দেশপ্রেমই 'খ' অঞ্চলের নাগরিকদের স্বাধীনতা অর্জনে সহায়তা করেছিল। উদ্দীপকে উল্লিখিত এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করছি। কারণ দেশ ঠিক মায়ের মতোই। এজন্যই বলা হয় 'জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী'। জন্মভূমির থেকে বড় কিছু নেই। নিজের দেশের জন্য একজন নাগরিক তাই প্রাণ দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে। না। নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসার এ আবেগ ও অনুভূতিকেই বলে দেশাত্ববোধ, স্বদেশপ্রেম বা দেশপ্রেম। দেশের মাটি ও মানুষকে একাত্ম করে ভাবার অনুভূতিই হলো দেশপ্রেম। দেশপ্রেম জন্মভূমির জন্য মানুষের একধরনের অনুরাগময় ভাবাবেগ।
দেশপ্রেম মানুষের অন্তরে সদা বহমান। তবে বিশেষ বিশেষ সময়ে বা পরিস্থিতিতে তা আবেগ-উদ্বেল হয়ে ওঠে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে মাস্টার দা সূর্য সেন-এর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে যে বিদ্রোহ ঘটেছিল এবং অনেকেই আত্মবলিদান করেছিলেন তা এ স্বদেশ প্রেমেরই বলিষ্ঠ প্রকাশ। আবার ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্র যুবসমাজের যে মহান আত্মত্যাগ, তা হয়েছিল বাঙালি চেতনা থেকেই। আমরা বাঙালি জনগণ, আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্য ১৯৫২-তে রক্ত দান করেছি। স্বায়ত্তশাসন অর্জনের জন্য প্রাণদান
করেছি। '৬৯-এর গণআন্দোলনে, '৭১-এর অসহযোগ আন্দোলনে প্রাণ
দিয়েছি এবং সবশেষে স্বাধীনতার জন্য একাত্তরে প্রাণোৎসর্গ করেছি।
দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে তিন লক্ষ মা-বোন লাঞ্ছিত নির্যাতত হয়েছে। বায়ান্ন সালে সৃষ্ট বাঙালি জাতীয়তাই ছিল আমাদের সকল সংগ্রামের প্রেরণা শক্তি। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, জাতীয়বাদী চেতনারই ফসল।
সুতরাং আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, শুধুমাত্র দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই একটি দেশের জনগণকে দেশকে স্বাধীনতা অর্জনে সহায়তা করে। 'খ' দেশের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা লক্ষ করা যায়। যার প্রেক্ষিতে তারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে অবস্থান করে নিতে সক্ষম হয়।
Related Question
View AllNationality' শব্দের অর্থ জাতীয়তা।
জাতীয়তাবাদ একটি মহান আদর্শ, যা মূলত এক প্রকার মানসিক অনুভূতি। বিভিন্ন উপাদান থেকে এর উৎপত্তি। কিন্তু এ জাতীয়তাবাদ যদি এমন হয় যে, তা অন্য জাতিকে ঘৃণা করতে শেখায়, নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শেখায় এবং অন্যকে নিজের অধীন রাখার মতো হীনমানসিকতাকে জাগিয়ে তোলে, তবে তা হবে উগ্র জাতীয়তাবাদ। এটি একটি বিবৃত মানসিকতা যা ব্যক্তিকে অন্ধ দেশপ্রেমে প্রলুব্ধ করে। জার্মানির হিটলার, ইতালির মুসোলিনী এরূপ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিল, যার ফলাফল প্রলয়ঙ্করী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটি ঐতিহাসিক বিষয়। এর বিকাশ ঘটেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে ভিত্তি করে, যা প্রধান শিক্ষক উদ্দীপকে উল্লেখ করেছেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশের পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এক মাইলফলক। বাঙালি দামাল ছেলেরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিজেদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এক ইতিহাস রচনা করে। এ ভিত্তিতেই রচিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ। এ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ৫৪'র নির্বাচন, ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯'র গণঅভুত্থান, ৭০'র নির্বাচন এবং ৭১'র স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতীয়তার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। বাঙালি জাতি এক ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিজয় অর্জনে এটি আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
জাতীয়তা একটি বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রত্যয়। এটি গড়ে ওঠার পেছনে অনেকগুলো factor কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে প্রধান অতিথি যে কথাটি বলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা শুধু ভাষাগত মিল একটি জাতীয়তা নির্মাণের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশের ভাষা ইংরেজি হলেও তারা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা জাতি। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের লোকজনের ভাষা এক হওয়া সত্ত্বেও এরা আলাদা দুটি জাতি। আবার ভারত বহু ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীর দেশ হলেও তাদের জাতীয়তা এক। এভাবে ভাষাগত সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য একরূপ জাতীয়তা সৃষ্টি বা আলাদা করতে ভূমিকা পালন নাও করতে পারে। জাতীয়তা নির্মাণের পথ অত্যন্ত জটিল ধারায় আবর্তিত হয়।
জাতীয়তা নির্ধারণের অন্যান্য যেসব উপাদান রয়েছে তার মধ্যে প্রধান হলো একই ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, সাহিত্য, ভৌগোলিক ঐক্য, মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য, রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক অভিন্ন উদ্দেশ্য ইত্যাদি। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির লোক জড়ো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য তাদেরকে একই সূত্রের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং শক্তিশালী জাতীয়তা নির্মাণে সহায়তা করেছে। তাদের সবার জাতীয়তা নির্ধারিত হয়েছে মার্কিনী। এরূপ কালের পরিক্রমায় দীর্ঘ পরিসরে মানুষের জীবনধারার প্রেক্ষিতে একটি জাতীয়তা গড়ে উঠেছে।
অনুরূপভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের মধ্যেও ইতিহাসের বিবর্তন ধারায় গড়ে উঠেছে জাতীয় চেতনা। এ চেতনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে জাতীয়তাবোধ। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এরূপ লক্ষ করা যায়। Activate
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমষ্টির রাষ্ট্রগুলোকে জাতি-রাষ্ট্র বলা হয়। জাতীয়তার উপাদানগুলোর মাধ্যমে সংগঠিত ও স্বাধীন হয়ে এরূপ রাষ্ট্র গঠিত হয়। জাতিরাষ্ট্র ধারণার প্রবক্তা ম্যাকিয়েভেলি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি জাতি-রাষ্ট্র।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!