ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব প্রকাশের মাধ্যম হলো স্টাইল।
স্টাইল বলতে বোঝায় ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তাধারাকে। ব্যক্তিবিশেষের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ডিজাইনই হলো স্টাইল। স্টাইলে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য লক্ষ করা যায়। এটি ব্যক্তির সৌন্দর্য বিকাশের গুপ্ত রহস্য। ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে স্টাইলের মাধ্যমে। ব্যক্তির আচরণ, গুণাবলি ও ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে স্টাইল। এটি ব্যক্তির নিজস্বতার পরিচায়ক এবং এর কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। এর মাধ্যমে মূলত একজন ব্যক্তির সৃজনশীলতাই প্রকাশ পেয়ে থাকে।
উদ্দীপকের পিয়ালী সেন স্টাইলের মাধ্যমে তার সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।
স্টাইল একজন ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তাধারাকে প্রকাশ করে। ব্যক্তির সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে স্টাইলের মাধ্যমে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব প্রকাশেও সহায়ক তার স্টাইল। এটি একজন ব্যক্তির মাঝে কেন্দ্রীভূত থাকে এবং ব্যক্তিভেদে স্টাইল আলাদা আলাদা হয়। উদ্দীপকের পিয়ালী সেন তাঁত এবং জামদানি ছাড়া অন্য কোনো ধরনের শাড়ি পরিধান করে না। এগুলো তার নিজস্ব স্টাইল। তার নিজস্বতা এবং ব্যক্তিগত অভিরুচি প্রকাশ পায় এর দ্বারা। স্টাইলের মাধ্যমে ব্যক্তির সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ব্যক্তিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা যায় তার স্টাইলের দ্বারা। এর মাধ্যমে ব্যক্তির অভিজাত সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। ব্যক্তির নিজস্ব কৌশল হলো তার স্টাইল। এটি তার সৃজনশীল ভাবনাকে প্রকাশ করে সাজ-পোশাকের মাধ্যমে উদ্দীপকের পিয়ালী সেনও তার সাজসজ্জার মাধ্যমে নিজের স্টাইলকে প্রকাশ করেছেন। আর এটিই তার সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ।
উদ্দীপকের শেষ বক্তব্যটি পিয়ালী সেনের ব্যক্তিগত রুচিবোধকে প্রকাশ করলেও ফ্যাশন কোনো ব্যক্তিবিশেষের মধ্যে কেন্দ্রীভূত না হওয়ায় এর এরূপ সীমাবদ্ধতা থাকে না।
ফ্যাশন ও স্টাইল শব্দ দুটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত হলেও দুটি বিষয় একদম আলাদা। ফ্যাশন ও স্টাইলের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্যও রয়েছে। স্টাইল একজন ব্যক্তির মাঝে কেন্দ্রীভূত থাকলেও ফ্যাশন সবাই গ্রহণ করে থাকে। উদ্দীপকের নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পিয়ালী সেন তার সাজ-পোশাকের মধ্যেই নিজস্ব স্টাইলের পরিচয় দেন। এগুলো তার ব্যক্তিগত বুচিবোধের পরিচায়ক। উদ্দীপকের শেষ বক্তব্যে এমনটিই বলা হয়েছে। কিন্তু ফ্যাশন বিষয়টি আলাদা। ফ্যাশন কখনো একজন ব্যক্তির মাঝে কেন্দ্রীভূত থাকে না। একজন ব্যক্তির স্টাইল যখন সবাই গ্রহণ করে তখন তা ফ্যাশনে রূপান্তরিত হয়। তাই ফ্যাশনের ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকে না। এটি সার্বজনীন। সমাজের চাহিদা ও মনোভাব থেকেই ফ্যাশনের উৎপত্তি হয়ে থাকে। উদ্দীপকের পিয়ালী সেন তার সাজসজ্জার মাধ্যমে নিজস্বতা এবং ব্যক্তিগত অভিরুচিকে তুলে ধরলেও ফ্যাশনের ক্ষেত্রে এরূপ নিজস্বতা তথা আত্মকেন্দ্রিকতার কোনো স্থাননেই। কেননা, ফ্যাশন স্টাইলের মতো সীমাবদ্ধতার অধীন নয়। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে বলা যায় যে, প্রশ্নের মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allস্টাইল হলো ব্যক্তি বিশেষের চিন্তা-চেতনা ও সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ।
ফ্যাশন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চক্রাকারে পরিবর্তিত হয়।
প্রথমে একটি ফ্যাশনের প্রবর্তন ঘটে, তা জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ধীরে ধীরে তার প্রচলন বৃদ্ধি পায়। এক সময় ফ্যাশনটির পতন ঘটে। পূর্বে যে ফ্যাশন ছিল তা আবার নতুন করে ফিরে আসে। অর্থাৎ ফ্যাশন একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে চক্রাকারে ঘুরে ঘুরে আসে।
সোহানার জামায় সজ্জামূলক ডিজাইন করা হয়েছে।
কোনো কিছু করার আগে যে পরিকল্পনা বা রূপরেখা চিন্তা করা হয় তাই ডিজাইন। ডিজাইন প্রধানত দুই প্রকারের হয়। যথা- গঠনমূলক ও সজ্জামূলক ডিজাইন।পহেলা বৈশাখে সোহানা সাদার উপর লাল এপ্লিক করে একটি জামা তৈরি করল। এটিকে সজ্জামূলক ডিজাইন বলে। এ ধরনের ডিজাইনের মাধ্যমে পোশাকের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। সজ্জামূলক ডিজাইন এমনভাবে করতে হবে যাতে বস্তুর বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং সেই সাথে বস্তুটি সুবিধাজনকভাবে ব্যবহার করা যায়। সজ্জামূলক ডিজাইন করার সময় লক্ষ রাখতে হবে যেন নকশার উপাদান ও নীতিসমূহ অনুসরণ করা হয়। যেমন- ব্যাগের ক্ষেত্রে মূল আকারের সঙ্গে মিল রেখে সজ্জামূলক ডিজাইনের আকার দেওয়া আবশ্যক। পোশাকে সূচী কাজ সজ্জামূলক ডিজাইন। সোহানা তার সাদা জামার উপর লাল এপ্লিক করে। এপ্লিক এক ধরনের সজ্জামূলক ডিজাইন। তাই বলা যায়, সোহানা তার জামায় সজ্জামূলক ডিজাইন করেছে।
সোহানার বস্ত্র নির্বাচন ও ক্রয় যথার্থ হয়নি বলে আমি মনে করি।
পোশাক নির্বাচন ও ক্রয় করার সময় আয়, পেশা, বয়স, পরিবারের সদস্য সংখ্যা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করতে হয়। তা না হলে পোশাক নির্বাচন ও ক্রয় ব্যর্থ হয়। সোহানা তার মায়ের জন্য একটি জামদানি শাড়ি কিনল। আর বাবার জন্য একটি জমকালো পাঞ্জাবি কিনল। এক্ষেত্রে তার পোশাক নির্বাচনটি সঠিক হয়নি। বয়স্কদের জন্য স্বাস্থ্যের অনুকূল ও বয়সের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক নির্বাচন করতে হবে। সেক্ষেত্রে তারা আরাম পাবে "এরকম পোশাক নির্বাচন ও ক্রয় করতে হবে। এজন্য সোহানার উচিত ছিল তার মা-বাবার জন্য হালকা রং এবং সাদাসিধা ডিজাইনের পোশাক কেনা। এছাড়া সোহানা তার ছোট বোনের জন্য একটি ফ্রক কেনে। কিন্তু ফ্রকটি সে পরতে পারল না। কারণ একেক বয়সে একেক রকম পোশাক উপযোগী। শিশুর পোশাক স্বাস্থ্যসম্মত, ঢিলেঢালা, ডিজাইন বিবর্জিত এবং উজ্জ্বল রঙের হতে হবে। কৈশোরে এবং যৌবনে পোশাক পরিধান করার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে সৌন্দর্য এবং ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলা। এজন্যে সাধারণত উজ্জ্বল রঙের, বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক ডিজাইনের পোশাক নির্বাচন করতে হয়। এসকল বিষয়ে লক্ষ না রেখে সোহানা তার ছোট বোনের জন্য ফ্রক কেনে। তাই সে ফ্রকটি পরতে পারল না। এছাড়া সোহানা পোশাক ক্রয়ের সময় অনেক অর্থ ব্যয় করে। ফলে তার বাবা আপত্তি করেন। কারণ পোশাক নির্বাচন ও ক্রয়ে প্রথমেই আয়ের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। পরিবারের আয় বেশি হলে বস্ত্র খাতে বরাদ্দ বেশি হবে। আর আয় কম হলে এ খাতে বরাদ্দ সীমিত হবে। সীমিত বাজেটে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে পোশাক যেন টেকসই এবং প্রচলিত ফ্যাশন উপযোগী হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, সোহানা উল্লিখিত বিষয়গুলো মেনে চললে তার পোশাক নির্বাচন ও ক্রয় যথার্থ হতো।
Yarn dying হলো তন্তু থেকে সুতা তৈরি হওয়ার পর একে রং প্রয়োগ করা।
কাপড়ের রং, প্রকৃতি, দাগের উৎস ও স্থায়িত্ব জানার পর দাগ যথাযথভাবে দূর করার কতগুলো সাধারণ নিয়ম রয়েছে।
কাপড়ে দাগ লাগাই মাত্রই তা দ্রুত দূর করার চেষ্টা করতে হবে। দাগ ওঠানোর সময় কাপড়ের প্রকৃতি ও ব্যবহার বিবেচনা করা উচিত। দাগের উৎস যদি অজানা থাকে তবে প্রথমে মৃদু অপসারক ব্যবহার করতে হবে। কাপড় অপসাপরক দ্রবণের মধ্যে বেশিক্ষণ ভিজিয়ে রাখা ঠিক নয়। সাদা ও রঙিন কাপড় থেকে আলাদা আলাদাভাবে দাগ অপসারণ করা উচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!