কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সচেতনভাবে পরিকল্পিত ও প্রণীত আর্থসামাজিক কর্মসূচিই উন্নয়ন পরিকল্পনা বা অর্থনৈতিক পরিকল্পনা।
একটি দেশের উন্নয়নের জন্য সুষ্ঠু ও সঠিক পরিকল্পনা অত্যন্ত সহায়ক। কারণ, সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষি শিল্প ও সেবা খাতে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়, সঠিক উৎপাদন কৌশল প্রয়োগের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, সময় নির্ধারণ করে প্রকল্প পরিচালনার ফলে তা লাভজনক হয়, বৈদেশিক অর্থের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পায় এবং সামগ্রিকভাবে দেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রূপকল্পটি বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ভিশন-২০২১ কে নির্দেশ করে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
সাধারণত ১০, ১৫, ২০ বা ২৫ বছর মেয়াদের ভিত্তিতে প্রণীত পরিকল্পনাকে 'দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা' (Long-term planning) বলা হয়। এ ধরনের পরিকল্পনাকে 'প্রেক্ষিত পরিকল্পনা'ও (perspective planning) বলা হয়। অবশ্য প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বলতে ১৫ বা ২০ বছরের মেয়াদের একটি মাত্র পরিকল্পনাকে বুঝায় না। বরং প্রেক্ষিত পরিকল্পনাকে চার বা পাঁচ বছরের কয়েকটি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় ভাগ করা হয়। এ ধরনের চার বা পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনাগুলোকে আবার বার্ষিক পরিকল্পনায় বিভক্ত করা হয়। এ ধরনের বিভাজন এমনভাবে করা হয়, যার ফলে অপেক্ষাকৃত স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বৃহত্তর কাঠামোতে যথাযথভাবে সংযোজন করা যায়।
উদ্দীপকেও রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা, যা সফলতার মুখ দেখেছে রূপকল্প ২০২১ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি বা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ভিশন-২০২১ এর মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উদ্দেশ্যসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো-
১। একটি ধর্ম নিরপেক্ষ, উদার, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন।
২। পরিবেশ বান্ধব উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ।
৩। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন।
৪। টেকসই মানব উন্নয়ন।
৫। জন্মসংখ্যা হ্রাসের মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ।
৬। একটি কার্যকর সামষ্টিক উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ।
৭। একটি অনুকূল শিল্পায়ন কৌশল ও সুষ্ঠু বাণিজ্য নীতি গ্রহণ। L
৮। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ।
৯। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
১০। পর্যাপ্ত অবকাঠামো সুবিধা সৃষ্টি।
১১। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন।
১২। বিশ্বায়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা।
সুতরাং দেখা যায়, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কৌশল প্রণয়নকালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (MDG), টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) ও সামাজিক উন্নয়নে অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারকে যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
Related Question
View Allউন্নয়ন পরিকল্পনা তিন প্রকার।
সাধারণত কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে যেসব কর্মসূচি, প্রকল্প ও লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে জাতীয় স্বার্থে সেগুলো অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে স্বল্প সময়ের মধ্যে এগুলো একত্রে বাস্তবায়ন সম্ব হয় না। তাই এসব কর্মসূচি, প্রকল্প ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। তাই বলা যায়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার সমষ্টি।
উদ্দীপকে রশিদের কাজের ধারা স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে নির্দেশ করছে।
এ ধরনের পরিকল্পনার মধ্যে এমন ধরনের কর্মসূচি, প্রকল্প ও লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেগুলো জাতীয় স্বার্থে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে দ্বি-বার্ষিক ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলোকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলা হয়। বাণিজ্যের প্রসার, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সেচব্যবস্থার প্রসার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন প্রভৃতি লক্ষ্য সামাজিক স্বার্থে স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্জন করা দরকার। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এক বছরের বেশি অথচ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সময়সীমা বিবেচনা করে এই পরিকল্পনা করা হয়। সুনির্দিষ্ট আর্থসামাজিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অনিশ্চয়তা হ্রাস করে। এ ধরনের পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথ ত্বরান্বিত করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোর সফলতা ও ব্যর্থতা মূল্যায়ন করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
অতএব বলা যায়, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা এমন কিছু পরিকল্পনা, যেখানে জাতীয় স্বার্থ অন্তর্নিহিত থাকে।
উদ্দীপকে রশিদের কাজের ধারা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাকে নির্দেশ করে। আবার ইউনুসের কাজের ধারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে নির্দেশ করছে। এ দুই ধরনের পরিকল্পনা দেশের উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত। নিচে এই দুই ধরনের পরিকল্পনার তুলনা করা হলো-
সাধারণ সময়সীমার মধ্যে কতগুলো সুনির্দিষ্ট আর্থসামাজিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলে। পক্ষান্তরে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য কোনো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্বাচন করে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বলে।
সাধারণত স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার সময় ১-৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। পক্ষান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মেয়াদ ১০-২৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ভেতর ব্যক্তির ক্ষুদ্রস্বার্থ বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। পক্ষান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থ ক্ষুদ্র স্বার্থ অপেক্ষা অগ্রাধিকার পায়। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা একটি অস্থায়ী পরিকল্পনা। এর মধ্যে অর্থনৈতিক অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত থাকতে পারে। পক্ষান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভেতর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহের স্থয়িত্ব, অস্তিত্ব, সঠিক কর্মদক্ষতা ও দিকনির্দেশনা থাকে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা অর্থনৈতিকভাবে কম কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা গ্রহণে সহায়ক। পক্ষান্তরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অর্থনৈতিকভাবে অধিক কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা গ্রহণে সহায়ক।
অতএব স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
পাঁচ বছরের বেশি অথচ সর্বোচ্চ পনেরো বছর পর্যন্ত সময়সীমার পরিকল্পনাই মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা।
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দেশে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় ১৯৭৩ সালে। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সরকারি খাতের ব্যয় বরাদ্দের ৮১% ও বেসরকারি খাতের ব্যয় বরাদ্দের ৪৯.১১% অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়। বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫.৫-এর স্থলে প্রকৃত বৃদ্ধি হয়েছিল ৪% হারে। বার্ষিক মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য ২.৫% ধরা হলেও পরিকল্পনা শেষে তা বার্ষিক ১.১% হারে বৃদ্ধি পায়। জিডিপির বার্ষিক ১৫.২% হারে সঞ্চয় আহরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সঞ্চয় আহরণের হার ছিল ৩.৯%।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!