পাইক্যার একচেটিয়া চালক মংডুর স্থানীয় মুসলমানরা।
মিয়ানমারের সীমান্ত শহর মংডুর পথে নেমে আনন্দে লেখকের হৃদয় অচেনা আবেগে উপচে পড়ল সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে চারপাশের নতুন পরিবেশ দেখে।
আমাদের বাংলাদেশের পূর্ব দিকের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। এই মিয়ানমারের মংডু শহরের পথে নেমেই লেখকের হৃদয় অচেনা আবেগে উপচে পড়ল। কারণ প্রথমত অপরিচিত একটি দেশ মিয়ানমার যা দেখার ইচ্ছা লেখকের অনেক দিনের। দ্বিতীয়ত সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লেখকের হৃদয় কাড়ে। এ দুটোকে জানার ও দেখার আনন্দে লেখকের হৃদয় অচেনা আবেগে উপচে পড়ল।
বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতাগুলো যেমন নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল, মিয়ানমারও তেমনি।"- এখানে মূলত মিয়ানমারের অঙ্গরাজ্য আরাকান সম্পর্কে বলা হয়েছে।
প্রাচীন সভ্যতাগুলো মূলত নদীর তীরেই গড়ে উঠত। নদীর তীরে গড়ে ওঠার কারণ হলো বাণিজ্য। প্রাচীনকালে বেশিরভাগ বাণিজ্যই হতো নদীপথে। তাই দেখা যায় যে, পৃথিবীর বড় বড় নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছে নদীতীরবর্তী স্থানে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতাগুলো যেমন-নওগাঁর পাহাড়পুর, বগুড়ার মহাস্থানগড়, কুমিল্লার লালমাই পাহাড় এবং নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর নদী তীরে অবস্থিত। মাটি ও মানুষের সঙ্গে নদীর গভীর যোগ বলেই এই প্রাচীন সভ্যতাগুলো গড়ে উঠেছিল নদীর তীরে। 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনিতেও প্রাচীন আরাকান রাজ্যের সঙ্গে নদীর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে পারি। আরাকান রাজ্যের ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন রাজধানী হলো ম্রাউক-উ। এই রাজধানী ফেনী নদীর তীরবর্তী। মূলত বাণিজ্যের সুবিধার জন্য এই প্রাচীন নগরগুলো নদীতীরে অবস্থিত। তাই বলা যায় যে, বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতাগুলো যেমন নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল, মিয়ানমারও তেমনি।
"ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ একটি দেশের নানা বিষয় সম্পর্কে, জানতে পারে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
কোনো দেশকে জানার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সেই দেশে ভ্রমণ। ভ্রমণপিপাসু মানুষ তাই মনের খোরাক মেটাতে যুগ যুগ ধরে ঘুরছে। এই ভ্রমণের মাধ্যমে তারা উপভোগ করতে পারে একটি দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জানতে পারে দেশটির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে।
'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনিতে লেখকের ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় এ সত্যের প্রতিফলন ঘটেছে। মিয়ানমারের মংডু শহর ভ্রমণের মাধ্যমে লেখক জানতে পেরেছেন সেখানকার মানুষের খাদ্যাভ্যাস, ব্যাবসা-বাণিজ্য, পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কে। অন্যদিকে উদ্দীপকে বলা হয়েছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের কথা, বাংলাদেশের প্রাচীন নগরীগুলোর কথা। বাংলাদেশ ভ্রমণের মাধ্যমেই অন্য দেশের একজন মানুষ এগুলো সম্পর্কে জানতে পারে।
ভ্রমণে মানুষ চোখ দিয়ে দেখে, হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করে সমৃদ্ধ করে তার অভিজ্ঞতার ভান্ডার। এর মাধ্যমেই সে জানতে পারে একটি দেশ সম্পর্কে, সেই দেশের বিচিত্র সব জিনিস সম্পর্কে। উদ্দীপক ও 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনিতে ভ্রমণের এ দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allসেলাইবিহীন লুঙ্গির মতো বস্তুটির নাম চীবর।
"ব্যান্ডেল রোড তাদের স্মৃতি বহন করছে" বলতে পাদরি ও পর্তুগিজদের বসবাসের স্মৃতির কথা বোঝানো হয়েছে।
মংডু টেকনাফের ওপারে, মাঝখানে নাফ নদী। এটি পার হয়ে ব্রিটিশ যুগের বহু আগে থেকেই চট্টগ্রামে অনেকে এসেছেন। পাদরি মেস্ট্রো সেবাস্টিন মানরিক সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে এ পথে আসেন। তারও একশ বছর আগে পর্তুগিজরা চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করে। তারা নিজেদের বসতির জায়গাকে ব্যান্ডেল বলত। মংডু ও চট্টগ্রামের যোগাযোগের মাধ্যম রাস্তাটি অর্থাৎ ব্যান্ডেল রোডটি সেই পাদরি ও পর্তুগিজদের স্মৃতি বহন করছে।
উদ্দীপক-১-এ 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম নারকেল গাছ এবং মংডুদের খাবারের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
প্রতিটি দেশে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। তবে ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ নিজের দেশের সাথে ভ্রমণরত দেশের সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য বুঝতে পারে।
'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনিতে দেখা যায়, মংডুর অধিবাসীদের বাড়ির সামনে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে নারকেল গাছ। বাড়ির সামনের নারকেল গাছটির গোড়ার দিকে মাথা সমান উঁচুতে রয়েছে অর্কিড। তাতে রঙিন ও সাদা ফুল ফোটে। উদ্দীপক-১ এ শ্রীলংকার অস্তিত্বের সঙ্গে নারকেলের জড়িয়ে থাকার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। উদ্দীপক-১-এ নারকেলতেল ছাড়া শ্রীলংকানরা রান্না করে না এবং রান্নায় প্রচুর মসলা এবং লাল মরিচ ব্যবহার করে। এই বিষয়টি চাকমা-মারমারা যে ধানিলঙ্কা পুড়িয়ে নুন ও পেয়াজ দিয়ে ভর্তা করে, ভ্রমণকাহিনির সেই বিষয়ে বর্ণনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক-১ এ 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিষয়টি এবং খাবারের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা 'পদ্মাবতী'।
"লুঙ্গি, ফুঙ্গি ও প্যাগোডা- এই তিন নিয়ে মিয়ানমার।"ー উক্তিটি দ্বারা লেখক বুঝিয়েছেন যে, মিয়ানমারের সর্বত্রই লুঙ্গি, ফুঙ্গি ও প্যাগোডা দেখা যায়।
মিয়ানমারের নারী-পুরুষ সবাই লুঙ্গি পরে। মেয়েরা লুঙ্গির সাথে ব্লাউজ পরে, আর পুরুষরা লুঙ্গির সাথে জামা পরে। ফুঙ্গিরা হলেন বৌদ্ধ ভিক্ষু। তাদের পেশা হলো ভিক্ষা করা এবং ধর্ম প্রচার করা। আর প্যাগোডা হলো বৌদ্ধদের প্রার্থনার স্থান। মিয়ানমারে এগুলো বেশি রয়েছে এবং বেশি দেখা যায়। তাই আলোচ্য কথাটি লেখক বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!