চার যুগের আচরণের জন্য শাস্ত্রে ধর্মকর্মের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে যুগধর্ম বলে।
হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে ধর্মের লক্ষণসমূহকে সাধারণ লক্ষণ ও বিশেষ লক্ষণ-এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
বেদঃ স্মৃতিঃ সদাচারঃ স্বস্য চ প্রিয়মাত্মনঃ।
এতচ্চতুর্বিধং প্রাহুঃ সাক্ষাৎ ধর্মস্য লক্ষণম্ । (২/১২)
অর্থাৎ, বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র, সদাচার ও বিবেকের বাণী- এ চারটি ধর্মের বিশেষ লক্ষণ। এ চারটিকে অনুসরণ করে কোনটি ধর্ম, কোনটি অধর্ম তা নির্ণয় করা যায়।
উদ্দীপকের সুরেন্দ্র বাবু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মানবজীবনের যে পর্যায়গুলোর কথা বলেছেন পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তা মানবজীবনের চারটি পর্যায় বা আশ্রমধর্মকে নির্দেশ করছে।
আশ্রমধর্ম হিন্দু সমাজের একটি বিশেষ দিক। প্রাচীনকালে ঋষিগণ মানবজীবনকে চারটি পর্যায়ে বিভক্ত করে দেখেছেন, যেমন- ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস। এ চারটিকে একত্রে বলা হয় চতুরাশ্রম। মানুষের আয়ুষ্কাল মোটামুটি একশ বছর ধরে পঁচিশ বছর করে সমান চার ভাগে ভাগ করা হয়। উদ্দীপকের ধর্মশিক্ষক সুরেন্দ্র বাবু প্রাচীনকালে ঋষিগণ কর্তৃক বিভাজিত মানবজীবনের চারটি পর্যায় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এটি আশ্রমধর্মের অন্তর্গত। মানবজীবনের প্রথম পঁচিশ বছরকে বলা হয় ব্রহ্মচর্য আশ্রম। এ সময় গুরুগৃহে থেকে বিদ্যা অর্জন করতে হয়। দ্বিতীয় পর্যায় পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত গার্হস্থ্য জীবন। এ সময় ব্রহ্মচারী গুরুগৃহ থেকে নিজগৃহে ফিরে বিবাহ সম্পন্ন করে সংসারধর্ম পালন করে। পঞ্চাশ বছর অতিক্রান্ত হলে সংসার ত্যাগ করে 'ধর্মানুশীলনের জন্য বনে যেতে হয়। এটি চলে পঁচাত্তর বছর পর্যন্ত। এ পর্যায়কে বলা হয় বানপ্রস্থ আশ্রম। শেষ পঁচিশ বছর হচ্ছে সন্ন্যাস আশ্রম। এ-সময় মানুষ তীর্থে তীর্থে ঘুরে বেড়ায় এবং ঈশ্বর চিন্তা করে। এ চারটি স্তরে নির্ধারিত কর্মই হচ্ছে আশ্রমধর্ম।
উদ্দীপকে শিক্ষকের উক্তিটি যা প্রশ্নে উল্লিখিত হয়েছে তা যথার্থ। হিন্দুধর্মের মতে, যুগ হচ্ছে চারটি- সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি। চার যুগের আচরণের জন্য, শাস্ত্রে ধর্মকর্মের যে নির্দেশ দেওয়া হয় সেটাই হলো যুগধর্ম। উদ্দীপকে শিক্ষক সুরেন্দ্র ব্যবুও হিন্দুধর্মানুযায়ী উক্ত চারটি যুগের শ্রেণিবিভাগের কথা উল্লেখ করেছেন। মানবসভ্যতা বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়কে ধরা হয় সত্যযুগ। এ যুগের মানুষ ছিল ধর্মপ্রাণ। তাদের জীবন ছিল সৎকর্মময়। তখন ধর্ম ছিল পূর্ণ, ষোল আনা। এরপরে আসে ত্রেতাযুগ। এ সময়ে মানব সমাজে কিছু কিছু অসত্য ও পাপের প্রকাশ ঘটে। তখন সমাজে ছিল এক ভাগ পাপ আর তিন ভাগ ধর্ম। সমাজে ধর্ম ও নৈতিকতার প্রভাব তখনও বেশি থাকায় অধর্ম দুর্বল হয়ে থাকে। পরবর্তী যুগকে বলা হয় দ্বাপর যুগ। এ সময়ে ধর্মের প্রভাব আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। অপরদিকে পাপ, অন্যায়, অত্যাচার বেড়ে যায়। এ সময় ধর্ম ও অধর্ম সমান সমান হয়ে যায়। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হয়ে সমাজের দুষ্কৃতিকারীদের বিনাশ, সৎ ব্যক্তিদের দুঃখ মোচন এবং ধর্ম সংস্থাপন করেন। এরপর আসে কলিযুগ, এ সময়ে ধর্মের অবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। অধর্ম তথা পাপকর্মের বৃদ্ধি ঘটে। মানুষের ধর্মবোধ হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এ অবস্থায় আবির্ভূত হন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভূ। তাঁর প্রচেষ্টায় সমাজে প্রেমভক্তির প্রবাহ সৃষ্টি হয়। সমাজজীবনে স্বস্তি ফিরে আসে। তাই বলা যায় যে, শিক্ষকের প্রশ্নোক্ত উক্তিটি নিঃসন্দেহে যথার্থ
Related Question
View Allবেদের মতামত ঠিক রেখে বেদের পরে সবরকম কর্তব্যকর্মের উপদেশ দিয়ে যে গ্রন্থ রচিত হয় তাকে স্মৃতিশাস্ত্র বলে।
যে ব্যক্তি ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেন তিনিই প্রকৃত ধার্মিক। ধর্ম সৃষ্টিকে বিশেষভাবে ধারণ করে আছে। সংক্ষেপে যা কিছু ধারণশক্তিসম্পন্ন তাই ধর্ম। একজন ধার্মিক ব্যক্তির মাঝে ধর্মের সব লক্ষণ উপস্থিত থাকে। ধর্মই তাকে প্রতি পদক্ষেপে রক্ষা করে। ধর্ম নষ্ট হলে মানুষ আর মানুষ থাকে না। ধার্মিক ব্যক্তি ধর্ম মেনে চলে এবং ধর্ম তাকে সর্বদা রক্ষা করে চলে।
সুবোধ ধর্মের বিশেষ লক্ষণ সদাচারকে অনুসরণ করেছে।
হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে ধর্মের লক্ষণসমূহকে সাধারণ লক্ষণ ও বিশেষ লক্ষণ এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র, সদাচার ও বিবেকের বাণী এ চারটি হলো ধর্মের বিশেষ লক্ষণ। এ চারটিকে অনুসরণ করে কোনটি ধর্ম, কোনটি অধর্ম তা নির্ণয় করা যায়। উদ্দীপকের সুবোধকে শ্রীরামকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণ করতে দেখা যায়। সে সকল ধর্মমতকে সম্মান করে। তার এরূপ আচরণের মধ্য দিয়ে ধর্মের যে বিশেষ লক্ষণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা হলো সদাচার। সৎ আচার = সদাচার। সৎ ব্যক্তিদের আচার-আচরণের মধ্য দিয়ে ধর্মের প্রকাশ ঘটে। বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্রের মাধ্যমে যদি ধর্ম ও অধর্ম নির্ণয় করা সম্ভব না হয় তবে সেক্ষেত্রে সমাজে মহাপুরুষদের আচার-আচরণ ও উপদেশ-নির্দেশ অনুসরণ করাই ধর্ম। উদ্দীপকে সুবোধকে শ্রীরামকৃষ্ণের অ্যদর্শ অনুসরণ করতে দেখা যায় বিধায় বলা যায়, সে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ সদাচারকে অনুসরণ করেছে।
হ্যাঁ, শ্রীকান্তের কাজটি অবশ্যই ধর্মসম্মত। কেননা সে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ বিবেকের বাণী অনুসরণ করে নিরপরাধ লোকের প্রাণ বাঁচিয়ে পুণ্য করেছে।
ধর্মের সাধারণ লক্ষণ বর্ণনার পর ধর্মের বিশেষ লক্ষণসমূহে বলা হয়েছে। এ সম্পর্কে মনুসংহিতায় বলা হয়েছে- বেদঃ স্মৃতিঃ সদাচারঃ স্বস্য চ প্রিয়মাত্মনঃ।
এতচ্চতুর্বিধং প্রাহুঃ সাক্ষাৎ ধর্মস্য লক্ষণম্ । (২/১২) অর্থাৎ, বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র, সদাচার ও বিবেকের বাণী- এ চারটি ধর্মের বিশেষ লক্ষণ। এ চারটিকে অনুসরণ করে কোনটি ধর্ম, কোনটি অধর্ম তা নির্ণয় করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সন্ত্রাসীদের তাড়া করা একজন নিরপরাধ মানুষ শ্রীকান্তদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সন্ত্রাসীদের কাছে মিথ্যা বলে শ্রীকান্ত লোকটির প্রাণ রক্ষা করে। এক্ষেত্রে শ্রীকান্ত তার বিবেকের বাণীকে কাজে লাগিয়েছে বলা যায়। বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র ও সদাচার অনুসরণ করেও যদি বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে ধর্ম-অধর্ম নির্ণয় করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে মানুষকে তার নিজস্ব বিবেকের আশ্রয় নিতে হয়। মানুষ বিবেকবান প্রাণী। তাই তাকে বিবেকবৃদ্ধি অবলম্বন করে জীবনপথে চলতে হয়। সর্বক্ষেত্রে ধর্মের নির্দেশ মেনে চলা মঙ্গলজনক নাও হতে পারে। যেমন- শাস্ত্রের নির্দেশ হচ্ছে সত্য বলা ধর্ম, আর মিথ্যা বলা পাপ। এ নির্দেশ সকল ক্ষেত্রে অনুসরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। যদি দেখা যায় মিথ্যা বললে একজন নির্দোষ মানুষের জীবন রক্ষা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে মিথ্যা বলাই ধর্ম। এরূপ ক্ষেত্রে সত্য বলা ধর্ম নয়। এমন জটিল পরিস্থিতিতে মানুষের অন্তরে অবস্থিত ঈশ্বর বা বিবেকের নির্দেশ নিয়ে ধর্মাধর্ম নির্ণয় করতে হয়। উদ্দীপকের শ্রীকান্ত এ নির্দেশই অনুসরণ করেছে। তাই তার কাজটি অবশ্যই ধর্মসম্মত।
ত্রেতা যুগের পরবর্তী যুগের নাম হলো দ্বাপর যুগ।
ধর্মের বিশেষ লক্ষণ বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র ও সদাচার অনুসরণ করেও যদি বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে, ধর্ম-অধর্ম নির্ণয় করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে মানুষকে তার নিজস্ব বিবেকের আশ্রয় নিতে হয়। মানুষ বিবেকবান প্রাণী। তাই তাকে বিবেকবুদ্ধি অবলম্বন করে জীবনপথে চলতে হয়। সর্বক্ষেত্রে ধর্মের নির্দেশ মেনে চলা মঙ্গলজনক নাও হতে পারে। যেমন- শাস্ত্রের নির্দেশ হচ্ছে সত্য বলা ধর্ম, আর মিথ্যা বলা পাপ। এ নির্দেশ সকল ক্ষেত্রে অনুসরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। যদি দেখা যায় মিথ্যা বললে একজন নির্দোষ মানুষের জীবন রক্ষা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে মিথ্যা বলাই ধর্ম। এরূপ ক্ষেত্রে সত্য বলা ধর্ম নয়। এমন জটিল পরিস্থিতিতে মানুষের অন্তরে অবস্থিত ঈশ্বর বা বিবেকের নির্দেশ নিয়ে ধর্মাধর্ম নির্ণয় করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!