প্রধান প্রধান পুরাণের সংখ্যা হচ্ছে আঠারটি।
চন্ডীতে মোট মন্ত্রের সংখ্যা সাতশত। এজন্য চন্ডীকে সপ্তশতী বলা হয়। এ গ্রন্থটি হিন্দুধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি বিশেষ গ্রন্থ।
চণ্ডী হচ্ছে মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তগত একটি অংশ। এটি মূলত মার্কণ্ডেয় পুরাণের ৮৩ থেকে ৯৫ পর্যন্ত মোট ১৩টি অধ্যায়। এ গ্রন্থটি মার্কণ্ডেয় পুরাণের অংশ হয়েও বিষয়বস্তু ও রচনার গুণে আলাদা গ্রন্থের মর্যাদা পেয়েছে। চণ্ডী মূলত একটি নিত্যপাঠ্য গ্রন্থ।
দেবারতি পুরাণের মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছিল।
হিন্দুধর্মের অনেক ধর্মগ্রন্থের মধ্যে পুরাণ অন্যতম বিশেষ গ্রন্থ। পুরাণের রচয়িতা হলেন মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব। পুরাণগুলো গল্প বলার ছলে রচিত হয়েছে। পুরাণ শব্দের অর্থ হচ্ছে পুরাতন বা প্রাচীন। তবে এখানে পুরাণ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ধর্মগ্রন্থকে বোঝানোর জন্য। এ গ্রন্থ শুধুমাত্র একটি বিষয় নিয়ে রচিত হয়নি। এখানে সৃষ্টি ও দেবতাদের উপাখ্যান, ঋষি ও রাজাদের বংশ, পৃথিবীর ভৌগোলিক পরিচিতি তীর্থমাহাত্ম্য, দান, ব্রত, তপস্যা, আয়ুর্বেদ প্রভৃতির মধ্য দিয়ে বেদভিত্তিক হিন্দুধর্ম ও সমাজের নানা কথা বলা হয়েছে। তাই পুরাণ বলতে শুধুমাত্র একটি গ্রন্থকেই বোঝায় না। পুরাণ হলো অনেক গ্রন্থের সমষ্টি। যার গুরুত্ব আমাদের নৈতিক জীবন এবং ধর্মাচরণে অনেক বেশি। উদ্দীপকের দেবারতি স্বামীজির কাছ থেকে পুরাণ সম্পর্কে এ ধারণাগুলোই লাভ করেছিল। যার মাধ্যমে পুরাণের বিষয়বস্তু নিহিত।
ধর্মাচরণ ও নৈতিকতায় পুরাণের গুরুত্ব অপরিসীম'- এ উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।
পুরাণ হলো সকল ধর্মগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি গ্রন্থ। তাছাড়া এটি একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ধর্মগ্রন্থ। পুরাণ শুধুমাত্র একটি গ্রন্থই নয়, এটি বহু গ্রন্থের সমষ্টি। পুরাণের সংখ্যা অনেক। পুরাণের মধ্যে যে গল্প বর্ণিত হয়েছে সে গল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে ধর্মজীবন ও নৈতিক আদর্শ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া। তাই মানুষের কল্যাণকর ও সুন্দর জীবন সম্পর্কে উপদেশ ও নীতিশিক্ষা প্রদান পুরাণের মূল বিষয়বস্তু। পুরাণের মধ্যে প্রাচীনকালের ধর্ম এবং জীবনের প্রতিফলন ঘটেছে।
আমাদের জীবনকে সুন্দর ও মহিমামণ্ডিত করতে পুরাণের গুরুত্ব অপরিসীম। পৌরাণিক ধর্মমতে সত্য, অহিংসা, ক্ষমা, শান্তি ও ত্যাগ মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে তুলেছে। পুরাণের গল্পগুলোতে এসব। গুণগুলোর মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর করার নানা ঘটনাবলি উল্লেখ করা হয়েছে। যা আমাদেরকেই উজ্জীবিত করে। পুরাণের উপদেশগুলো আমাদেরকে ধর্মের পথে চলতে সহায়তা করে এবং জীবনের চলার সঠিক নির্দেশ দেয়। সবসময় ঈশ্বরকে স্মরণ করা আমাদের কর্তব্য। তাহলে কোনো পাপ আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না। আর পাপ না করে আমরা পুণ্যপথে থাকলে মৃত্যুর পরে আমরা স্বর্গে গমন করতে পারব। এগুলো আমাদের নীতিবোধকে জাগ্রত করে। পুরাণের কাহিনীগুলো আমাদের জীবনকে সুন্দর ও পরিপাটি করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এজন্য আমাদের প্রাত্যহিক, সামাজিক, নৈতিক এবং ধর্মীয় জীবনে পুরাণের গুরুত্ব অপরিসীম।
Related Question
View Allশ্রীশ্রীচণ্ডীতে সাতশ মন্ত্র আছে।
শ্রীশ্রীচণ্ডী স্বতন্ত্রভাবে রচিত হয় নি। এটি হচ্ছে মার্কন্ডেয় পুরাণের একটি অংশ। মার্কন্ডেয় পুরাণের ৮৩ থেকে ৯৫ পর্যন্ত ১৩টি অধ্যায়ের নাম চণ্ডী। এ কারণে শ্রীশ্রীচণ্ডী পুরাণের অন্তর্গত।
অনেককাল আগে দেবতাদের রাজা ইন্দ্র ও অসুরদের রাজা মহিষাসুরের মধ্যে স্বর্গরাজ্য দখলকে কেন্দ্র করে এক ভয়ানক যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে দেবতারা অসুরদের সাথে হেরে যান। যুদ্ধে হেরে গিয়ে দেবতারা আর স্বর্গে বসবাস করতে পারলেন না। তারা বিতাড়িত হলেন স্বর্গরাজ্য থেকে। রাজা মহিষাসুর স্বর্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত করে যাবতীয় সন্ত্রাসী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড।
উদ্দীপকের আলোচনায় আমরা জানতে পারি, সঞ্জয় একজন দুর্ধর্ষ ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির। সবার সাথে সে দুর্ব্যবহার করে। স্বার্থে আঘাত লাগলে সে মারধর পর্যন্ত করে। কিন্তু মহিষাসুর ছিল দৈত্যদের রাজা এবং তার সাথে যুদ্ধ বাধে দেবতাদের। পক্ষান্তরে, সঞ্জয় একজন মর্ত্যের মানুষ এরং সে ঝগড়া করে মানুষের সাথে। এক্ষেত্রে একজন হচ্ছে মর্ত্যবাসী অন্যজন স্বর্গবাসী। তাই উভয়ের মধ্যে মিল থাকলেও যথেষ্ট পার্থক্যও পরিলক্ষিত হয়।
শ্রীশ্রীচণ্ডীর শিক্ষা দেবজিৎ-এর চরিত্রে অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছে। কথাটি আংশিক মিল রয়েছে।
পৃথিবীতে দুষ্ট বা অসৎ মানুষ একসময় ধ্বংস হবেই আর সাধু ও সৎ মানুষ টিকে থাকবে নিজের সততার মধ্য দিয়ে। যেমনটি দেখা যায় শ্রীশ্রীচণ্ডী উপাখ্যানে। এখানে দেবীদুর্গার মহত্ত্বের কথা বলা হয়েছে। দেবীদুর্গা অসুরদের দমন করে স্বর্গরাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। উদ্দীপকের দেবজিৎ অমায়িক, দয়ালু ও পরোপকারী। সে সমাজসেবামূলক কাজ করতে ভালোবাসে। সে তার বাবার অনৈতিক কাজ সমর্থন করে না। এসব গুণাবলি দেবীদুর্গার চরিত্রে দেখা যায়। কিন্তু দেবীদুর্গা হলেন দেবতা। তাঁর রয়েছে ঐশ্বরিক শক্তি। পক্ষান্তরে, দেবজিৎ হচ্ছে একজন মানুষ। তাই একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, শ্রীশ্রীচন্ডীর শিক্ষা দেবজিতের চরিত্রে কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছে।
দুর্গা দেবীকে হিমালয় একটি সিংহ দেন।
অসুররা দেবতাদের যখন স্বর্গরাজ্য থেকে বিতাড়িত করে তখন তাঁরা এ কাহিনী ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের কাছে বর্ণনা করেন। দেবতারা এ কাহিনী শুনে ভীষণ রেগে যান। তাদের তেজরাশি একত্রিত হয়ে আলোকপুঞ্জে পরিণত হয়। এ আলোকপুঞ্জ থেকেই আবির্ভূত হন দেবীদুর্গা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
