বঙ্গভঙ্গ হয়েছিল ১৯০৫ সালে।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তার কর্মের মধ্য দিয়ে ইতিহাস খ্যাত হয়েছেন।
সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এক উল্লেখযোগ্য নারী চরিত্র। বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার পর তার যোগ্যতার জন্য তাকে চট্টগ্রামের 'পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব' আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি কৃতিত্বের সাথে সে অভিযান সফল করেন এবং অভিযান শেষে তার সঙ্গী বিপ্লবীদের নিরাপদে স্থান ত্যাগ করতে সহায়তা করেন।
উদ্দীপকের শিক্ষকের আলোচিত বিদ্রোহটি হলো ১৮৫৭ সালে সংঘটিত মহাবিদ্রোহ। এ বিদ্রোহের পেছনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নানা কারণ রয়েছে।
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম, যেটি পলাশি যুদ্ধের একশ বছর পর সিপাহিদের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছিল। এ বিদ্রোহ জনগণকে সচেতন করে তোলে। ব্রিটিশদের সাম্রাজ্যবিস্তার নীতি ছাড়াও বৈষম্যমূলক নানা নীতি সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা করে। রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করে ব্রিটিশরা একের পর এক রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করতে থাকে। স্বত্ববিলোপ নীতি অনুযায়ী দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারত না। এ নীতি দেশীয় রাজন্যবর্গকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। এছাড়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে অর্থনৈতিক শোষণ-বঞ্চনা শুরু হয়। সামরিক বাহিনীতে ইংরেজ ও ভারতীয় সৈন্যদের মধ্যকার বৈষম্য সিপাহি বিদ্রোহের অন্যতম কারণ। ইংরেজরা ভারতীয় হিন্দু সৈনিকদের সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যুদ্ধ করতে বাধ্য করেছিল। আর ভারতীয় হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের সিপাহিদের জন্য। গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত এনফিল্ড রাইফেলের প্রচলন করা হলে ধর্মনাশের কথা ভেবে ভারতীয় সেনারা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। এটিই ইতিহাসে সিপাহি বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের শিক্ষক ইতিহাস পড়াতে গিয়ে এ উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ তথা মহাবিদ্রোহ সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি মূলত উপরে আলোচিত ১৮৫৭ সালে সংঘটিত স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কেই আলোচনা করেছেন।
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম। কেননা ইতিপূর্বে স্বাধীনতা তথা ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এ ধরনের সম্মিলিত প্রয়াস লক্ষ করা যায়নি।
পলাশি যুদ্ধের পর ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অপ্রতিরোধ্য গতিতে তাদের ক্ষমতার বিস্তার ঘটাতে থাকে। পরবর্তী একশ বছর কার্যত ইংরেজদের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন, সংগ্রাম, প্রতিরোধ হয়নি। ১৮৫৭ সালে সংঘটিত এ বিদ্রোহকে তাই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহিদের নেতৃত্বে সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিকভাবে হেয় করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা সর্বোপরি ভারতীয় সৈনিকদের প্রতি বৈষম্য উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
এ বিদ্রোহকে আমরা ভারতের ১ম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলতে পারি কারণ- ইংরেজ কোম্পানির দীর্ঘকালের শোষণ ও শাসনের বিরুদ্ধে এ বিদ্রোহ ছিল ভারতবর্ষের বুকে জনগণের প্রথম প্রতিবাদ। বিদ্রোহীরা ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটাতে চেয়েছিলেন। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ এ বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পান্ডে। দ্রুত এ বিদ্রোহ মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, বিহার, বাংলাসহ ভারতের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি বিদ্রোহীরা দিল্লি দখল করে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতের সম্রাট ঘোষণা করেছিলেন। সর্বোপরি ইংরেজ বিরোধী এত ব্যাপক আন্দোলন ভারতে এর আগে আর হয়নি।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তথা ইংরেজ শক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রথম বৃহৎ সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার কারণেই একে ভারতবর্ষের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম হিসেবে অভিহিত করা হয়।
Related Question
View Allমুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।
স্বত্ববিলোপ নীতি লর্ড ডালহৌসি কর্তৃক প্রবর্তিত এক প্রকার নীতি, যাতে দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারে না।
লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করে সাতারা, ঝাঁসি, নাগপুর, সম্বলপুর, ভগৎ, উদয়পুর, করাউলি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। স্বত্ববিলোপ নীতি অনুযায়ী দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারে না। তাছাড়া এ নীতির প্রয়োগ করে নানা সাহেবের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অপশাসনের অজুহাতে অযোধ্যাকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়।
উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কারণটি ফুটে উঠেছে।
লর্ড কার্জনের শাসনামলে বঙ্গভঙ্গ ছিল একটি প্রশাসনিক সংস্কার। উপমহাদেশের এক-তৃতীয়াংশ লোক বাস করত বাংলা প্রেসিডেন্সিতে । কলকাতা থেকে পূর্বাঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা ছিল কঠিন কাজ। যে কারণে লর্ড কার্জন এত বড় অঞ্চলকে একটিমাত্র প্রশাসনিক ইউনিটে রাখা যুক্তিসংগত মনে করেন নি। তাই ১৯০৩ সালে বাংলা প্রদেশকে দুভাগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং ১৯০৫ সালে তা কার্যকর হয়।
উদ্দীপকের সালেহপুর ইউনিয়ন আয়তনে অনেক বড় হওয়ার কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছিল। তাই এটিকে দুটি আলাদা ইউনিটে ভাগ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের কারণটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকটি বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কারণের ইঙ্গিত বহন করে। এটি ছাড়াও বঙ্গভঙ্গের পেছনে আরও কারণ ছিল বলে আমি মনে করি।
বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ ছিল আর্থ-সামাজিক। তৎকালীন সময়ে শিল্প- কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবকিছুই কোলকাতাকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল। উন্নত সবকিছুই কোলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে পূর্ব বাংলার উন্নতি ব্যাহত হয়। এ অবস্থা বিবেচনা করে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করেন।
লর্ড কার্জন ছিলেন রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কে সতর্ক। বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ক্রমশ জাতীয়তাবাদ ও রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠেছিল, যা তার দৃষ্টি এড়ায়নি। তাই কোলকাতাকেন্দ্রিক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়া ছিল বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ। ব্রিটিশদের Divide and rule policy (বিভেদ ও শাসন নীতি) প্রয়োগ করে ব্রিটিশ স্বার্থকে টিকিয়ে রাখাও বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু প্রশাসনিক কারণেই নয়, উল্লিখিত বিষয়গুলোও বঙ্গভঙ্গের জন্য দায়ী ছিল।
লর্ড ডালহৌসি দিল্লির মুঘল সম্রাটের পদ বিলুপ্ত করেন।
হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য 'এনফিল্ড' রাইফেলের প্রচলন করা হয়। এ রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে প্রবেশ করাতে হতো। সৈন্যদের মাঝে ব্যাপকভাবে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে, এই টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত আছে। ফলে উভয়ই ধর্মনাশের কথা ভেবে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!