চাষার ছেলের মাথার চুল লম্বা।
কৃষক সব কাজে দক্ষ ও পারদর্শী এবং আমাদের অন্য-বস্ত্রের জোগানদাতা বলেই কবির দৃষ্টিতে সবার কাছে দামি বলে গণ্য হয়েছে।
কৃষক রোদে পুড়ে ফসল ফলায় বলে শরীরের রং কালো হয়ে যায়। কবি মনে করেন কৃষকের শ্রমেই সভ্যতার ইতিহাস সৃষ্টি হয়। তারাই আমাদের খাদ্য-বস্ত্রের জোগানদাতা। কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা তাদের অন্য সবার চেয়ে আলাদা করেছে। তাই কৃষক সবার কাছে দামি বলে গণ্য হয়েছে।
উদ্দীপকটি 'রূপাই' কবিতার রূপাই চরিত্রের কর্মদক্ষতা ও চালতার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। পরিশ্রম না করলে কেউ উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে না। বাঙালির অনগ্রসরতার মূলে রয়েছে তাদের শ্রমবিমুখতা। তারা অলস প্রকৃতির। নানাভাবে উদর পূর্তি করতে পারলেই গা এলিয়ে ঘুমায়, পরের বেলার খাবারের কথা আর ভাবে না।
উদ্দীপকের কবিতাংশের নন্দলালের শ্রমবিমুখতা ও আলস্যভরা জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। বাড়ির বাইরে গেলে কোথায় কোন সমস্যায় পড়ে এই ভয়ে সে সব কাজ ফেলে শুয়ে শুয়ে দিন কাটায়। তার এই মূল্যহীন যুক্তি 'রূপাই' কবিতার রূপাইয়ের কর্মতৎপরতার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ রূপাই নন্দলালের মতো ঘরে বসে থাকে না। সে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে মাঠে সোনার ফসল ফলায়। গাঁয়ের ছেলেদের সঙ্গে খেলা করে, আখড়ায় বাঁশি বাজায়, জারির গানে সবাইকে মুগ্ধ করে। গাঁয়ের বুড়োরা তার কর্মদক্ষতা দেখে তার প্রশংসা করেন। কিন্তু উদ্দীপকের নন্দলালকে সবাই তার অলসতার জন্য ভর্ৎসনা করে। আর এদিক দিয়েই উদ্দীপকটি 'রূপাই' কবিতার রূপাইয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'রূপাই' কবিতার মূলভাব পরস্পর বিপরীতধর্মী।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
অনেকের মধ্যেই শক্তি আছে, কিন্তু তারা পরিশ্রম করতে চায় না। করলেও পরিশ্রমের চেয়ে বেশি বিশ্রাম নিতে পছন্দ করে। আরামপ্রিয়তার কারণেই উন্নতির ক্ষেত্রে তারা অনেক পিছিয়ে আছে। তবে এদেশের খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষকদের কোনো অবসর নেই।
উদ্দীপকে নন্দলালের পরিশ্রম না করে ঘরে বসে থাকা এবং বাইরে গেলে কী ধরনের সমস্যা-সংকটে সে পড়তে পারে তার কথা উপস্থাপিত হয়েছে। মানুষের জীবন সমস্যা-সংকট ছাড়া নয়। বিপদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনকে মুক্তির পথে নিয়ে যাওয়ার সংগ্রামে মানুষকে ব্রতী হতে হয়। কিন্তু উদ্দীপকে নন্দলালের মধ্যে সেই প্রাণপণ চেষ্টার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়নি। তা প্রতিফলিত হয়েছে 'রূপাই' কবিতার কৃষকসন্তান রূপাইয়ের মাঝে। কালো বরণ চাষার ছেলেটি সোনালি ধান ফলাতে মাঠে যেমন কাজ করে তেমনই গ্রামীণ পরিবেশে নানা রকম খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখে। গাঁয়ের সবাই তাকে পছন্দ করে। উদ্দীপকে তা নেই।
'রূপাই' কবিতায় কবি এক কৃষকসন্তান রূপাইয়ের রূপের বর্ণনার মাধ্যমে গ্রামীণ প্রকৃতি ও কৃষকের কর্মময় জীবনকে তুলে ধরেছেন। এখানে রূপাইয়ের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করা হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকের নন্দলালের জীবন ঠিক রূপাইয়ের বিপরীতধর্মী। সে ঘরের বাইরে বায় না, অলস জীবনযাপন করে। এসব দিক বিচারে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allচাষির ছেলের 'গা-খানি' দেখতে শাওন মাসের তমাল তরুর মতো।
আলোচ্য চরণটির মধ্য দিয়ে কবি বোঝাতে চেয়েছেন সভ্যতা নির্মাণে চাষির ছেলের কৃতিত্ব।
কৃষক সভ্যতার নির্মাতা। দেশের অর্থনীতির চালক। কালো কৃষকরা সারা দিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলিয়ে পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যান। চাষির ওই কালো ছেলে রূপাইও তার শ্রম দিয়ে সবকিছু জয় করেছে।
উদ্দীপক ও 'রূপাই' কবিতার আলোকে বলতে পারি আমার দেখা পল্লিগ্রামটি অতি মনোরম।
বাংলাদেশ গ্রামপ্রধান দেশ। এদেশের মানুষ প্রকৃতির নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে রয়েছে। বাংলার মাটে-ঘাটে ছড়ানো অবারিত সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে।
'রূপাই' কবিতায় শস্য-শ্যামল বাংলার অপরূপ রূপের প্রকাশ ঘটেছে রূপাইয়ের শারীরিক বর্ণনার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে উদ্দীপকেও গ্রাম বাংলার ছায়াময় মায়াময় অবস্থার কথা প্রকাশ পায় গ্রাম্য বালক ছমির শেখের কাজে-কর্মে ও অবস্থায়। আমার নানাবাড়ির গ্রামটি ঠিক একই রকম। চারদিক সবুজে ঘেরা। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী। সোনালি ফসল মাঠে বাতাসে দোল খায়। কৃষকরা সারা দিন মাঠে পরিশ্রম করে ফসল ফলান। এককথায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর গ্রামটি।
"উদ্দীপকটি 'রূপাই' কবিতার মূলভাবের খন্ডাংশ মাত্র"-মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রকৃতি মনোমুগ্ধকর। এদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। পেশাজীবীদের মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ হচ্ছে কৃষিজীবী। কৃষকরা সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তারা এ দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে নিরলস পরিশ্রম করেন।
উদ্দীপকে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা একজন দুরন্ত বালকের কর্মতৎপরতা ও মানবিক গুণের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়টি 'রূপাই' কবিতায় প্রতিফলিত গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রূপাইয়ের কর্মতৎপরতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে তা সব দিক থেকে সমানভাবে নয়। কারণ কবিতায় রূপাইয়ের বাহ্যিক গড়ন ও মানসিক গঠনের যে পরিচয় দেওয়া হয়েছে অনুরূপ পরিচয় উদ্দীপকের বালকটির বেলায় দেওয়া হয়নি। রুপাইকে নিয়ে খেলার দলে টানাটানির বিষয়টিও অনুপস্থিত। কবিতায় কবি 'কালো' রঙের কৃষকের বিশেষত্বের কথাও প্রকাশ করেছেন যা উদ্দীপকে নেই।
'রূপাই' কবিতায় কবি গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি, কৃষকের রূপ ও কর্মোদ্যোগ অসাধারণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন। গ্রাম-বাংলার প্রকৃতির মধ্যে কালো ভ্রমর, রঙিন ফুল, কাঁচা ধানের পাতা, জালি লাউয়ের ডগার মতো চাষার ছেলের বাহু ইত্যাদি বিষয় আছে, যা আলোচ্য উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে বর্ণিত বালকটি ফসলের বীজ বোনা ও যাত্রাদলায় অভিনয় করায় দক্ষ। তবে তা কবিতায় বর্ণিত কালো চাষার ছেলের মানবিকতা, পরিশ্রমী মনোভাব ও আখড়ায় লাঠি খেলায় বা জারির গানের দক্ষতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
কবিতায় 'মরণ'-এর রং কালো।
কর্মদক্ষ এবং সাহসী বলে কবিতায় রূপাইকে 'বাপের বেটা' বলা হয়েছে।
'রূপাই' কবিতায় রূপের বর্ণনাসহ রূপাইয়ের স্বভাব বৈশিষ্ট্যের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। কৃষকের ছেলে রূপাইয়ের গায়ের রং কালো। সে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে মাঠে সোনার ফসল ফলায়। এ কাজে তার ক্লান্তি নেই। শুধু কৃষিকাজই নয়, রূপাই খেলার মাঠেও দূরন্ত খেলোয়াড়। সবাই তাকে দলে নিতে টানাটানি করে। রূপাই আখড়াতে বাঁশের বাঁশি বাজায়, জারির গান গায়। গাঁয়ের বৃদ্ধরা রূপাইকে অনেক ভালোবাসেন। তারা রূপাইয়ের মঙ্গল কামনা করেন। রূপাইয়ে কর্মদক্ষতা ও সাহসে তারা মুগ্ধ। এ মুগ্ধতা থেকেই তারা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!