দেশের বনভূমির পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বেসরকারি সংস্থা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে উপকূলীয় এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেয়। তাহের সাহেব সংস্থাটির বন বিষয়ক কর্মকর্তা হওয়ায় গাছ নির্বাচনের দায়িত্ব তাকেই নিতে হয়।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণে যে বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তাকে সামাজিক বনায়ন বলে।

উত্তরঃ

সমুদ্র উপকূলবর্তী লোনামাটির বনাঞ্চলকে উপকূলীয় বন বলে।
উপকূলীয় বনাঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ফুল ও ফলের গাছ জন্মে থাকে। মানুষের চলাচল কম থাকায় নির্বিঘ্নে মৌমাছিরা এ সকল গাছের ফুল থেকে রস সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা করে এবং মধু ও মোম উৎপাদন করে। উপকূলীয় বনাঞ্চল থেকে দেশের সিংহভাগ মধু ও মোম সংগ্রহ করা হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উত্তরঃ

তাহের সাহেবের দায়িত্বটি হলো গাছ নির্বাচন করা।
গাছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাকে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করতে হবে
i. উপকূলীয় বনায়নের জন্য বেশি এলাকা জুড়ে শিকড় বিস্তৃত থাকে এরকম গাছ নির্বাচন করতে হবে। এতে মাটি ক্ষয় রোধ করা সহজ হয়।
ii. উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য নির্বাচিত উদ্ভিদের পাতার কিউটিকল স্তর খুব পুরু হতে হবে। যাতে তীব্র খরায় উদ্ভিদ টিকে থাকতে পারে।
iii. উদ্ভিদের কাণ্ড যেন বেশ লম্বা ও শক্ত হয় এবং শাখা-প্রশাখা কম হয়। যার ফলে ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোনের মতো দুর্যোগ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে পারে। যেমন- নারিকেল, গজারি, খেজুর, তাল, ঝাউ, আকাশমনি, বাবলা, দেবদারু প্রভৃতি।
iv. লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু জাতের গাছ নির্বাচন করতে হবে।
অতএব, উপকূলীয় এলাকায় সঠিক গাছ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের বনভূমির পরিমাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের বেসরকারি সংস্থাটি উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করে।
পরিবেশগত দিক থেকে এ বনের উপযোগিতা নিম্নরূপ-
i. এ বনাঞ্চলের বৃক্ষরাজি উপকূল অঞ্চলের ভূমিক্ষয় রোধ করে, ভূমির উর্বরতা ও ভূ-নিম্নস্থ পানির স্তর বৃদ্ধি করে।
ii. ভূমির লবণাক্ততা হ্রাস করে পরিবেশ জীবকূলের বাস উপযোগী করতে সাহায্য করে।
iii. পরিবেশের অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় রাখে, উত্তাপ সৃষ্টি রোধ করে এবং বাতাস পরিশোধন করে।
iv. উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী উপকূলীয় অঞ্চলে সৃষ্ট সামুদ্রিক ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সাইক্লোনের কবল থেকে মানুষ ও জীবজন্তুকে রক্ষা করে।
v. ভূমিধ্বস, বালিয়াড়ি ও ঝড় রোধ করে এবং বৃষ্টিপাত হতে সহায়তা করে।
vi. এ বনাঞ্চল মানুষ, পাখি, জীবজন্তু ও পোকা-মাকড়ের নিরাপদ আবাস তৈরি ও রক্ষা করে এবং খাদ্যের যোগান দেয়।
vii. উপকূলীয় বনায়ন আমাদের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ সুন্দরবন ও এর জীবজন্তুকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং বলা যায় যে, পরিবেশগত দিক থেকে উপকূলীয় বন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

120

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বনভূমিতে গাছলাগানো, পরিচর্যা ও সংরক্ষণকে বলা হয় বনায়ন। বনায়নের ফলে বনভূমি হতে সর্বাধিক বনজ দ্রব্য উৎপাদিত হয়। বসতবাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও বাঁধের ধার, পাহাড়ি অঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিকল্পিত উপায়ে সৃজিত বনায়নকে বলা হয় সামাজিক বনায়ন ।

বাস উপযোগী পরিবেশ তৈরি ও তা সংরক্ষণে বনের ভূমিকা অপরিসীম । কোনো দেশের বা অঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে বড় বড় বৃক্ষরাজি ও লতা-গুল্মের সমন্বয়ে গড়ে উঠা বনকেই বনভূমি বলা হয়। এসব বনভূমি কখনো প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয় ও গড়ে উঠে । আবার কখনো মানুষ তার প্রয়োজনে বৃক্ষ রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে সৃষ্টি করে থাকে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের মোট আয়তনের তুলনায় বনভূমির পরিমাণ শতকরা ২৫ ভাগ হওয়া অপরিহার্য। কিন্তু আমাদের দেশে বনভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম । সরকারি হিসাব মতে বর্তমানে আমাদের দেশের বনভূমির পরিমাণ মাত্র ১৭ ভাগ । ইউনেস্কোর মতে বর্তমানে আমাদের দেশের বনভূমির পরিমাণ শুধুমাত্র ১০ ভাগ। এ অধ্যায়ে আমরা আমাদের দেশের বনাঞ্চলের বিস্তৃতি, ধরণ এবং বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানব। এছাড়াও বন সংরক্ষণ বিধি, বন নার্সারি, বন নার্সারির বীজ, বৃক্ষ কর্তন ও কাঠ সংগ্রহ এবং উপকূলীয় বনায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত জানব ।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা -

  • বাংলাদেশের বনাঞ্চলের ধরন ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বাংলাদেশের বনাঞ্চলের নাম উল্লেখ করতে পারব;
  • বিভিন্ন বনের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব;
  • বন সংরক্ষণ বিধি ব্যাখ্যা করতে পারব; বন সংরক্ষণ বিধির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বন নার্সারি ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বন নার্সারির বীজ সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
  • বন নার্সারি তৈরির কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বৃক্ষ কর্তনের নিয়মাবলি ব্যাখ্যা করতে পারব; তক্তা বা কাঠ সংরক্ষণের পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব;
  • গোল কাঠ বা তক্তা পরিমাপ পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব;
  • বৃক্ষ কর্তন ও কাঠ সংগ্রহের উপযোগিতা ব্যাখ্যা করতে পারব; উপকূলীয় বনায়নের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • উপকূলীয় বনায়নের জন্য ব্যবহৃত গাছের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব;
  • উপকূলীয় বনায়নের উপযোগিতা বিশ্লেষণ করতে পারব ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

যে স্থানে গাছের চারা উৎপন্ন করে রোপণের পূর্ব পর্যন্ত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তাকে নার্সারি বলে।

3.9k
উত্তরঃ

সুস্থসবল ও সুন্দর চারা পাওয়ার আদর্শ স্থান হলো নার্সারি।
বিরল প্রজাতির চারা উৎপাদনে ও বিলুপ্তি রোধে নার্সারি একান্ত অপরিহার্য। এমন অনেক বীজ রয়েছে যেগুলো গাছ থেকে ঝরে পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোপণ করতে হয়। তা না হলে অঙ্কুরোদগমের হার কমতে থাকে। যেমন-গর্জন, শাল, রাবার, তেলসুর প্রভৃতি। এসকল গাছের সুস্থ-সবল চারা নার্সারি থেকে আমরা সহজে পেতে পারি।

1.9k
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত জামান সাহেবের চারা উৎপাদনের জায়গার পরিমাণ ৪ শতক এবং ব্যবহৃত পলিব্যাগের আকার ১৫ সেমি × ১০ সেমি।

আমরা জানি,

১ একর = ৪০৪৬.২৪ বর্গমিটার

আবার, ১০০ শতক = ১ একর

সুতরাং, ১০০ শতক = ৪০৪৬.২৪ বর্গমিটার

∴ ১ " =.

∴ ১ "  =. × 

= ১৬১.৮৫ বর্গমিটার

= ১৬২ বর্গমিটার (প্রায়)

১৫ সেমি × ১০ সেমি আকারের পলিব্যাগের জন্য-

১ বর্গমিটারে প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা = ৬৫টি

∴ ১৬২ বর্গমিটারে প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা = (৬৫×১৬২) টি

= ১০,৫৩০টি

অতএব, জামান সাহেবের নার্সারির চারার সংখ্যা ১০,৫৩০টি।

1.2k
উত্তরঃ

জামান সাহেব তার বাড়ির দক্ষিণ দিকে পুকুর পাড়ে উঁচু ৪ শতক জমিতে মেনজিয়াম বীজ রোপণ করেন।
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শমতো তিনি নার্সারি তৈরির সকল কৌশল অবলম্বন, সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন।
নার্সারি সাধারণত আলো-বাতাসযুক্ত উঁচু স্থানে করতে হয়। স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি বাড়ির দক্ষিণ দিকে পুকুর পাড়ের উঁচু জমি নির্বাচন করেছিলেন যাতে বর্ষার পানি না উঠে বা জলাবদ্ধতা না হয়। চারা উৎপাদনের জন্য পলিব্যাগ ব্যবহার করেন। পলিব্যাগে চারা উৎপাদন সহজ, ব্যয় কম, রোগবালাই কম হয়, স্থানান্তর ও পরিবহন সহজ হয়। এছাড়াও তিনি সঠিকভাবে বেড তৈরি, মাটি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান, আগাছা পরিষ্কার, পোকামাকড় ও রোগ দমন করেন।
অর্থাৎ, যথাযথ পরিকল্পনা, উপযুক্ত পরামর্শ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন জামান সাহেবের সফলতার কারণ।

684
উত্তরঃ

কাঠের স্থায়ীত্ব দীর্ঘায়িত করার জন্য নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কাঠ থেকে পানি বের করে নেওয়ার পদ্ধতিকে বলে কাঠ সিজনিং।

2.2k
উত্তরঃ

বৃক্ষের চারা রোপণ থেকে শুরু করে বৃক্ষের সর্বাধিক বৃদ্ধি ও পরিপক্বতা লাভ করে ব্যবহার উপযোগী হওয়ার সময়কালকে আবর্তনকাল বলে।
গামার ও শিশু মাঝারি আবর্তনকালের উদ্ভিদ। কারণ, এদের কাঠ আংশিক শক্ত। খুঁটি ও কাঠ উৎপাদনের জন্য এদের ২০-৩০ বছর আবর্তনকালে কাটা হয়।

1.2k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews