরু দ্রোণাচার্যকে কৌরব ও পাণ্ডবদের রণকৌশল শেখানোর কাজে নিযুক্ত করতে চান। কিছুদিন পর দ্রোণাচার্য নিজেই হস্তিনাপুরে এলে ভীষ্ম তাঁকে ছেলেদের অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষার দায়িত্ব দেন যাতে তারা রাজ্যভার নেওয়ার যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে ওঠেন।
দ্রোণাচার্য ছিলেন এক আশ্চর্য প্রতিভাধর অস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী চরিত্র। তাঁর পারদর্শিতা সম্পর্কে ভীষ্ম অবগত ছিলেন। রাজ্যের জন্য যোগ্য উত্তরাধিকার পেতে চাইলে দ্রোণাচার্যের অস্ত্রশিক্ষা খুবই জরুরি। এসব বিবেচনা করেই ভীষ্ম দ্রোণাচার্যকে ছেলেদের অস্ত্রশিক্ষার গুরুভার দিয়েছিলেন।
মহাভারতের অন্যতম প্রধান চরিত্র অর্জুন। তিনি ছিলেন ভীষণ দক্ষ ধনুর্বিদ যাঁর অস্ত্র চালনায় কোনো সমকক্ষ ছিল না। শৈশব থেকেই অর্জুনের দক্ষতা ও বীরত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ছিলেন পাণ্ডবদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিভাবান।
মহাভারতের অন্যতম প্রধান চরিত্র অর্জুন। তিনি ছিলেন ভীষণ দক্ষ ধনুর্বিদ যাঁর অস্ত্র চালনায় কোনো সমকক্ষ ছিল না। শৈশব থেকেই অর্জুনের দক্ষতা ও বীরত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ছিলেন পাণ্ডবদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিভাবান।
অর্জুনের চরিত্র মহাভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল অসাধারণ তীরন্দাজিতে। তার অস্ত্রবিদ্যার গুরু ছিলেন দ্রোণাচার্য। হস্তিনাপুরের যোগ্য উত্তরসূরি নির্বাচন করার জন্য ভীষ্ম কৌরব ও পান্ডবদেরকে যুদ্ধবিদ্যা শিক্ষার জন্য অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্যকে নিয়োগ করেন। দ্রোণাচার্য তাদেরকে স্নেহ ও সযত্নে যুদ্ধবিদ্যা শেখান। তাদের মধ্যে অর্জুন তার বিশেষ গুণে দ্রোণাচার্যকে মুগ্ধ করেন। অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষায় অর্জুনের পারদর্শিতা অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে যায়। তাদের অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষার উন্নতি কতটুকু হলো তা দেখার জন্য দ্রোণাচার্য একটি রণকৌশল প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন। এতে সবাই তাদের যুদ্ধবিদ্যা দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে। কিন্তু অর্জুনের রণকৌশল সর্বাধিক প্রশংসিত হয়। যেমন বীরের ন্যায় তার চেহারা, তেমনই তার হাতের কায়দা। তিনি অগ্নিবাণে চারিদিকে আগুন জ্বালিয়ে তা আবার বরুণবাণে নিভিয়ে দেন। এক বাণে আকাশে বায়ু ও মেঘ সৃষ্টি করেন, এক বাণে বিশাল পর্বত সৃষ্টি করেন, আবার এক বাণে নিজেই ভূমিতে প্রবেশ করে পরমুহূর্তেই বাইরে বেরিয়ে এলেন। তার বাণে কখনো রৌদ্র, কখনো মেঘ, আবার কখনা বৃষ্টি- যেন কোনো বাজিকরের ভেলকি চলছে! এসব দেখে লোকের চোখে যে ধাঁধাঁ লেগে যায়। আবার শেষে অর্জুন এক বাণে নিজেকে এমনভাবে লুকিয়ে ফেলেন যে, কেউ আর তাকে দেখতে পেল না। এমন আশ্চর্য ধনুর্বিদ্যা দেখে অর্জুনের জয়ধ্বনিতে চারিদিকে ভরে উঠেছিল।
তিরন্দাজিতে আশ্চর্য জ্ঞানসম্পন্ন অর্জুন দ্রোণাচার্যের অস্ত্রশিক্ষার শ্রেষ্ঠ ফসল। অর্জুন একদিকে যেমন অসাধারণ যোদ্ধা, অন্যদিকে তেমনই নৈতিক ও মানবিক গুণসম্পন্ন একজন মানুষ। গুরুর প্রতি অসামান্য ভক্তি ও পরম শ্রদ্ধা-ভালোবাসা তার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
অর্জুনকে কৌরবরা হিংসা করত। অর্জুন নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে অস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠায় দ্রোণাচার্য তাকে বিশেষ স্নেহ করতেন। এসব দেখেই কৌরবরা অর্জুনকে সহ্য করতে পারত না।
কৌরব ও পাণ্ডবদের অস্ত্রশিক্ষার গুরু ছিলেন দ্রোণাচার্য। হস্তিনাপুরের যোগ্য রাজাকে নির্বাচন করার জন্য ভীষ্ম অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্যকে ভার দেন ছেলেদের শিক্ষার জন্য। দ্রোণাচার্য তাদেরকে পরম যত্ন ও স্নেহে যুদ্ধবিদ্যা শেখাতে থাকেন। তাদের মধ্যে অর্জুনের অস্ত্রশিক্ষার কৌশল ছিল অসাধারণ। কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে অর্জুনের রণকৌশল ও নৈতিক, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্রোণাচার্যকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করত। তিনি অর্জুনকে অত্যধিক স্নেহ করতেন। এসব দেখে কৌরবপুত্ররা অর্জুনকে সহ্য করতে পারত না। অর্জুন ছিলেন অসাধারণ তিরন্দাজ। কৌরবরা যারা পাণ্ডবদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল, তাদের জন্য অর্জুনের বীরত্ব ও খ্যাতি ছিল একটি হুমকি। কৌরবরা অর্জুনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তাদের ক্ষমতা ও রাজত্বের জন্য বিপজ্জনক মনে করত। কৌরবরা পাণ্ডবদের প্রতি স্বভাবতই শত্রুতা ও হিংসা পোষণ করত। তার ওপর অর্জুনের রণকৌশলে বিশেষ পারদর্শিতা এবং দ্রোণাচার্যের অত্যধিক স্নেহ কৌরবদের হিংসাকে আরও প্রখর করে তুলেছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!