টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান হলো NaOH (কস্টিক সোডা)।
কার্বনিক এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয় না। দুর্বল এসিড জলীয় দ্রবণে আংশিক বিয়োজিত হয়। এক্ষেত্রে এসিডের বিয়োজন বিক্রিয়াটি উভমুখী। পানিতে খুব কম সংখ্যক অণু বিয়োজিত হয় বলে কার্বনিক এসিড দুর্বল এসিড। এসিডের বিয়োজন বিক্রিয়াটি হলো-
নবীনগরের কৃষক তার দ্বিতীয় জমিতে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়াম সালফেট ছিটিয়ে দেয়।
মূলত উদ্ভিদের প্রধান পুষ্টি উপাদান হলো নাইট্রোজেন। তার জমিতে নাইট্রোজেন তথা নাইট্রেট লবণের ঘাটতি ও জমিটা কিছুটা ক্ষারীয় হয়ে যাওয়ার কারণে সে জমিতে ইউরিয়া ও (NH4)2 SO4 প্রয়োগ করে। কারণ মাটিতে দ্রবীভূত অবস্থায় ইউরিয়া ইউরিয়েজ নামক এনজাইমের প্রভাবে ধীরে ধীরে বিয়োজিত হয়ে NH3 ও CO2 উৎপন্ন করে। NH3 পানিতে দ্রবীভূত হয়ে NH4OH এ পরিণত হয় যা NH4+ ও OH +আয়নে আংশিকভাবে বিয়োজিত অবস্থায় থাকে। উদ্ভিদ NH4+ আয়ন পরিশোষণ করে।
NH3 + CO2
অপর দিকে (NH4)2SO4 সাদা দানাদার পদার্থ এবং জলীয় দ্রবণে এসিডিক ধর্ম প্রদর্শন করে।
(NH4)2SO4 + H2O → (NH4)2O + H2SO4
দুর্বল ক্ষার ------------------ শক্তিশালী অম্ল
জমির মাটি ক্ষারীয় হওয়ার কারণে (NH4)2SO4 প্রয়োগ করলে ইহা ক্ষারকে প্রশমিত করে মাটির pH নিয়ন্ত্রণ করে। ইহা ছাড়া উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় উপাদান নাইট্রোজেন ও সালফার সরবরাহ করে (NH4)2 SO4 । এই জন্য কৃষকের দ্বিতীয় জমিতে ভালো ফসল হয়েছে।
এসিডিয় মাটিতে উদ্ভিদের মুখ্য পুষ্টি উপাদান নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাসিয়াম পরিশোষণ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ফলন ভালো হয় না। অতিরিক্ত এসিডিক মাটিতে শিম জাতীয় উদ্ভিদ জন্মায় না। তাই নবীনগরের কৃষক তার প্রথম জমিতে চুনাপাথরের গুড়া ছিটিয়ে দেয়। কারণ কৃষক বুঝতে পারল তার জমিটা কিছুটা এসিডীয় হয়ে গেছে এবং ফলন ভালো হচ্ছে না।
বিক্রিয়াগুলো হলো
CaCO3 + H2O → Ca(OH)2 + CO2
Ca(OH)2 + 2H+ → Ca2+ + 2H2O
প্রথম জমিতে ছিটিয়ে দেয়া চুনা পাথরের গুঁড়ার পরিবর্তে কুইক লাইম (CaO) ব্যবহার করলেও জমিতে ভালো ফসল হবে। (CaO) ক্ষারীয় হওয়ার কারণে এসিডিক মাটির অম্লত্ব প্রশমিত করে মাটির pH নিয়ন্ত্রণ করে।
CaO + H2O → Ca(OH)2
Ca(OH)2 + 2H+ → Ca2+ + 2H2O
উভয় যৌগই পানির সাথে বিক্রিয়া করে Ca(OH)2 উৎপন্ন করে তাই CaCO3 বা CaO যে কোনো একটি ব্যবহার করে জমির অম্লত্ব দূর করা যায়। ফলে উভয়ক্ষেত্রে ভালো ফসল উৎপাদন হয়। তবে CaO এ Ca এর সংযুতি CaCO3 অপেক্ষা বেশি বলে সরাসরি CaO ব্যবহার করলে কম পরিমাণে তা জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।
Related Question
View Allউচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণকে সাবান বলে।
গ্লাস ক্লিনার হলো এক ধরনের তরল পরিষ্কারক যা দ্বারা কাচ জাতীয় বিভিন্ন মসৃণ সামগ্রী পরিষ্কার করা হয়। গ্লাস ক্লিনারের মূল উপাদান হিসেবে NH3 ব্যবহার করা হয়। কারণ NH3 পানির সাথে বিক্রিয়ায় NH4OH উৎপন্ন করে। উৎপন্ন NH4OH এর OH- আয়ন কাচের কোনোরূপ ক্ষতি করে না বরং ময়লা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। গ্লাসে ময়লা হিসাবে সাধারণত ধুলাবালির কণা এর পৃষ্ঠতলের উপর জমা হয়। আর ধুলাবালির এই কণাসমূহ বিভিন্ন ধাতুর অক্সাইড হিসাবে থাকে যা অ্যামোনিয়ার সাথে বিক্রিয়ায় গ্লাসের পৃষ্ঠতল থেকে অপসারিত হয়।
শাওন প্রথমে যে পদার্থ দিয়ে কাপড় পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছিল তা হলো সাবান। সাবানের ময়লা পরিষ্কার করার কৌশল হলো-
কাপড়ের সুতায় তৈল ও গ্রীজ দ্বারা ময়লা আটকে থাকে। তাই ময়লা দূর করতে হলে আটকে থাকা তৈল ও গ্রীজের পাতলা স্তরকে কাপড় থেকে আলাদা করতে হয়। সাবানের অণুতে পোলার ও অপোলার এ দুটি অংশ আছে। সাবানের এক প্রান্তের পোলার কার্বক্সিলেট আয়ন হলো হাইড্রোফিলিক (পানিতে দ্রবণীয়) ও লিপোফোবিক (তৈল ও চর্বিতে অদ্রবণীয়)। অপর অংশ হলো সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকল, যা হলো হাইড্রোফোবিক (পানিতে অদ্রবণীয়) ও লিপোফিলিক (তৈল ও চবির্তে দ্রবণীয়)

যখন পানিতে সাবান গলে যায়, তখন সাবানের হাইড্রোফিলিক কার্বক্সিলেট আয়ন পানিতে দ্রবীভূত হয়; কিন্তু হাইড্রোফোবিক দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকল পানিতে অদ্রবীভূত থাকে। এর ফলে পানির উপরি তলে সাবানের এক অণু বিশিষ্ট একটি অতি সূক্ষ্ম স্তর সৃষ্টি করে। সাবানের জলীয় দ্রবণে ময়লা কাপড় যখন ডুবানো হয় তখন কাপড়ের ময়লাযুক্ত তৈলাক্ত স্তরে সাবানের দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকলটি দ্রবীভূত হয় এবং সাবানের পোলার কার্বক্সিলেট আয়ন পানিতে দ্রবীভূত হয়ে থাকে। সাবানের আয়নসমূহ তৈলের সূক্ষ্ম কণাকে ঘেরাও করে এবং তৈলের বলয়ের মধ্যে সাবানের লেজ ঢুকে পড়ে [চিত্র দ্রষ্টব্য)। কাপড়কে যখন আছড়ানো হয় বা পানিতে আলোড়িত করা হয়, কাপড়ের সূতা থেকে তৈলের সূক্ষ্ম কণাগুলো আলাদা হয়ে পানিতে ভেসে উঠে। ফলে কাপড় পরিষ্কার হয়।

প্রদত্ত উদ্দীপকে রিয়াদ কাপড় পরিষ্কার করার জন্য শাওনকে ডিটারজেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল। এর যৌক্তিক করণ নিম্নোক্তভাবে আলোচনা করা যায়-
সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণ।
খর পানিতে ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের কার্বনেট ও সালফেট বিদ্যমান থাকে। ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন সাবানের সাথে বিক্রিয়ায় অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের কার্বোক্সিলেট লবণ উৎপন্ন করে যা পানির উপর পাতলা সরের মতো ভাসতে থাকে। ফলে সাবান ময়লা পরিষ্কার করতে পারে না, এভাবে সাবানের অপচয় ঘটে।

অপরদিকে ডিটারজেন্ট হলো সোডিয়াম লরাইল সালফোনেট যা পানিতে দ্রবণীয়। ফলে ডিটারজেন্ট দিয়ে খর পানিতে কাপড় কাঁচতে কোন সমস্যা হয় না।
CH3 (CH2)10-CH2OSO3Na + Ca2+ (CH3- (CH3) CH2OSO3), Ca + Na+
পানিতে দ্রবণীয়
উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায়, শাওন কাপড় পরিষ্কার কার্যে খর পানি ব্যবহার করেছিল। সাবান খর পানিতে ভালো কাজ করে না। কাজেই এ ক্ষেত্রে রিয়াদের পরামর্শ মতে ডিটারজেন্টের ব্যবহার যৌক্তিযুক্ত।
মাস ক্লিনারের মূল উপাদান হলো অ্যামোনিয়া (NH3)।
আমরা জানি, বাতাসে পাঁচ ভাগের চারভাগই নাইট্রোজেন (N2)। তাই বাতাসকে শীতল করে তরলে পরিণত করার পর আংশিক পাতন প্রণালীর মাধ্যমে তরল N2 কে পৃথক করা হয়।
এভাবে প্রাপ্ত N2 কে H2 এর সহিত 1 : 3 অনুপাতে মিশ্রিত করে মিশ্রণকে 200-250atm চাপে ও 450-550°C তাপমাত্রায় আয়রন (Fe) প্রভাবকের উপর দিয়ে চালনা করলে অ্যামোনিয়া (NH3) গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা হেবার বস প্রণালী নামে পরিচিত।
বিক্রিয়াটি হলো : N2 + 3H2 2NH3
বাতাসে পাঁচ ভাগের চার ভাগ N2 রয়েছে, যা ব্যবহার করে NH3 উৎপাদন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!