কুরআন-সুন্নাহর আইন বা নীতির সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান দেওয়াকে কিয়াস বলে।
– فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ আয়াতটি দারা আল - কুরয়ানের কিয়াসের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।আলোচ্য আয়াতের অর্থ হলো- 'অতএব, হে দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন মানুষেরা! তোমরা চিন্তা-গবেষণা কর' (সুরা আল-হাশর: ২)। এখানে চিন্তা-গবেষণা বলতে কোনো সমস্যার সমাধানে কুরআন- • হাদিসের গভীর অধ্যয়ন ও যুক্তিসম্মত বিচার-বিশ্লেষণকে বোঝানো হয়েছে। আর এর ভিত্তিতেই কিয়াস সাধিত হয়। তাই এ. আয়াতটি দ্বারা কিয়াসের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।
ইসলামি শরিয়তে কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য অপরিসীম। কিয়াস ইসলামি শরিয়তের অন্যতম উৎস। যেসব সমস্যার। সমাধান কুরআন, হাদিস ও ইজমাতে সরাসরি নেই, সেসব সমস্যার সমাধানে কিয়াস হলো শরিয়তের অন্যতম ভিত্তি। উদ্দীপকে ইসলাম শিক্ষার শ্রেণি শিক্ষক কিয়াসের কথাই বর্ণনা করছিলেন।
মানবজীবন ও সমাজ সতত পরিবর্তনশীল। পরিবর্তন ও বিবর্তনের ধারায় জগতে নিত্যনতুন এমন সব ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে, যা পূর্বে সংঘটিত হয়নি। ফলে নতুন সমস্যা ও জটিলতার উদ্ভব দেখা দেয়। এ মতাবস্থায় এ সমস্ত সমস্যার কোনো না কোনো হুকুম অবশ্যই নির্ধারণ করতে হয়। তাই নিরুপায় হয়ে ফিকাহবিদগণকে সেই দলিলহীন নতুন বিষয়টিকে ইসলামি শরিয়তের পূর্ববর্তী দলিল সম্পন্ন বিষয়ের সাথে বিবেচনা করে সভ্যতা ও সংস্কৃতির আলোকে নতুন হুকুম নির্ধারণ করতে হয়। ইসলামের সব বিষয় যথার্থভাবে গবেষণা করলেই এর সমাধান পাওয়া যায়। কেননা ইসলাম গতিশীল ও সর্বজনীন জীবন বিধান। কিয়াস আমাদের নতুন দিগন্তে প্রবেশের পদ্ধতি বলে দেয়। আধুনিক জীবনে আমরা এমন কতকগুলো বিষয়ের সম্মুখীন হই, যা রাসুল (স)-এর যুগে বা তৎপরবর্তী যুগে ছিল না। এসব বিষয়ে ইসলামের সঠিক বিধান আমরা কিয়াসের মাধ্যমেই পেয়ে থাকি। যেমন- রক্তদান, চক্ষুদান ও টেস্টটিউব বেবি ইত্যাদি। কিয়াসের সুযোগ না থাকলে ইসলাম সভ্যতার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করত এবং সীমিত পরিসরে ইসলাম সীমাবদ্ধ হয়ে যেত। কিয়াসের গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন- فَاعْتَبِرُوا يَا أُوْلِى الْأَبْصَارِ অর্থ: 'হে বিচক্ষণ জ্ঞানিগণ, তোমরা গভীর চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর' (সুরা হাশর: ২)।
পরিশেষে বলা যায় যে, ইসলামে কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা অপরিহার্য। এ কারণেই একে ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
রাসুল (স) কে মুয়াজ (রা) যে উত্তর দিয়েছিলেন তাতে কিয়াসের ইঙ্গিত বহন করে। কিয়াস শব্দের অর্থ: পরিমাপ করা, অনুমান করা বা তুলনা করা ইত্যাদি। মূল আইন যে যুক্তি বা ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত সে যুক্তির আলোকে উদ্ধৃত নতুন সমস্যার সমাধানে আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতিই কিয়াস। উদ্দীপকে এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে হযরত মুয়াজ (রা) এর কুরআন-হাদিসের পাশাপাশি নিজস্ব বিচার বুদ্ধির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে। বস্তুত মানবজীবন অত্যন্ত গতিশীল এবং পরিবর্তনমুখী। প্রতিনিয়ত এখানে নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব ঘটে। এসব সমস্যার প্রত্যক্ষ ও সরাসরি সমাধান কুরআন-হাদিসে না থাকা খুবই স্বাভাবিক। এসব সমস্যার ইসলামি শরিয়াভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবনের জন্য কিয়াস অত্যন্ত জরুরি। রাসুল (স) হযরত মুয়াজ (রা) কে ইয়েমেনের গভর্নর নিযুক্তকালীন জাকাত আদায়ের বিধান সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে মুয়াজের কিয়াস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত শুনে রাসুল (স) সন্তুষ্ট হন। এ কারণে পরবর্তী সময়ে সব মুজতাহিদ কিয়াসকে ইসলামি আইনের উৎস বলে সমর্থন দিয়েছেন। তাছাড়া মুসলিম জাতিকে আল্লাহ তায়ালা কিয়াস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِى الْأَبْصَارِ অর্থ: ‘হে দৃষ্টি শক্তিসম্পন্ন মানুষেরা“ তোমরা চিন্তা গবেষণা কর' (সুরা আল-হাশর: ২)। সর্বোপরি, কিয়াস ছাড়া ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা প্রমাণ করা সম্ভব হয় না। কেননা, কিয়াস ব্যতীত ইসলাম একটি গতিহীন ও সংকীর্ণ জীবনাদর্শে পরিণত হয়। যার পক্ষে সব দেশের ও সর্বকলের দাবি মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই ইসলামকে সর্বকালীন ও সর্বজনীন জীবনাদর্শে পরিণত করতে কিয়াসের ভূমিকা অপরিসীম।
Related Question
View Allযার উপর কিয়াস করা হয়, তাকে আছল বলে।
কিয়াস ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস হিসেবে কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা স্বীকৃত বলে এটি ছাড়া ইসলামকে সম্পূর্ণ জীবনব্যবস্থা বলা যায় না। কিয়াস ব্যতীত ইসলাম একটি গতিহীন ও সংকীর্ণ জীবনাদর্শে পরিণত হয়। ফলে সব দেশের ও সব কালের দাবি মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিয়াসই ইসলামকে সর্বকালীন ও সর্বজনীন জীবনাদর্শে পরিণত করে। এ কারণেই কিয়াসকে ইসলামি শরিয়তের উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং এটি ইসলামকে পূর্ণতা দান করেছে।
১নং প্রেক্ষাপটে রাকিবের পিতার উপদেশে ইসলামের দ্বিতীয় উৎস তথা হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। হাদিস অর্থ কথা বা বাণী। ইসলামি পরিভাষায়, হাদিস বলতে মহানবি (স)-এর বাণী, কর্ম ও মৌন সম্মতিকে বোঝায়। হাদিস হলো শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। এটি আল-কুরআনের মূলনীতিসমূহের বাস্তবরূপ ও ব্যাখ্যা। কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা যে জীবনবিধান ও আদর্শ উপস্থাপন করেছেন সাধারণ মানুষের পক্ষে সব সময় তা বোঝা সম্ভব নয়। সেজন্য এথেকে তাদের উপকৃত হওয়া কষ্টকর। হাদিসে কুরআনের বক্তব্যসমূহকে সর্বসাধারণের উপযোগী করে পরিবেশন করা হয়েছে। হাদিসকে তাই কুরআনের ব্যাখ্যা গ্রন্থও বলা হয়। মূলত কুরআন ও হাদিস দুটি ভিন্ন ভিন্ন গ্রন্থ হলেও একটি অপরটির পরিপূরক। হাদিস ছাড়া যেমন কুরআন বোঝা সম্ভব নয় তেমনি কুরআন ছাড়াও হাদিসের নিজস্ব কোনো মান নেই।
১নং প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, রাকিব ফজর নামাজের পর দৈনিক অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত করেন। এ প্রেক্ষিতে তার পিতা বলেন, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কুরআনের পাশাপাশি এর সম্পূরক শিক্ষা হিসেবে দ্বিতীয় উৎসও রীতিমত অধ্যয়ন করতে হবে। অর্থাৎ তিনি এখানে কুরআনের পাশাপাশি শরিতের দ্বিতীয় উৎস হাদিস অধ্যয়নের কথা বলেছেন। সুতরাং বলা যায়, রাকিবের পিতার উপদেশে হাদিস অধ্যয়নের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
২নং প্রেক্ষাপটে জনাব আবিরের কর্মটি হলো কিয়াস। যা কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে সমর্থনযোগ্য। কিয়াস শব্দের অর্থ পরিমাপ, অনুমান বা তুলনা করা। কিয়াস হলো ইসলামি আইন প্রবর্তনের একটি পদ্ধতি। মানুষের গতিশীল জীবনে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব ঘটে। এ সমস্যাগুলোর সমাধান সরাসরি কুরআন ও হাদিসে পাওয়া না গেলে সাদৃশ্যপূর্ণ বিধান দ্বারা নিজের বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধান করাই হলো কিয়াস।
২নং প্রেক্ষাপটে জনাব আবির কুরআন-হাদিস গবেষণা করে নিজের চিন্তা বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে আধুনিক যুগের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানকল্পে একটি পাণ্ডুলিপি রচনা করেন। এখানে কিয়াসের কথাই বলা হয়েছে। কিয়াস আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স) এর নির্দেশিত ও নির্বাচিত বিষয়। মুসলিম জাতিকে আল্লাহ তায়ালা فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ অথ ঃ 'অতএব, হে দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন মানুষেরা, তোমরা চিন্তা ও গবেষণা করো' (সুরা আল হাশর: ২)। আবার কিয়াস রাসুল (স) এর পছন্দনীয় পদ্ধতি। হযরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা) কে ইয়েমেনের বিচারক হিসেবে প্রেরণ করার সময় কীভাবে বিচার ফয়সালা করবে? এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুয়াজ (রা) কুরআন-হাদিসের পর নিজের ব্যক্তিগত গবেষণার আলোকে বিচার ফয়সালা করার কথা বলেন। তাঁর এ জবাবে রাসুল (স) অত্যন্ত খুশি হন।
পরিশেষে বলা যায় যে, কিয়াসের বিধান কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তাই আবিরের কাজটি কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে সমর্থনযোগ্য।
সময়কাল এবং ইজমা সংঘটনের প্রকৃতি বিবেচনায় ইজমার স্বতন্ত্র স্তরবিন্যাসই 'মারাতিবুল ইজমা'।
কিয়াস ইসলামি আইনের চতুর্থ উৎস। কুরআন-মাজিদে কিয়াসের স্বীকৃতি রয়েছে। ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে কিয়াস কোনো নতুন সংযোজন নয়। রাসুল (স)- এর যুগে কিয়াসের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে। তিনি নিজে কিয়াস করার জন্য সাহাবি (রা)-দের বিশেষ উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁর ইন্তেকালের পর সাহাবিগণ কিয়াসের স্বাধীন প্রয়োগের মাধ্যমে একে ইসলামি আইনের চতুর্থ উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ
অর্থ: হে চক্ষুষ্মাণগণ, তোমরা শিক্ষাগ্রহণ কর (সুরা আল-হাশর: ২)।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!