হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) বাংলা সাহিত্যের একজন অনন্য প্রতিভা। গল্প, উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান অসাধারণ। তিনি বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে তিনি অসংখ্য গল্প ও উপন্যাস রচনা করেছেন। '১৯৭১' উপন্যাসে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন।
দেশপ্রেম একটি অদম্য ও অন্তর্নিহিত অনুভূতি, যা সময় ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। হুমায়ূন আহমেদের '১৯৭১' উপন্যাসের রফিক এমন একজন ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি, যার মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা গভীরভাবে নিহিত ছিল, যা তার কর্মকাণ্ডে ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে উঠেছে।
রফিক পাকিস্তানি মেজর এজাজের সাথে নীলগঞ্জে আসেন। তাদের সহযোগী হলেও গ্রামের অপরিচিত মানুষদের রক্ষা করতে তিনি জীবনের ঝুঁকি নেন। তার আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয় গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে। গ্রামের বৃদ্ধ মীর আলি যেন তার পরিচিত কেউ। মেজর এজাজ মীর আলিকে সালাম দিয়ে কথা বলতে চাইলে রফিক বাধা দেন। মীর আলি বৃদ্ধ তাই তাকে ছেড়ে দিতে বলেন।
গ্রামের যুবক বলাইয়ের সাথেও রফিকের সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হয়। রফিক বলাইকে কখনো দেখেননি কিন্তু বলাইকে বারবার সচেতন করার জন্য তিনি উদবিগ্ন হয়ে ওঠেন। মন্দিরে আত্মগোপনে থাকা বলাইকে মেজরের হাত থেকে রক্ষা করেন। নীলগঞ্জ গ্রামের নিজাম পাগলাকে গ্রামের জঙ্গলার দিকে ছুটে যেতে দেখে রফিক খুব আনন্দিত হন।
গ্রামের দুইজন অস্থায়ী বাসিন্দা ইমাম সাহেব এবং আজিজ মাস্টারকে মেজর এজাজের অত্যাচার থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। তিনি মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে কৌশল অবলম্বন করে এজাজের নিষ্ঠুরতার হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। মাস্টারের অসম্মান এবং ইমাম সাহেবকে মারধর রফিককে বিচলিত করে তোলে।
রফিক পাকিস্তানি বাহিনীকে কৈবর্তপাড়ায় তল্লাশি চালাতে নিষেধ করেন। কৈবর্তরা খুবই নিরীহ, তাদের এই পাড়ায় কিছুই নেই, সেখানে গিয়ে কোনো লাভ নেই, এই বিষয়গুলো এজাজকে বলে কৈবর্তপাড়াকে সাময়িকভাবে তিনি রক্ষা করেন।
Related Question
View Allআজিজ মাস্টারকে উলঙ্গ করে সারা গ্রাম ঘোরাতে চাইলে তিনি তাতে রাজি হন এবং যেকোনো উপায়ে নিজের প্রাণ বাঁচাতে চান। তখন তার এই কর্মকান্ড সম্পর্কে রফিক মেজর এজাজ আহমেদের কাছে উক্ত উক্তিটি করেন।
'১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামের নিরপরাধ সাধারণ মানুষের উপর পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম নির্যাতনের চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। উপন্যাসটিতে আজিজ মাস্টার মেজর এজাজের অমানবিক অত্যাচারের শিকার হন। মেজর এজাজ তাকে নানা রকম প্রশ্ন করে, কিন্তু মাস্টার সেগুলোর উত্তর দিতে না পারায় মেজর তাকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে আজিজ মাস্টারকে উলঙ্গ করে তার পুরুষাঙ্গে, ইট বেঁধে সারা গ্রাম ঘোরাতে বলে। নিরুপায় আজিজ মাস্টার জীবন বাঁচানোর সর্বশেষ উপায় হিসেবে এভাবে অপমানিত হওয়াকে বেছে নেন। আজিজ মাস্টারের এরূপ আচরণে মেজর বিদ্রূপ করে বলে যে, বাঙালিদের কোনো আত্মসম্মানবোধ নেই। তার এ কথায় রফিক অপমানিত বোধ করেন। কারণ তিনি নিজেও একজন বাঙালি। রফিক তখন প্রতিবাদ করে বলেন, মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ালে মানুষ যেকোনো কিছু করতে পারে। এ সময় কে কী আচরণ করবে তা আগে থেকে বলার কোনো উপায় নেই। মৃত্যুর মুখোমুখি হলে মেজর নিজেও কাপুরুষের মতো আচরণ করতে পারে। এভাবে' রফিক মেজরের মুখের উপর অপমানের জবাব দেন। মৃত্যুর ভয়াবহতার কাছে যে আত্মসম্মানবোধ তুচ্ছ, সেই বিষয়টি মেজরকে বোঝানোর জন্যই রফিক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!