মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্যদ্রব্য ও সেবাকর্ম উৎপাদন, বণ্টন এবং উৎপাদন ও বণ্টন সহায়ক বৈধ কার্যাবলিই হলো ব্যবসায়।
নিজস্ব বা ঋণকৃত স্বল্প সম্পদ ও মূলধন, নিজস্ব চিন্তাধারা, জ্ঞান, বুদ্ধি, শ্রম ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সীমিত ঝুঁকি গ্রহণ করে নিজ বা আত্মপ্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।
আত্মকর্মসংস্থান হচ্ছে মজুরি বা বেতনভিত্তিক চাকরির বিকল্প পেশার অন্যতম উপায়। আত্মকর্মসংস্থান পেশা বলতে বোঝায় যখন কোনো ব্যক্তি স্বীয় দক্ষতা বা গুণাবলির বলে সেবাদানের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করে জীবিকা চালায়। বলতে গেলে একটি দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার সিংহভাগই আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত।
জনাব শামীমের ব্যবসায়টি হলো প্রজনন শিল্প যা প্রাথমিক শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
প্রকৃতি থেকে সম্পদ সংগ্রহের সকল প্রক্রিয়াই প্রাথমিক শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। আর প্রজনন শিল্প হলো অন্যতম প্রাথমিক শিল্প। যে শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রী পুনরায় সৃষ্টিকার্যে ব্যবহৃত হয় বা পরবর্তীতে ভোগের উপযুক্ত পণ্য সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন শিল্প বলে। যেমন- নার্সারিতে সৃষ্ট চারা পরবর্তীতে গাছ বা ফলমূল উৎপাদন করে, পোল্ট্রি ফার্মে ডিম বা বাচ্চা উৎপাদিত হয় যার সব কিছুই পরবর্তী উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষের ভোগের উপযোগী পণ্যের সৃষ্টি করে থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব শামীম একটি পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপন করলেন। তিনি ফার্মে উৎপাদিত ডিম ও এক মাসের বাচ্চা বিক্রয় করে যথেষ্ট লাভবান হচ্ছেন। তার ফার্মের ডিম ও বাচ্চা পরবর্তীতে পুনরায় উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে পুনঃপুন উৎপাদন সম্ভব হয়। কিংবা পরবর্তীতে ভোগের উপযুক্ত পণ্য সৃষ্টি করে। তাই বলা যায়, জনাব শামীমের ব্যবসায়টি হলো প্রজনন শিল্প যা প্রাথমিক শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
জনাব শামীমের উদ্যোগটি দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে। কারণ মানুষের জীবিকা অর্জনের নানা উপায়ের মধ্যে ব্যবসায়ের অন্যতম শাখা শিল্প উল্লেখযোগ্য। উদ্যোক্তা তার উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষিত, অশিক্ষিত, দক্ষ- অদক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। উদ্দীপকের জনাব রাসেল পড়াশুনা সমাপ্ত করে একটি পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপন করেন। এতে তিনি একজন শিল্প স্থাপনকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
চাকরি করলে তিনি যে বেতন পেতেন তাই দিয়ে কোনো রকম জীবনযাপন করতেন। কিন্তু ব্যবসায় করে তিনি চাকরি থেকে বেশি আয় করছেন। উচ্চ শিক্ষিত হয়ে এমন ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণ করাতে তার সামাজিক মর্যাদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তার খামারে উৎপাদিত ডিম ও বাচ্চা বিক্রি করে তিনি বেশ লাভবান হচ্ছেন। ধীরে ধীরে তার ব্যবসা সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাছাড়া ব্যবসায়ের আয়তন বড় হলে সেক্ষেত্রে জনাব শামীমকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করতে হবে। এতে সমাজের আরও বেকার লোকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জনাব শামীম ভাবছেন যদি দেশের কর্মক্ষম যুবকদের মধ্যে ব্যবসায় ধারণার বিকাশ ঘটত তাহলে দেশের বেকারত্বের হার কমে যেত। শামীমের খামার থেকে যে সমস্ত বেকার যুবক এ ব্যবসায় সম্পর্কে দক্ষ হয়ে উঠবে তারা পরবর্তীতে নিজেরা পুঁজি বিনিয়োগ করে ব্যবসায় করে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তোলার পাশাপাশি আরও বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে। জনাব শামীমের শুধু মুনাফা অর্জনই একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, মানবসেবার উদ্দেশ্য নিয়েও তিনি এ ব্যবসায় পরিচালনা করছেন। তাই বলা যায়, জনাব শামীমের এ উদ্যোগ দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!