'নীর' অর্থ পানি বা জল।
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে- লাইনটি দিয়ে কবি মাতৃভূমি যেন তাঁকে স্নেহধারা থেকে বঞ্চিত না করেন তা বুঝিয়েছেন।
কবি মধুসূদন দত্ত মনে করেছিলেন যে তিনি বিলেতে না গেলে বড় কবি হতে পারবেন না। তাই তিনি স্বদেশ ত্যাগ করে বিলেতে যান। নিজের ভাষা এবং দেশ ত্যাগ করা যে তাঁর মারাত্মক ভুল হয়েছে, এটা ভেবে তিনি অনুতপ্ত হন। তাই জন্মভূমির কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন- দেশমাতৃকা যেন তার স্নেহধারা থেকে তাঁকে বঞ্চিত না করে তাঁর ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাঁকে যেন বক্ষে ধারণ করেন।
উদ্দীপকে 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
মা ও মাতৃভূমি স্বর্গ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। দেশপ্রেমের গভীর বোধ থেকেই মানুষ মা ও মাতৃভূমিকে অভিন্ন হিসেবে বিবেচনা করে। দেশপ্রেমিক মানুষ তাঁর কথায়, কাজে ও আচরণে দেশের প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে জন্মভূমির প্রতি গভীর মমতা প্রকাশ পেয়েছে। কবি সৌন্দর্যের লীলাভূমি জন্মভূমিকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। স্বদেশের নদীর তীর, স্নিগ্ধ সমীর কবির জীবন জুড়িয়েছে। 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায়ও স্বদেশের প্রতি কবির গভীর অনুরাগের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। কবি প্রবাসজীবনে তাঁর প্রিয় মাতৃভূমির কথা ভুলতে পারেননি। দেশমাতার সৌন্দর্য তাঁকে বারবার তাড়িত করেছে। দেশকে মায়ের মতো ভালোবাসেন বলেই কবি স্বদেশের মাটিতে অমর হয়ে থাকতে চান। তাই তিনি মাতৃভূমির কাছে প্রার্থনা করেছেন। তাঁর হৃদয়জুড়ে মাতৃভূমির উজ্জ্বল স্মৃতি যেন জীবনে অমর হয়ে থাকে। 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার এই দিকটি উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে।
"স্বদেশপ্রেম মানুষের সহজাত প্রক্রিয়া"- উক্তিটি উদ্দীপক ও 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার আলোকে যথার্থ।
জন্মভূমি মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে থাকে। জন্মভূমি মানুষের কাছে মাতৃসম বলে জন্মভূমি থেকে কাউকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। দেহগত বিচ্ছিন্ন হলেও তার আত্মিক সম্পর্ক মুছে দেওয়া সম্ভব নয়।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় স্বদেশের প্রতি কবির গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। মাতৃভূমির প্রতি এই ভালোবাসা থেকেই কবি মধুসূদন দত্ত প্রবাসে মাতৃভূমির স্মৃতিচারণ করেছেন। দেশকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করে কবি দেশের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। কবি দেশমাতার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকতে চান। উদ্দীপকের কবিতাংশেও দেশপ্রেমের এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। দেশের সৌন্দর্যে বিমোহিত কবি দেশকে মায়ের সঙ্গে
তুলনা করেছেন। দেশের নদী, স্নিগ্ধ বাতাস তার জীবন জুড়িয়েছে।। ষদেশের প্রতি কবির অনবদ্য ভালোবাসা থেকেই এই অনুভূতি প্রতিফলিত হয়েছে।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় জন্মভূমির প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশেও স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এই দিক থেকে উদ্দীপক এবং 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতা উভয় ক্ষেত্রে স্বদেশপ্রেমের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা মানুষের সহজাত স্বদেশানুরাগের প্রতিফলন। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allবাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মহাকাব্যের নাম 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
কবি দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার জন্য বর প্রার্থনা করেন।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর জন্মভূমিকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। তিনিও চান তাঁর প্রিয় জন্মভূমি যেন তাকে মনে রাখেন, হৃদয়ে স্থান দেন। দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার মধ্য দিয়ে তিনি অমরতা লাভ করতে চান। কবি আকুলভাবে তাঁর স্বদেশের কাছে সেই বর প্রার্থনা করেন।
উদ্দীপকের প্রথম কবিতাংশে বাংলার প্রকৃতিতে কবির অমরতা লাভের আকাঙ্ক্ষা ও স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে। 'ফুটি যেন স্মৃতি-জলে' চরণটির মধ্য দিয়েও এ কথাই প্রকাশ পায়।
সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি। এদেশের প্রতি রয়েছে আমাদের সীমাহীন ভালোবাসা। বাংলা-মায়ের কোলে তাই সব বাঙালি অনন্তকাল স্থান পেতে চায়।
উদ্দীপকের প্রথম স্তবকের কবি মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম হলে মানুষ অথবা শঙ্খচিল-শালিকের বেশে বাংলা-মায়ের কোলে ফিরে আসার আকুতি প্রকাশ করেছেন। কবির এ আকুতির মধ্য দিয়ে বাংলার প্রকৃতিতে অমরতা লাভের ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে অকৃত্রিম স্বদেশপ্রেম। কবির এই স্বদেশপ্রেমের অনুভূতি ও অমরতা লাভের আকাঙ্ক্ষা 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার প্রশ্নোক্ত চরণটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। একজন বাংলা-মায়ের কাছে ফিরে আসতে চেয়েছেন, অন্যজন বাংলা-মা যেন তাঁকে মনে রাখে এবং তিনি যেন মায়ের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকতে পারেন অনন্তকাল সেই মিনতি জানিয়েছেন।
"দ্বিতীয় কবিতাংশ এবং 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার মূল সুর একই"- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের জন্মভূমি বিচিত্র উপাদানে সজ্জিত। যেমন প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর তেমনই এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় স্বদেশের প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও একাত্মতা তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কবি স্বদেশকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। স্বদেশের প্রতিটি বস্তু তাঁকে আকর্ষণ করে। তাই কবি বাংলা-মাকে আকুতি জানিয়েছেন তিনি যেন ছেলেকে ভুলে না যান। আকাঙ্ক্ষা জানিয়েছেন চির স্মরণীয় হওয়ার এবং দেশমাতার স্মৃতিতে পদ্ম ফুলের মতো ফুটে থাকার। উদ্দীপকের দ্বিতীয় কবিতাংশেও দেশ বা পৃথিবীর প্রতি কবির ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কবি দেশ, দেশের মানুষের মাঝে তথা এ সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চান। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই প্রকৃতি এই পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে চলে যেতে চান না।
দেশমাতৃকার প্রতি উদ্দীপকের কবি ও আলোচ্য কবিতার কবি উভয়েরই টান সীমাহীন। উভয় জায়গায়ই দেশ ও দেশের প্রকৃতিকে ভালোবাসা এবং মানবহৃদয়ে বেঁচে থাকার আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে স্বদেশের স্মৃতিতে ঠাঁই পাওয়ার আকুলতা। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতাটি একটি গীতিকবিতা।
সুখ-দুঃখ নিয়েই মানুষের জীবন চলমান বলে জীবন-নদের নীর স্থির নয়।
জাগতিক নিয়মে জীবন বয়ে চলে। কখনো জীবনে দুঃখ এসে ভর করে, কখনোবা আবার সুখের স্রোতে ভেসে চলে। নদীর ধারা যেমন প্রতিনিয়ত বয়ে চলে, জীবনও তাই। প্রকৃতির নিয়মেই রাতের শেষে
দিন হয়, আবার দিনের শেষে রাত আসে। জীবনেও এমন দুঃখ-দুর্দশায় মেঘ ঘনিয়ে অন্ধকার রাত হয়, আবার হাসি-আনন্দে জীবন ভরে ওঠে। এভাবে প্রকৃতির নিয়মেই জীবন-নদের নীর স্থির নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!