তপোবন' প্রেমিক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
পরোপকারী জীবনচর্চার মাধ্যমে নীরব ভাষায় বৃক্ষ আমাদের সার্থকতার গান শোনায়।
পরার্থে আত্মনিবেদনের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হচ্ছে বৃক্ষ। বৃক্ষের বিকাশ, পরিপূর্ণতা ও সার্থকতার পেছনে রয়েছে নীরব সাধনা এবং পরোপকারের সুমহান ইঙ্গিত। অপরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখে বৃক্ষ সবসময় মৌনভাবে দায়িত্ব পালন করে যায়। এভাবেই নিভৃতে পরোপকারী জীবনচর্চার মাধ্যমে বৃক্ষ আমাদের সার্থকতার গান শোনায়।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক পরার্থে নিবেদিত মহৎ প্রাণের কথা বলেছেন, যা উদ্দীপকের কবিতাংশেও উঠে এসেছে।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে দেখা যায়, বৃক্ষ ফুলে-ফলে ভরে উঠে নিজেকে সার্থক করলেও অন্যকে তা দান না-করা পর্যন্ত সে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে না। মানুষের জীবনও তখনই সার্থক ও পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন সে অপরের কল্যাণে আত্মত্যাগের এক মহান জীবনবোধে উন্নীত হয়। আর আত্মবিকাশ ও আত্মত্যাগের মহান ধর্মে উজ্জীবিত জীবন শুধু বৃক্ষের জীবনসাধনার দিকে গভীর দৃষ্টিপাত করেই পাওয়া সম্ভব বলে লেখক মনে করেন।
উদ্দীপকে কবি পরার্থে নিবেদিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। নদী নিজের জল নিজে পান করে না, বৃক্ষ নিজে তার ফল খায় না, গাভি নিজে তার দুধ খায় না। আবার কাঠ নিজে জ্বলে অন্যকে অন্ন দেয়, স্বর্ণ নিজ রূপে অন্যের শোভাবর্ধন করে, বংশী নিজ স্বরে অন্যকে মোহিত করে। অর্থাৎ নিজের যা কিছু আছে তা অন্যকে বিলিয়ে দেয়। সংসারে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করার চিন্তা করে না বরং অপরের সার্থকতায় বাধা সৃষ্টি করে। একইভাবে আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক পরার্থে নিবেদিত বৃক্ষের জীবনসাধনা মানবজীবনে প্রত্যাশা করেছেন। সুতরাং বলা যায়, 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধ এবং উদ্দীপকের কবিতাংশে পরার্থে আত্মনিবেদনের দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের মূলবক্তব্য হলো, বৃক্ষের বিকশিত হয়ে ওঠার নীরব সাধনা ও ত্যাগ, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায়। কারণ বৃক্ষ যুগপৎ প্রাপ্তি ও দানের আদর্শ। ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে অপরের কল্যাণে আত্মনিবেদন করাই বৃক্ষের ধর্ম। বৃক্ষের মতো এমন প্রেম, সৌন্দর্য ও উদারতা নিয়ে বিকশিত হতে পারলেই বিবেকবান, পরিপূর্ণ ও সার্থক মানুষ হওয়া সম্ভব।
উদ্দীপকে কবি পরার্থে নিবেদিত নানা অনুষঙ্গের কথা তুলে ধরেছেন। প্রকৃতিতে মহত্ত্বের অনেক উদাহন্ত্রণ রয়েছে, যারা পরের কল্যাণেই শুধু নিজেকে নিয়োজিত করতে জানে। কেননা, ত্যাগের মাঝেই তারা খুঁজে পায় জীবনের সার্থকতা। এসব মহৎপ্রাণ সৃষ্টির কারণেই প্রকৃতিতে স্থিরতা, প্রশান্তি ও সৌন্দর্য বিরাজমান। কবি সেই সৌন্দর্যকে অবলম্বন করেই উদ্দীপকের কবিতাটি রচনা করেছেন।
এতে। কারণ, বৃক্ষের যতটা প্রাপ্তি, ততটাই তার দান। আবার প্রবন্ধে মানবজীবনকে নদীর সঙ্গে তুলনা না করে বৃক্ষের সাথে তুলনা করার ঐ দিয়েছেন। বৃক্ষের সাধনা নীরব বলে প্রাবন্ধিক মত দিয়েছেন। উদ্দীপকেও কবি পরার্থে নিবেদিত অনুষঙ্গের বর্ণনা দিয়েছেন। সেদিক কে উদ্দীপক আলোচ্য প্রবন্ধের একটা অংশকেই প্রকাশ করে, সামগ্রিককে নয়। কেননা, উদ্দীপকে ভিন্ন ভিন্ন সৃষ্টির দানের কথা বর্ণিত হহে। কিন্তু আলোচ্য প্রবন্ধে শুধু বৃক্ষের দানের কথাই বণিত হয়নি বরং বৃক্ষের দানের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রকে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাপাশি এ জীবনের জন্য বৃক্ষের এ দানকে কীভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব তাও লেখক তুলে ধরেছেন, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। সুতরাং সার্বিক বেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকের চেতনা ও 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের চেতনা সামগ্রিক দৃষ্টিতে এক নয়।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!