পাঁচরঙা পাতা অঞ্চলে গাঁথা, __ শূন্যস্থানে বসবে - 'পুষ্পে খচিত কেশ।'
উপেনের ঘরবাড়ি ছেড়ে পথে বের হওয়ার কারণ হলো মিথ্যা দেনার খতে ভিটেমাটি হারানো।
বাগানকে দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে সমান করার জন্য রাজা উপেনের দুই বিঘা জমি কিনে নিতে চান। কিন্তু উপেন সাত পুরুষের ভিটে মাটি ঐ দুই বিঘা জমি বিক্রি করতে রাজি হয় না। তাই জমিদার বাবু ষড়যন্ত্র করে উপেনের নামে মিথ্যা ডিক্রি করে এবং দেনার খতে উপেনকে সেই জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য করে। এ কারণেই উপেন ঘরবাড়ি ছেড়ে পথে বের হলো।
উদ্দীপক ও 'দুই বিঘা জমি' কবিতার মধ্যে দুজন মানুষের ভিটে হারানোর সাদৃশ্য বিদ্যমান।
জন্মভূমির প্রতি মানুষের ভালোবাসা সহজাত। জগৎসংসারে নানা সমস্যা সংকটে পড়ে মানুষকে তা ছাড়তে হলেও মন তার পড়ে থাকে প্রিয় সেই স্থানে। মানুষ তার জন্মভূমির প্রতি গভীর টান অনুভব করে স্মৃতিকাতর হয়। মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-পরিজন নিয়ে বসবাস করার স্থানের কথা মানুষ ভুলে থাকতে পারে না।
উদ্দীপকে সালেকের আশৈশব স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা দেশের উন্নয়নে সরকার অধিগ্রহণ করে। বাজারমূল্যের অনেক বেশি টাকা দিয়ে সরকার তা কিনে নিলেও সালেক তার মায়া ভুলতে পারে না। সেখানে তার বাবা, মা ও একমাত্র সন্তানের কবর রয়েছে। এসবের মূল্য তো তাকে কেউ দিতে পারবে না। এই ঘটনাটি 'দুই বিঘা জমি' কবিতার জমিদার কর্তৃক উপেনকে ভিটেছাড়া হওয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। জমিদার তার শখের বাগানের দৈর্ঘ্য-প্রস্থের মাপ সমান করতে উপেনের শেষ সম্বল দুই বিঘা জমি কিনে নিতে চায়। উপেন তাতে রাজি হয় না বলে জমিদার কৌশলে তাকে মিথ্যা দেনার ফাঁদে ফেলে ভিটাছাড়া করে। কিন্তু উপেন তার সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটির কথা ভুলতে পারে না। সে সব হারিয়ে সন্ন্যাসী বেশে সাধুর শিষ্য হয়ে পনেরো-ষোলো বছর দেশে-দেশে ঘুরে আবার সেই দুই বিঘা জমির কাছেই ফিরে আসে। উপেনের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত জন্মস্থানের প্রতি যে গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে তা উদ্দীপকের সালেকের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতার মধ্যে দুজন মানুষের ভিটে হারানোর সাদৃশ্য বিদ্যমান।
উদ্দীপকের সালেকের চেয়ে 'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেনের কষ্ট অনেক গভীর- মন্তব্যটি যথার্থ।
সমাজে ধনিকশ্রেণি দরিদ্রশ্রেণির ওপর নানাভাবে অত্যাচার, নির্যাতন চালায়। তারা হতদরিদ্র মানুষের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিতেও কুণ্ঠিত হয় না। তারা নিজেদের স্বার্থকেই বড় করে দেখে। নিম্নশ্রেণির নিরন্ন অসহায় মানুষের আহাজারিতে তাদের কঠিন হৃদয় বিগলিত হয় না। তারা অর্থ দিয়ে সবকিছু কিনে নিতে চায়।
'দুই বিঘা জমি' কবিতায় দুর্বলের প্রতি সবলের অত্যাচারের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে বাগানের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সমান করতে জমিদার বাবু দরিদ্র কৃষক উপেনের দুই বিঘা জমি কিনে নিতে চায়। কিন্তু সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত সেই জমি উপেন বিক্রি করতে চায় না। কারণ এটুকু জমিই তার শেষ সম্বল। জমিদার ষড়যন্ত্র করে দেড় মাসের মধ্যেই আদালতের হুকুমনামা দেখিয়ে উপেনকে ভিটেছাড়া করে। সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত ভিটা ছেড়ে উপেন পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। উপেনের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সঙ্গে উদ্দীপকের সালেকের মিল আছে। কিন্তু তার জীবনের করুণ দশার সঙ্গে সালেকের পার্থক্য বিদ্যমান। কারণ সালেকের বসতভিটা সরকার দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় অধিভুক্ত করেছে। এ জমির জন্য সালেক বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি টাকা পেয়েছে। কিন্তু উপেনের দুই বিঘা জমি জমিদার জোর করে কেড়ে নিয়েছে। এর জন্য উপেন কোনো টাকা পায়নি। দুই বিঘা জমি হারিয়ে উপেন সন্ন্যাসীবেশে দেশে-দেশে ঘুরেছে। উদ্দীপকের সালেককে তা করতে হয়নি।
'দুই বিঘা জমি' কবিতায় উপেন পনেরো-ষোলো বছর ধরে দেশে- দেশে ঘুরে অবশেষে তার শৈশবের ভিটেমাটিতে ফিরে এসে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। নিজের গাছের বাতাসে পড়া দুটো আম কুড়াতে গিয়ে মালির হাতে নির্যাতিত হয়েছে। জমিদার তাকে সাধুবেশে পাকা চোর বলে অভিহিত করেছে। উদ্দীপকের সালেককে এমন অপমানিত হতে হয়নি। সে দেশের কল্যাণের কথা ভেবে আশৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা ছেড়ে টাকা নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার পান।
'রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি' বলতে বোঝানো হয়েছে বিত্তবান লোকের প্রচুর সম্পদ থাকার পরও তারা দরিদ্রের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেয়।
ধনী ব্যক্তিরা কখনো অল্পে তৃপ্ত হয় না। আরও সম্পদের লোভে তারা সবকিছু করতে পারে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতা জমিদার উপেনের সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত জমির দখল নিতে চায়। কিন্তু উপেন দিতে না চাইলে জমিদার তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে সে জমি দখল করে নেয়। অর্থাৎ যার অনেক আছে সে আরও চায়। উপর্যুক্ত উদ্ধৃতির মধ্য দিয়ে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।
ক' হাউজিং সোসাইটির কার্যক্রমে 'দুই বিঘা জমি' কবিতার বাবু সাহেব চরিত্রের শোষক মানসিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
আমাদের সমাজে সবলেরা সব সময় দুর্বলের উপর অত্যাচার করে। এটাই যেন সমাজের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্বলদের শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে, এ অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে পারে না।
উদ্দীপকে মতিন মিয়ার ছোট্ট একটা চায়ের দোকানের পাশেই গড়ে উঠেছে 'ক' হাউজিং সোসাইটির বিশালাকার অ্যাপার্টমেন্ট। একদিন সকালে মতিন দেখতে পায়, তার দোকান অ্যাপার্টমেন্টের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে আটকে গেছে। উপায়ান্তর না দেখে রাস্তায় রাস্তায় ফ্লাস্কে করে চা বিক্রির মাধ্যমে সে সংসার চালায় আর উদাস দৃষ্টিতে অ্যাপার্টমেন্টের দিকে তাকিয়ে বেদনার নিশ্বাস ছাড়ে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতায়ও মিথ্যে মামলা দিয়ে জমিদার বাবু উপেনের জমি দখল করে নেয়। ভিটেছাড়া উপেন বাধ্য হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ায় সাধুর শিষ্য হয়ে। উভয় জায়গায় দরিদ্রের ওপর শোষকের অত্যাচার প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, 'ক' হাউজিং সোসাইটির কার্যক্রমে 'দুই বিঘা জমি' কবিতার বাবু সাহেব চরিত্রের শোষক মানসিকতার দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের মতিন 'দুই বিঘা জমির' শোষিত উপেনের সার্থক প্রতিনিধি, কারণ তারা দুজনই শোষিত।
দরিদ্র অসহায় লোকেরা সামান্য কিছু পেলেই খুশি হয়, আর বিত্তশালী ভূস্বামীরা যে সম্পদ আছে তার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করতে চায়। এমনকি গরিবের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিতেও তারা দ্বিধা করে না।
উদ্দীপকের মতিনের ছোট্ট চায়ের দোকানের পাশেই গড়ে উঠেছে 'ক' হাউজিং সোসাইটির বিশালাকার অ্যাপার্টমেন্ট। একদিন সকালে সে দেখে, তার দোকানটি অ্যাপার্টমেন্টের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে আটকে গেছে। মতিন বুঝতে পারে যে, তার পক্ষে আর কিছুই করার নেই। তার এত দিনের সম্বল হাতছাড়া হয়। এ শোষণের পরিণতিতে সে ফ্লাস্কে করে চা নিয়ে রাস্তায় নামে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে শোষক ও শোষিতের কথা। সমাজে একশ্রেণির লুটেরা বিত্তবান প্রবল প্রতাপ নিয়ে বাস করে। সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করে তারা সম্পদশালী হয়। কবিতার দরিদ্র কৃষক উপেন ঋণের দায়ে সব হারিয়েছে, বাকি আছে মাত্র দুই বিঘা জমি। অথচ জমিদার তার বাগান বাড়ানোর জন্য সেই জমিরও দখল নিতে চায়। সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত সেই জমি উপেন দিতে না চাইলে জমিদার মিথ্যে মামলা দিয়ে ঐ জমি দখল করে নেয়। উদ্দীপকের মতিন ও 'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেন দুজনেই শোষকদের হাতে শেষ সম্বল হারিয়ে পথে নামতে বাধ্য হয়। উপেন এবং মতিনের শোষিত হওয়ার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও বিষয় অভিন্ন। কাজেই একথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, উদ্দীপকের মতিন 'দুই বিঘা জমি' কবিতার শোষিত উপেনের সার্থক প্রতিনিধি।
'দুই বিঘা জমি' কবিতাটি পাঠের উদ্দেশ্য- শিক্ষার্থীদের শোষকশ্রেণির নিষ্ঠুর শোষণ ও গরিবদের দুর্দশা সম্পর্কে জানানো।
'চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো-জোর মরিবার মতো ঠাঁই' বলতে দুই বিঘা জমিই যে উপেনের শেষ সম্বল সে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেন একজন দরিদ্র কৃষক। জমিদারের বাগানের পাশে তার দুই বিঘা জমি রয়েছে। এই জমি তার পৈতৃক ভিটা। তার সাত পুরুষের জন্মস্থান। জমিদার তার বাগান দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে সমান করার জন্য উপেনের কাছ থেকে সেই জমি কিনে নিতে চায়। উপেন তখন জমিদারকে বলে যে, জমিদার তো ভূস্বামী তার ভূমির শেষ নেই কিন্তু এই দুই বিঘে জমিই তার শেষ সম্বল। তার সাত পুরুষের বসত ভিটের ঐটুকু ভূমিই তার শেষ আশ্রয়স্থল। তাই সে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!