কাউকে তুচ্ছ মনে করে তাকে সহ্য করতে না পারা এবং তার থেকে দূরে সরে থাকাই ঘৃণা।
ইসলামের মূল বাণী- আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। হযরত 'মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল। 'যারা এ কালিমায় বিশ্বাসী তারা যেকোনো বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও অঞ্চলের অধিকারী হোক না কেন, তারা ইসলামি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। এজন্য রাসুল (স.) বলেছেন, "মুসলমান মুসলমানের ভাই।" (বুখারি ও মুসলিম)
দেলোয়ার হোসেনের আচরণে আখলাকে হামিদাহর অন্যতম একটি গুণ নারীর মর্যাদা ফুটে উঠেছে।
ইসলাম একমাত্র ধর্ম যাতে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য না করে নারীকে পুরুষের সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মাতা, কন্যা, ভগ্নি, স্ত্রী প্রভৃতি হিসেবে সমাজে নারীদের যে বিশেষ অধিকার ও স্থান রয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত করলে নারীর মর্যাদা সমুন্নত হবে। প্রাচীন আরবে নারীর কোনো মর্যাদা ছিল না। সেখানে কন্যাসন্তান জন্ম নিলে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো। নারীকে পণ্যরূপে দেখা হতো। তাদের ক্রীতদাসী হিসেবে বাজারে কেনাবেচা করা হতো। কন্যাসন্তান পরিবার-সমাজের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ইসলাম আসার পর নারীর মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকেও দেলোয়ার হোসেনের বাবার ইন্তেকালের পরে দাফন কাজ সেরে অসিয়ত ও ঋণ পরিশোধ করেন। অতঃপর তিনি পরিত্যক্ত সম্পদ মা ও বোনসহ অন্য ওয়ারিশদের মাঝে সঠিকভাবে বণ্টন করেন। সুতরাং দেলোয়ার হোসেনের আচরণে নারীর মর্যাদা প্রদানের দিকটি ফুটে উঠেছে, যা আখলাকে হামিদাহর অন্তর্ভুক্ত।
মহসিনের কর্মকাণ্ড আখলাকে যামিমাহর একটি দিক সন্ত্রাসের অন্তর্ভুক্ত। মহসিনের উদ্দেশে খলিলের মন্তব্যটি যথার্থ।
সন্ত্রাসের ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সামাজিক জীবন বিপর্যন্ত হয়। মানুষের স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন ব্যাহত হয়। সন্ত্রাসকবলিত জনপদে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা থাকে না। যখন তখন কেউ অপমৃত্যুর শিকার হতে পারে। সন্ত্রাসের কারণে মানুষের সম্পদের নিরাপত্তা থাকে না। সম্ভ্রমের নিরাপত্তা থাকে না। পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হয়। বিদ্বেষ বেড়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসন স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে জাতীয় উন্নতি ও অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সুতরাং সন্ত্রাস পরিত্যাজ্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মহসিন অসৎ ছেলেদের সাথে মিশে এলাকার বাজারের লোকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে বেড়ায়। এতে তার বাবা অসন্তুষ্ট হয়ে বলেন, "তুমি দুনিয়া ও আখিরাতে সুখী হতে পারবে না।" সুতরাং বলা যায়, মহসিন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। সুতরাং মহসিনের উদ্দেশে তার বাবা খলিলের মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allনমরুদের মূর্তিপূজার বিরোধিতা করায় হযরত ইবরাহিম (আ.) অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন।
উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য মহানবি (স.) বলেন, "উত্তম চরিত্রের পূর্ণতাদানের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি।" সকল নবিই নিজ নিজ জাতিকে উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন। আর উন্নত চরিত্রকে পূর্ণতাদানের জন্য শেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে আল্লাহ তায়ালা পাঠিয়েছেন।
পরমতসহিষ্ণুতা গুণের অভাবে লিপি ও হ্যাপির মধ্যে ঝগড়া হয়।
পরমত বলতে বোঝায় অপরের মত, পথ বা আদর্শ, সেটা ধর্মীয় হতে পারে, আদর্শিকও হতে পারে। আবার রাজনৈতিকও হতে পারে। অন্যের মতামতকে অবজ্ঞা না করে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া বা অন্যের মত বা আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাকে পরমতসহিষ্ণুতা বলে। উদ্দীপকের লিপি ও হ্যাপির মধ্যে ঝগড়ার মূল কারণ একজনের পছন্দকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া, যা পরমতসহিষ্ণুতার পরিপন্থি। আর একটি সুস্থ ও সুন্দর সামাজিক জীবনের জন্য পরমতসহিষ্ণুতার গুরুত্ব অপরিসীম। পারিবারিক জীবনের সুখ-শান্তি এর ওপর নির্ভরশীল। পরিবারের অন্য সদস্যদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন বা সহানুভূতির মনোভাব পোষণ করার মাধ্যমে পারিবারিক শান্তি লাভ করা যায়।
সাব্বির ও মনিরের ভূমিকায় সমাজসেবার গুণটি ফুটে উঠেছে।
সমাজের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে স্বেচ্ছায় গৃহীত কাজই সমাজসেবা। ব্যাপক অর্থে মানবকল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য গৃহীত সকল কর্মসূচিই সমাজসেবা নামে পরিচিত। সমাজসেবা একটি মানবিক দায়িত্ব। সমাজের সম্পদশালী মানুষ পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য সেবামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে। গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে তাদের উন্নয়ন ঘটানো সামাজিক দায়বদ্ধতা। শিক্ষা-চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মানুষের প্রিয়ভাজন হওয়া সম্ভব। উদ্দীপকের সাব্বির ও মনির আহত পথচারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জনসেবার অন্তর্ভুক্ত। কেননা রাসুল (স.) বলেন, আল্লাহ বান্দাদেরকে ততক্ষণ সাহায্য করেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইকে সাহায্য করে।
পরিশেষে বলা যায়, সাব্বির ও মনিরের কাজটিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে আমাদের সকলেরই মানুষের কল্যাণে সমাজের সেবায় এগিয়ে আসা উচিত।
নারীদের মধ্যে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী হলেন হযরত আয়েশা (রা.)।
পৃথিবীর সকল মানুষের আদি পিতা হযরত আদম (আ.) ও আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ.)-এর সন্তান বিশ্বে সকল মানুষ ভ্রাতৃসম।
আবহাওয়া ও ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে মানুষের আকার-আকৃতি, স্বভাব-প্রকৃতি এবং বর্ণ ও ভাষার মধ্যে ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। যার ফলে মানুষ বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবুও বিশ্বের সব মানুষ এক পিতামাতার সন্তান হওয়ায় বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি হয়েছে। মহানবি (স.) বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই আদম (আ.) হতে এবং আদম মাটি হতে সৃষ্টি। (বুখারি)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!