কোনো বস্তুর এক মোলে যত সংখ্যক অণু, পরমাণু থাকে সেই সংখ্যাকে অ্যাভোগেড্রোর সংখ্যা বলে।
বিক্রিয়ার সময় একাধিক বিক্রিয়কের মধ্যে যে বিক্রিয়ক অবশিষ্ট থাকে না তাকে লিমিটিং বিক্রিয়ক বলে। বিক্রিয়ক থেকে উৎপাদের পরিমাণ হিসাব করার সময় অবশ্যই লিমিটিং বিক্রিয়কের পরিমাণ থেকে হিসেব করা হয়। লিমিটিং বিক্রিয়ক যতক্ষণ থাকে বিক্রিয়া ততক্ষণ চলতে থাকে। লিমিটিং বিক্রিয়ক শেষ হওয়ার সাথে সাথে উৎপাদ তৈরি বন্ধ তথা বিক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য লিমিটিং বিক্রিয়কই বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
যে উপায়ে সমীকরণের সমতা সাধন করতে হবে তা নিম্নরূপ :
Al + HCl → AlCl3 + H2
এ উদ্দেশ্যে প্রথমেই সমীকরণের সবচেয়ে জটিল অণুর দিকে নজর দিতে হবে। উপরিউক্ত সমীকরণে সবচেয়ে জটিল অণু হল AlCl3 | AlCl3 অণুতে ক্লোরিন পরমাণুর সংখ্যা 3; এবং সমীকরণের বামপাশে ক্লোরিন পরমাণুর সংখ্যা হল 1 । উভয় পক্ষে ক্লোরিন পরমাণুর সংখ্যা সমান করতে হলে বাম পাশের HCI অণুকে 3 দ্বারা গুণ করতে হবে।
এখন সমীকরণের বাম পাশে হাইড্রোজেন পরমাণুর সংখ্যা ও এবং ডানপাশে হাইড্রোজেন পরমাণুর সংখ্যা ২। হাইড্রোজেনের পরমাণুর সংখ্যা সমান করতে হলে ডান পাশের হাইড্রোজেন অণুকে দ্বারা গুণ করতে হবে। তাহলে সমীকরণটি দাঁড়ায় নিম্নরূপ।
সমীকরণের উভয় পক্ষকে 2 দ্বারা গুণ করলে সমীকরণটির সমতাকৃত সমীকরণ পাওয়া যাবে এবং তা হলো :
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিক্রিয়াটির সমতাকৃত সমীকরণ হলো-
বিক্রিয়াটিতে 2 মোল অ্যালুমিনিয়াম 6 মোল হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে 2 মোল অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড এবং ও মোল হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে। অর্থাৎ বিক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে 6 মোল হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের প্রয়োজন হয়।
আমরা জানি, HCI এর আণবিক ভর = 1 + 35.5
= 36.5
1 mol HCl = 36.5 g
6 “ ” = (36.5 6) g
= 219 g
সুতরাং, বিক্রিয়াটি সংঘটনের জন্য 219 g হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের প্রয়োজন হবে।
Related Question
View Allপারমাণবিক ভর বা আণবিক ভরকে গ্রামে প্রকাশ করলে যে পরিমাণ পাওয়া যায় তা-ই সংশ্লিষ্ট পদার্থের এক মোল।
যে সংকেত দ্বারা কোনো যৌগের অণুতে বিদ্যমান পরমাণুসমূহের অনুপাত প্রকাশ পায় তাকে ঐ যৌগের স্থূল সংকেত বলে। যেমন-হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড যৌগের অণুতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণু সংখ্যার অনুপাত হলো 2 : 2 বা 1 : 1 । অর্থাৎ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড যৌগের স্থূল সংকেত হলো HO । আবার যে সংকেত দ্বারা কোনো যৌগের অণুতে বিদ্যমান পরমাণুসমূহের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ পায় তাকে ঐ যৌগের আণবিক সংকেত বলে। যেমন- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের আণবিক সংকেত হলো H2O2।
উদ্দীপকের দ্রবণদ্বয় হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড নামক ক্ষারের দ্রবণ। এ দ্রবণদ্বয়কে একত্রে মিশ্রিত করলে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় সোডিয়াম ক্লোরাইড নামক লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়ার সমীকরণটি নিম্নরূপ-
NaCl লবণের সংযুতি নির্ণয় :
NaCl এর আপেক্ষিক আণবিক ভর = 23 + 35.5 = 58.5
যৌগটিতে,
সোডিয়ামের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর = 23
এবং ক্লোরিনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর = 35.5
সোডিয়ামের সংযুতি =
এবং ক্লোরিনের সংযুতি =
দ্রবণে HCI এর পরিমাণ = 4g
HCI এর মোল সংখ্যা = মোল = 0.1095 মোল [ HCI এর আণবিক ভর = 1 + 35.5 = 36.5]
আবার,
100 mL দ্রবণে HCI দ্রবীভূত আছে = 0.1095 মোল
1000 mL “ HCI ” " মোল
= 1.095 মোল
অর্থাৎ HCI দ্রবণের ঘনমাত্রা = 1.095M
দ্রবণে NaOH এর পরিমাণ = 4g
NaOH এর মোল সংখ্যা = মোল = 0.1 মোল [ NaOH এর আণবিক ভর = 23 + 16 + 1 = 40 ]
আবার,
100 mL দ্রবণে NaOH দ্রবীভূত আছে = 0.1 মোল
1000 mL “ NaOH ” " মোল
= 1.0 মোল
অর্থাৎ NaOH দ্রবণের ঘনমাত্রা 1.0 M
সুতরাং, উদ্দীপকের দ্রবণ দুটির মোলারিটি সমান নয়।
এক বা একাধিক কোন মৌল বা যৌগের অণুর সংকেত উল্লেখ করে কিছু চিহ্নের সহায়তায় কোন রাসায়নিক পরিবর্তনের সংক্ষেপে লিখিতরূপকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে।
এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপ অর্থাৎ ০°C তাপমাত্রা এবং । বায়ুমণ্ডলীয় চাপে কোন গ্যাসীয় পদার্থের মোলার আয়তন 22.4 লিটার। একই ভাবে, কার্বন ডাই অক্সাইডের মোলার আয়তন দ্বারা প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপে । মোল বা 44 গ্রাম কার্বন ডাইঅক্সাইডের আয়তন 22.4 লিটার বুঝানো হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!