মায়েরা ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের সন্তানদের হারান কবি তাই মনে করেন মায়ের সন্তান হারানো অশ্রুতে গড়া এই ফেব্রুয়ারি।
"এমন সময় ঝড় এলো এক, বাড় এলো ক্ষ্যাপা বুনো।"- চরণটির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আক্রমণকে বোঝানো হয়েছে।
'একুশের গান' কবিতায় ১৯৫২ সালে সংঘটিত ভাষা আন্দোলনে বাঙালি ছাত্র-জনতার আত্মোৎসর্গের স্মৃতি স্মরণ করা হয়েছে। কবি বলেছেন ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পথে পথে ছাত্ররা আন্দোলনে নামে। প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। সময়টি ছিল শীতের শেষ সময়। তখন হঠাৎ করেই ঝড় আসে। সে ঝড় উন্মাদ, বন্য। মূলত কবি আলোচা কবিতায় প্রশ্নোক্ত চরণটির মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনরত মিছিলে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর হঠাৎ আক্রমণ করাকে বুঝিয়েছেন।
উদ্দীপকে 'একুশের গান' কবিতার অধিকার আদায়ে বাঙালির অনমনীয় দৃঢ়তা এবং সংগ্রামী দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
নাঁরা প্রকৃত দেশপ্রেমিক তাঁরা দেশ ও দেশের প্রতিটি বিষয় ভালোবাসে। দেশের যেকোনো সংকটকালে তাঁরা দেশের জন্য জীবন বাজি রাখে। বাঙালিরা এমনই দেশপ্রেমিক জাতি।
'একুশের গান' কবিতায় কবি ভাষার জন্য বাঙালি ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ঘটনা তুলে ধরেছেন। পাকিস্তানি শাসকেরা এ দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ করতে চেয়েছিল। এই শোষকদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ছিনিয়ে আনে মাতৃভাষার মর্যাদা। তার জন্য জীবন দিতেও পিছপা হয় না বাংলার বীর সন্তানরা। উদ্দীপকেও বাঙালির স্বদেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার কথা বলা হয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য অনমনীয় দৃঢ়তা এবং সংগ্রামী মনোভাব। বাঙালিরা মৃত্যুকে ভয় পায় না। তারা মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে। দেশের জন্য জীবন পর্যন্ত বাজি ধরে। তাই আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার অধিকার আদায়ে বাঙালির অনমনীয় দৃঢ়তা এবং সংগ্রামী দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
না, উদ্দীপকটি 'একুশের গান' কবিতার বিষয়বস্তুকে পুরোপুরি প্রকাশ করতে সক্ষম হয়নি।
বাঙালি জাতি অন্যায়-অবিচারের সামনে কখনো মাথা নত করেনি। বাঙালি বীরেরা জীবন বাজি রেখে অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। তাঁদের ত্যাগ সব বাঙালির মনে চিরভাস্বর।
'একুশের গান' কবিতায় কবি বলেছেন যে, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই আন্দোলন বাঙালিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠার প্রেরণা জোগায়। দেশের জন্য আত্মত্যাগে অনুপ্রাণিত করে। উদ্দীপকে বাঙালির মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। বলা হয়েছে যাঁরা দেশের জন্য অস্ত্র ধরে যুদ্ধ করে তাঁরা ধন্য। তাঁরা লোভের জন্য ভিনদেশিদের কাছে নিজেকে বিকিয়ে দেয়নি।
উদ্দীপক ও 'একুশের গান' কবিতা উভয় জায়গায় বাঙালি বীর সন্তানের অনমনীয় দৃঢ়তা, সংগ্রামী মনোভাব ও অধিকার সচেতনার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু এই বিষয়গুলো ছাড়াও আলোচ্য কবিতায় আরও প্রকাশ পেয়েছে ছেলে হারানো মায়ের কষ্ট, প্রকৃতির বর্ণনা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান, শোষকের অত্যাচার-নির্যাতনের বর্ণনা ইত্যাদি, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার বিষয়বস্তুকে পুরোপুরি প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
Related Question
View All'একুশের গান' কবিতাটি ভাষাশহিদের স্মরণে লেখা হয়েছে।
'সেই আঁধারের পশুদের মুখ চেনা' চরণটিতে কবি পাকিস্তানি সেনাদের কথা বলেছেন।
১৯৪৮ সালে যখন সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা করা হয় তখনই আঘাত লাগে বাঙালির বুকে। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে তারা, শুরু হয় বাংলা ভাষা আন্দোলন। আন্দোলন ক্রমেই সংগঠিত হয়ে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তা প্রবল আকার ধারণ করে। সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে তৎকালীন সরকারের পুলিশ গুলি চালায়। এতে ছাত্র-জনতার অনেকে শহিদ হন। তাই কবি সেই শত্রুদের 'অন্ধকারের পশু' বলে অভিহিত করেছেন যাদের বাঙালি জাতি চেনে।
দ্বিতীয় উদ্দীপকের আলোকে বলা যায় 'একুশের গান' কবিতায় বর্ণিত 'ওরা এদেশের নয়' চরণটি উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির সত্তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। কারণ এই দিনেই বাঙালি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন বাংলার বীর সন্তানরা।
দ্বিতীয় উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতনের কথা। তারা বাঙালির ভাষার ওপর আঘাত করার মধ্য দিয়ে কেড়ে নিতে চায় বাঙালির বুকের স্বপ্ন। নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে বাঙালি সন্তানদের। তাঁদের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। 'একুশের গান' কবিতায় কবি বলেছেন, 'ওরা' এদেশের নয়। উদ্দীপকের 'ওরা' এবং আলোচা কবিতার 'ওরা' একই। ওরা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ওরা হত্যা করে এদেশের মানুষকে, ওরা এদেশের নয় বলেই এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে নির্বিকার চিত্তে। তাই আমরা বলতে পারি যে, দ্বিতীয় উদ্দীপকের আলোকে 'একুশের গান' কবিতায় বর্ণিত 'ওরা এদেশের নয়' চরণটি উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রথম উদ্দীপকের যিনি অভিযাত্রিক তিনিই 'একুশের গান' কবিতার ভাষা-শহিদ- মন্তব্যটি যথার্থ।
জাতীয় জীবনকে একটি স্বতন্ত্র মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার জন্য অমর একুশের সীমাহীন অবদানের কথা অবশ্য স্বীকার্য। বিশ্বে অকুতোভয় জাতির পরিচয়ে মাথা তুলে স্থান লাভের জন্য এ অনন্য দিনটির গুরুত্ব সর্বাধিক।
উদ্দীপকে দুঃসাহসিক অভিযাত্রিক দলের কথা বলা হয়েছে। তারা - সকল বাধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। তারা নির্ভীক, সাহসী, তারা তরুণ তাজা প্রাণ। তাদের চলার শেষ নেই। এ অভিযাত্রিকরা 'একুশের গান' কবিতার ভাষাশহিদের অনুরূপ। কারণ তারা পাকিস্তানিদের বুলেটের ভয় উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে গিয়েছে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে।
পাকিস্তানিদের রুদ্র মূর্তি তাদের আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে পারেনি। আত্মত্যাগের মাধ্যমে তারা মাতৃভাষা বাংলার অধিকার অর্জন করেছে।
ভাষাশহিদরা নির্ভীক। তাঁরা জাতির গর্বিত সন্তান। তাঁদের মহান আত্মত্যাগেই বাংলা ভাষা আজ রাষ্ট্রভাষার সম্মান লাভ করেছে। পাকিস্তানি পুলিশের বাধার মুখে জীবন বাজি রেখে তারা এগিয়ে গিয়েছে। উদ্দীপকের অভিযাত্রিক দলেরও সেই বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি যে, প্রথম উদ্দীপকের যিনি অভিযাত্রিক তিনিই 'একুশের গান' কবিতার ভাষাশহিদ- মন্তব্যটি যথার্থ
'একুশের গান' কবিতায় রজনীগন্ধা ফুলের কথা বলা হয়েছে।
'দারুণ ক্রোধের আগুনে আবার জ্বালব ফেব্রুয়ারি'- লাইনটিতে অন্যায়ভাবে গুলিবর্ষণকারী তৎকালীন পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির জাগ্রত প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে।
'একুশ' বাঙালির সংগ্রামী চেতনার প্রথম ধাপ। একুশের অর্জন বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে প্রেরণা জুগিয়েছে। বাঙালি একুশের চেতনা বুকে ধারণ করে স্বাধিকার আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসন ইত্যাদি ধাপ পার হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। একুশের চেতনার আগুন দিয়েই কবি সমস্ত অন্যায়, অবিচার নির্মূল করার কথা ব্যক্ত করেছেন প্রশ্নোক্ত লাইনটিতে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!