জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত ব্যাংকই হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংক হার কমিয়ে-বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ করার কৌশলকে ব্যাংক হার নীতি বলে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিরোধে ব্যাংক হার বাড়িয়ে দেয়। ব্যাংক হার বাড়লে বাজারে ঋণের পরিমাণ কমবে। অন্যদিকে, এই হার কমলে বাজারে ঋণের পরিমাণ বাড়বে। এভাবেই এই নীতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির চিত্র ফুটে উঠেছে।
বাজারে ঋণের পরিমাণ কাম্য স্তরে রাখাই হলো ঋণ নিয়ন্ত্রণ। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন নীতি ও পদ্ধতি অবলম্বন করে। এরকম কয়েকটি পদ্ধতি হলো: ব্যাংক হার নীতি, খোলাবাজার নীতি, জমার হার পরিবর্তন জনীতি, ঋণের বরাদ্দকরণ নীতি, ভোক্তাঋণ নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি। এসব নীতি প্রয়োগ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে অর্থের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ বছরের শুরুতে বিভিন্ন খাতে ঋণ নির্দিষ্ট করে দেয়। তাছাড়া শেয়ার বাজার স্থির রাখতে এ ব্যাংক খোলাবাজার কার্যক্রম পরিচালনা করে। উদ্দীপকের প্রথম কাজটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ বরাদ্দকরণ নীতি। পরবর্তী কাজটি খোলাবাজার নীতি। এ দুটি কার্যক্রমই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ নীতির অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজগুলো হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি।
ঋণের বরাদ্দকরণ ও খোলাবাজার নীতির মাধ্যমে অর্থ বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে আমি মনে করি।
ঋণের বরাদ্দকরণ ও খোলাবাজার নীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের দুটি অন্যতম পদ্ধতি। ঋণের বরাদ্দকরণ নীতির আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ খাতে ঋণের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়। অন্যদিকে খোলাবাজার নীতিতে সরকারি ঋণপত্র কেনা-বেচা করে বাজারে অর্থের যোগান স্থিতিশীল রাখে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ বছরের শুরুতে কৃষি, শিল্প, ব্যবসায় পরিবহন প্রভৃতি খাতে ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়। সেই সাথে খোলাবাজার কার্যক্রম পরিচালনা করে শেয়ার বাজারের স্থবিরতা দূর করে। এ দুটো নীতিই বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। ঋণের বরাদ্দকরণ ও খোলাবাজার নীতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ ব্যাংক দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকের বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের বরাদ্দকরণ নীতির মাধ্যমে দেশে বিদ্যমান সবগুলো খাতে ঋণের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্থিতিশীল থাকে। অন্যদিকে খোলাবাজার নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক সিকিউরিটিজ কেনা-বেচা করে বাজারে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। বাজারে বেশি অর্থ থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন সিকিউরিটি বিক্রয় শুরু করে। আবার অর্থ কমে গেলে ব্যাংক বাজারে বিদ্যমান সিকিউরিটিজ কিনে ঘাটতি অর্থের যোগান দেয়। এভাবে মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলো দেশের মুদ্রাবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
Related Question
View Allতালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নগদে ও অংশবিশেষ বন্ড, সিকিউরিটিজ কিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখার বিধানকে বিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত হার বা Statutory Liquidity Ratio (SLR) বলে। বর্তমানে SLR-এর হার ১৩%।
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়।
তালিকাভুক্ত ব্যাংকসমূহ যেকোনো কারণেই তারল্য সংকটে 'বা আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। এ সময় ব্যাংকগুলো অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ সরবরাহে এগিয়ে আসে। এক্ষেত্রে এই ব্যাংক ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও ব্যাংক বাণিজ্যিক হুন্ডি, প্রতিজ্ঞাপত্র ইত্যাদি পুনঃবাট্টা করে ঋণ দেয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকাশঘর নামক বিশেষ কক্ষের কথা উল্লেখ রয়েছে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের মধ্যকার আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির স্থান হলো নিকাশঘর। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সদস্য ব্যাংকগুলো প্রতি কার্যদিবসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সেবার মাধ্যমে তাদের দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত আন্তঃব্যাংকিং নিকাশঘর পরিচালনা করে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংক হলো মুদ্রাবাজারের অভিভাবক। এই ব্যাংকের একটি বিশেষ কক্ষ রয়েছে। উক্ত কক্ষে তালিকাভুক্ত ব্যাংকসমূহের পারস্পরিক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশেষ কক্ষ হলো নিকাশঘর। এখানে সদস্য ব্যাংকগুলো প্রতি কার্য দিবসে তাদের দেনা-পাওনার বিবরণী নিয়ে উপস্থিত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবার দেনা ও পাওনা সমন্বয় করে। ফলে খুব সহজেই ব্যাংকগুলো অন্য ব্যাংকের চেক, বিল, ড্রাফট ইত্যাদি নিষ্পত্তি করতে পারে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকাশঘরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাংক হার 'নীতি ও জমার হার পরিবর্তন নীতি গ্রহণ করেছে।
ব্যাংক ঋণের হার হ্রাস-বৃদ্ধি করে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল হলো ব্যাংক হার নীতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি প্রতিরোধে ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে। আবার, প্রতিটি তালিকাভুক্ত ব্যাংক আমানতের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে। এ হার হ্রাস-বৃদ্ধি করে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করাই হলো জমার হার পরিবর্তন নীতি।
উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ ও আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে। সম্প্রতি দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি তার সুদের হার ৫% থেকে ৬%-এ উন্নীত করে। তবুও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক CRR বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিটি তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক যে হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে তাই ব্যাংক হার। উদ্দীপকে প্রথমত ব্যাংক হার বৃদ্ধি করা হয়। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংক কম ঋণ গ্রহণ করবে এবং বাজারে অর্থের সরবরাহ হ্রাস পাবে। কিন্তু ব্যাংকগুলো যদি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয় তাহলে এ নীতি তেমন কার্যকর হয় না। আবার প্রতিটি তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংককে আমানতের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। এই হারকে জমার হার বলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ হার বৃদ্ধি করলে ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে বাজারে ঋণ সরবরাহও হ্রাস পায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ব্যাংক হার নীতি ও জমার হার পরিবর্তন নীতির মধ্যে জমার হার পরিবর্তন নীতি অধিক কার্যকর।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেয় বা প্রথম শ্রেণির বিল বা সিকিউরিটিজ বাট্টা করে, সেই হারকে ব্যাংক হার বলে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে খোলাবাজারে বন্ড, সিকিউরিটিজ, বিল, শেয়ার, ডিবেঞ্চার ইত্যাদি কেনা-বেচা করাকে খোলাবাজার নীতি বলে।
বাজারে অর্থের সরবরাহ বেশি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজারে জনগণকে শেয়ার, বন্ড, সিকিউরিটিজ ইত্যাদি কেনার আহ্বান জানায়। আবার অর্থ সরবরাহ কম হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনগণের কাছ থেকে শেয়ার, বন্ড, সিকিউরিটিজ ইত্যাদি ক্রয় করে। এতে ঋণের প্রবাহ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!