বায়ুপ্রবাহ, স্রোত, বৃষ্টিপাত এবং অন্যান্য কারণে ভূমির যে ক্ষয় হয় তাকে ভূমিক্ষয় বলে।
পানি মিশ্রিত গলিত শিলা আপন ভারে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামতে থাকে তখন তাকে ভূমিধস বলে।
অনেক সময় কঠিন শিলাস্তরে কোমল শিলা থাকে। ফাটলের মধ্যে পানি প্রবেশ করলে কোমল শিলা গলে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সাধারণত ভূ-আন্দোলন, ব্যাপক বৃষ্টিপাত, খাড়া ঢাল, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি প্রভৃতি কারণে ভূমিধস হয়।
পৃথিবীর যেকোনো দেশেই ভূমিক্ষয় একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানুষের দৈনন্দিন কাজের ফলে ভূমি ক্ষয় হয়। নিচে নিলয় চাকমার প্রতিবেদনের আলোকে ভূমিক্ষয়ের কতিপয় কারণ ব্যাখ্যা করা হলো। বায়ুপ্রবাহ যখন প্রবল বেগে সংঘটিত হয় তখন ভূমিক্ষয় হয়। সাধারণত শুষ্ক ঋতুতেই বেশি ভূমিক্ষয় হয়। ভূমি কর্ষণের পর যখন বায়ুপ্রবাহ শুরু হয় তখন নরম ও আলগা মাটি বাতাসের বেগে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। বাংলাদেশে গ্রীষ্ম ঋতুতে এ ধরনের ভূমিক্ষয় দেখা যায়। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যখন বন্যা হয়, তখন ভূমিক্ষয় হয়। বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। বনভূমি ধ্বংস হলে পানিস্রোত বুদ্ধ হতে পারে না। ফলে ভূমিক্ষয় হয়, বাংলাদেশের মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে বনভূমির বৃক্ষ কেটে উজাড় করে ফেলছে, তাই ভূমিক্ষয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় জুমচাষের ফলে মূল্যবান বনভূমি ধ্বংস হয় এবং ভূমিক্ষয় হয়। ফলে ঐ এলাকায় কোনো কোনো স্থানে ভূমিধস হয়। মাটি কাটা ও তা স্থানান্তরের ফলে ভূমিক্ষয় হয়। পরিশেষে বলা যায় বাংলাদেশে প্রতিবছর বিভিন্ন কারণে ভূমিক্ষয় হয়। ভূমিক্ষয়ের কারণে এদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তাই ভূমিক্ষয়ের কারণগুলো খুঁজে এর সমাধান বের করা - এখন অতি জরুরি।
বিভিন্ন কারণে ভূমির উপরিভাগ ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়াকে ভূমিক্ষয় বলে।।
বাংলাদেশেই শুধু নয় পৃথিবীর যেকোনো দেশেই ভূমিক্ষয় একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর ফলে বহু জমি, ঘরবাড়ি, পশুপাখি ইত্যাদি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তাই এ দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়ায় পথ খুঁজে বের করতে হবে। ভূমিক্ষয় রোধে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
ভূমিক্ষয় রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ হলো- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে ভূমিক্ষয় রোধ করা যায়। কোনো জমিই এ পদ্ধতিতে পতিত পড়ে থাকে না। ব্যাপকভাবে পশুচারণ করলে মৃত্তিকা আলগা হয়ে যায়, তাই নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পশুচারণ করলে ভূমিক্ষয় রোধ হয়। কোনো জমি চাষের পর খালি না রেখে পর্যায়ক্রমে চাষাবাদ করলে ভূমিক্ষয় কম হয়। ব্যাপক বনায়নের মাধ্যমে ভূমিক্ষয় রোধ করা যায়। বৃষ্টিপাতের ফলে এবং বাতাসের কারণে যে ভূমিক্ষয় হয় তা প্রতিরোধ করতে বনায়ন মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ঘাসের শিকড় মাটির বুনটকে দৃঢ় করে। তাই ঘাস ভূমিক্ষয় রোধ করে। এছাড়া বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে মাটি কাটা, বন ধ্বংস, জুমচাষ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। তবে এ ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও ব্যাপক ভূমিকা রাখতে হবে।
Related Question
View Allযান্ত্রিক, রাসায়নিক ও জৈবিক প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের শিলারাশি চূর্ণ-বিচূর্ণ বা বিশ্লিষ্ট হলে তাকে বিচূর্ণীভবন বলে।
সমুদ্রতলদেশের ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস, নভোজাগতিক ঘটনা প্রভৃতি কারণে সুনামির সৃষ্টি হয়।
সাধারণত সমুদ্রতলদেশের ভূমিকম্প আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের
সাধারণত সমুদ্রতলদেশের ভূমিকম্প আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সমুদ্রের তলদেশের বিশাল জলরাশি সরে যায় এবং সমুদ্রের পানিতে প্রচণ্ড ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় যা সুনামি নামে পরিচিত। এছাড়া পাত সঞ্চালনের কারণে সৃষ্ট ভূমিকম্পের কারণেও সমুদ্রের বিশাল জলরাশি সরে যায় এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা পানি আরও ফুলে ওঠে লক্ষ লক্ষ টনের বিশাল ঢেউ তৈরি করে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসে যা সুনামি নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে বিবিসি এর প্রচারিত দুর্যোগটি হলো ভূমিকম্প।
ভূঅভ্যন্তরে দ্রুত বিপুল শক্তি বিমুক্ত হওয়ায় পৃথিবীপৃষ্ঠে যে ঝাঁকুনি বা কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকল্প বলে। নিচে ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার কারণ বর্ণনা করা হলো- ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ভূনিম্নস্থ শিলাস্তরে ভারের সামঞ্জস্য রক্ষার্থে ফাটল ও ভাঁজের সৃষ্টির ফলে ভূকম্পন অনুভূত হয়।
ভূআলোড়নের ফলে ভূত্বকের কোনো স্থানে শিলা ধসে পড়লে বা শিলা চ্যুতি ঘটলে ভূমিকম্প হয়। আবার সমগ্র পৃথিবী ৭টি প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত এবং এসব প্লেট সঞ্চরণশীল। যার কারণে একটি প্লেটের সাথে অন্য প্লেটের সংঘর্ষ বা ধাক্কা লাগে এবং শিলাস্তরের মধ্যে কম্পন অনুভূত হয়। জাপানের পূর্ব পার্শ্বে একটি প্লেট থাকায় এখানে ভূমিকম্প বেশি অনুভূত হয়। তবে মূলত প্লেটগুলোর সঞ্চরণশীলতার কারণেই শিলাস্তরের মধ্যে কম্পনের সৃষ্টি হয়, যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে হারিস সাহেবের পরের দিন দেখা দুর্যোগটি হলো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভা উপরের দিকে ওঠে এবং বহুদূরে লাভার ঢল ছড়িয়ে পড়ে বহু নগর, গ্রাম ইত্যাদি ধ্বংস করে। এর দাহ্য ও বিষাক্ত গ্যাস উদগিরণে নিকটবর্তী এলাকার হাজার হাজার লোকের নিমেষে প্রাণহানি হয়। অনেক সময় আগ্নেয়গিরি থেকে উদগীরিত লাভা, ভস্ম ও ধূলিকণা আকাশের উপরের দিকে স্ট্রাটোমণ্ডলে ওঠে যায় এবং তা দ্রুত পৃথিবীপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পৃথিবীপৃষ্ঠে আবার যেসব আগ্নেয়গিরি উঁচু পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত সেসব পর্বত বরফে ঢাকা থাকলে অগ্ন্যুৎপাতের সময় তা গলে পাদদেশীয় এলাকায় বন্যার সৃষ্টি করে ও জীবনহানি ঘটে এবং বায়ুদূষণের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপটিও অগ্ন্যুৎপাতের ফলেই সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ শুধু তাই নয়, এর ফলে মালভূমিও সৃষ্টি হয়। লাভার সাথে অত্যন্ত মূল্যবান খনিজ ভূপৃষ্ঠে ওঠে আসে। ফলে উক্ত এলাকা খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হয়।
ভূগর্ভস্থ গলিত লাভা, বাষ্প, ভস্ম, গ্যাস, ধূম্র প্রভৃতি পদার্থ ভূপৃষ্ঠের ফাটল বা ছিদ্রপথের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে নির্গত হলে তা জমাট বেঁধে যে পদার্থ বা গিরির সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয়গিরি বলে।
ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন সৃষ্টিকারী শক্তিসমূহের মধ্যে ধীর পরিবর্তন অন্যতম। ধীরগতির শক্তিসমূহের ভূমিরূপের পরিবর্তন দীর্ঘ সময় ব্যাপি সংঘটিত হয়। ধীর গতির শক্তিসমূহ প্রধানত প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এ প্রাকৃতিক শক্তিসমূহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্নভাবে কাজ করে। ধীরগতির শক্তিসমূহ চারটি প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয় যেমন-
১. বিচূর্ণীভবন,
২. অপসারণ,
৩. নগ্নীভবন ও
৪. অবক্ষেপণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!