নন্দিতা পুরাণগ্রন্থ পাঠ করে কর্মজীবন ও. নৈতিক শিক্ষা লাভের মাধ্যমে নীতিবান হবে।
প্রাত্যহিক এবং সামাজিক জীবনে পুরাণের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীন ঐতিহ্যে পুরাণগুলো ধর্মশাস্ত্রের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত। পৌরাণিক ধর্মমতে সত্য, অহিংসা, ক্ষমা, শান্তি ও ত্যাগ মানুষকে শ্রেষ্ঠতম আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। আর এসব গুণকে উপজীব্য করেই নানা গল্প, উপাখ্যানের মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর করার উপদেশাবলি রয়েছে পুরাণ শাস্ত্রে। সে সমস্ত উপদেশাবলি আমাদের নীতিবোধকে সজাগ করিয়ে দেয়। ধর্মের পথে চলতে সহায়তা করে। সবসময় ঈশ্বরকে স্মরণ করা কর্তব্য। তাহলে পাপ আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না। পুণ্যপথে থাকলে মৃত্যুর পর আমরা স্বর্গের বিষ্ণুলোকে গমন করতে পারব। চিরন্তন বৈদিক আদর্শ, একেশ্বরবাদ, লৌকিক আচারনিষ্ঠা, জাতিভেদের সংস্কার থেকে মুক্তি প্রভৃতি পুরাণে আলোচনা করা হয়েছে। দক্ষযজ্ঞ অশ্বমেধ যজ্ঞ, মহিষাসুর বধ সহ কত বর্ণাঢ্য জীবনের উত্থান-পতনের কথা যে পুরাণে বর্ণিত রয়েছে তা বলে শেষ করা যায় না। সেসব বীরত্বপূর্ণ কাহিনী জীবনকে সুন্দর ও পরিপাটি করে গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা দেয়। পুরাণ পাঠের এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলির মাধ্যমে নন্দিতা নীতিবান হয়ে উঠবে।
Related Question
View Allশ্রীশ্রীচণ্ডীতে সাতশ মন্ত্র আছে।
শ্রীশ্রীচণ্ডী স্বতন্ত্রভাবে রচিত হয় নি। এটি হচ্ছে মার্কন্ডেয় পুরাণের একটি অংশ। মার্কন্ডেয় পুরাণের ৮৩ থেকে ৯৫ পর্যন্ত ১৩টি অধ্যায়ের নাম চণ্ডী। এ কারণে শ্রীশ্রীচণ্ডী পুরাণের অন্তর্গত।
অনেককাল আগে দেবতাদের রাজা ইন্দ্র ও অসুরদের রাজা মহিষাসুরের মধ্যে স্বর্গরাজ্য দখলকে কেন্দ্র করে এক ভয়ানক যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে দেবতারা অসুরদের সাথে হেরে যান। যুদ্ধে হেরে গিয়ে দেবতারা আর স্বর্গে বসবাস করতে পারলেন না। তারা বিতাড়িত হলেন স্বর্গরাজ্য থেকে। রাজা মহিষাসুর স্বর্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত করে যাবতীয় সন্ত্রাসী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড।
উদ্দীপকের আলোচনায় আমরা জানতে পারি, সঞ্জয় একজন দুর্ধর্ষ ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির। সবার সাথে সে দুর্ব্যবহার করে। স্বার্থে আঘাত লাগলে সে মারধর পর্যন্ত করে। কিন্তু মহিষাসুর ছিল দৈত্যদের রাজা এবং তার সাথে যুদ্ধ বাধে দেবতাদের। পক্ষান্তরে, সঞ্জয় একজন মর্ত্যের মানুষ এরং সে ঝগড়া করে মানুষের সাথে। এক্ষেত্রে একজন হচ্ছে মর্ত্যবাসী অন্যজন স্বর্গবাসী। তাই উভয়ের মধ্যে মিল থাকলেও যথেষ্ট পার্থক্যও পরিলক্ষিত হয়।
শ্রীশ্রীচণ্ডীর শিক্ষা দেবজিৎ-এর চরিত্রে অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছে। কথাটি আংশিক মিল রয়েছে।
পৃথিবীতে দুষ্ট বা অসৎ মানুষ একসময় ধ্বংস হবেই আর সাধু ও সৎ মানুষ টিকে থাকবে নিজের সততার মধ্য দিয়ে। যেমনটি দেখা যায় শ্রীশ্রীচণ্ডী উপাখ্যানে। এখানে দেবীদুর্গার মহত্ত্বের কথা বলা হয়েছে। দেবীদুর্গা অসুরদের দমন করে স্বর্গরাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। উদ্দীপকের দেবজিৎ অমায়িক, দয়ালু ও পরোপকারী। সে সমাজসেবামূলক কাজ করতে ভালোবাসে। সে তার বাবার অনৈতিক কাজ সমর্থন করে না। এসব গুণাবলি দেবীদুর্গার চরিত্রে দেখা যায়। কিন্তু দেবীদুর্গা হলেন দেবতা। তাঁর রয়েছে ঐশ্বরিক শক্তি। পক্ষান্তরে, দেবজিৎ হচ্ছে একজন মানুষ। তাই একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, শ্রীশ্রীচন্ডীর শিক্ষা দেবজিতের চরিত্রে কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছে।
দুর্গা দেবীকে হিমালয় একটি সিংহ দেন।
অসুররা দেবতাদের যখন স্বর্গরাজ্য থেকে বিতাড়িত করে তখন তাঁরা এ কাহিনী ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের কাছে বর্ণনা করেন। দেবতারা এ কাহিনী শুনে ভীষণ রেগে যান। তাদের তেজরাশি একত্রিত হয়ে আলোকপুঞ্জে পরিণত হয়। এ আলোকপুঞ্জ থেকেই আবির্ভূত হন দেবীদুর্গা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
