দ্রোণাচার্য ছিলেন পান্ডবদের অস্ত্র গুরু।
কোনো লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ যত্নের সাথে কঠোর সাধনার মধ্য দিয়ে বারবার চেষ্টা করাকেই বলে অধ্যবসায়। অধ্যবসায়ের মতো নৈতিক গুণটি চেষ্টা, উদ্যোগ, আন্তরিকতা, পরিশ্রম, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, একাগ্রতা ইত্যাদি গুণের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। তাই অধ্যবসায় হচ্ছে কতিপয় গুণের সমষ্টি। অধ্যবসায়ের সাহায্যেই মানুষ অসাধ্যকে সাধন করে সামনে এগিয়ে যেতে পারে। অধ্যবসায় ধর্মেরও অঙ্গ। জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতা অনেকাংশে অধ্যবসায়ের ওপর নির্ভর 'করে। তাই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে প্রতিটি মানুষেরই অধ্যবসায়ী'হওয়া আবশ্যক।
নরেশ চরিত্রের সাথে পাঠ্যবইয়ের অধ্যবসায়ী একলব্য চরিত্রের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, নরেশ গুরুগৃহ পড়াশোনা করত কিন্তু নীচু বংশ ও মেধাশূন্যতার জন্য একদিন গুরুদেবের তিরষ্কারে স্কুল ছেড়ে গ্রামের পথে বের হয়ে যায়। দেখতে পায় মাটির কলসিতে জল ভরে মেয়েরা স্নান করে ঘরে ফিরে। প্রতিদিন কলসিটা একটা পাথরের উপর রাখার ফলে পাথরটা ক্ষয় হয়ে গেছে। এ ঘটনাটি থেকে শিক্ষা নিয়ে অধ্যবসায়ের ফলে একদিন সে বড় পণ্ডিত হয়ে যায়। পাঠ্যপুস্তকে একলব্যের ক্ষেত্রেও আমরা দেখতে পাই সে নিচু বংশের হওয়ায় অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য তাকে অস্ত্রশিক্ষা দেয়নি। তারপর মনের দুঃখে সে গভীর বনে গিয়ে মাটি দিয়ে দ্রোণাচার্যের মূর্তি বানিয়ে মনে মনে তাঁকে অস্ত্রগুরু মনে করে মূর্তির সম্মুখে অহর্নিশ তীর ধনুক নিয়ে অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা করতে লাগল। কঠোর অধ্যবসায় ও নিরলস পরিশ্রমের দ্বারা সে অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষালাভ করল। তাই সাদৃশ্যগত দিক থেকে উদ্দীপকের নরেশ চরিত্র ও পাঠ্যপুস্তকের একলব্য চরিত্র পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ। এজন্য আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি নরেশ চরিত্রের সাথে পাঠ্যবইয়ের একলব্য চরিত্রের মিল রয়েছে।
অধ্যবসায় ছাড়া শিক্ষা আত্মস্থ হয় না। জীবনে তাই সাফল্য লাভকরতে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই জীবনের সকল বাধা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছানো যায়। মানুষের জীবনে যে চিরায়ত সংগ্রামী শক্তি নিহিত আছে, তার বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে অধ্যবসায়,। এ অধ্যবসায়ই মানুষকে করে তুলে সংগ্রামী, উদ্যোগী আর কতর্ব্যপরায়ণ, অধ্যবসায়ই মানুষকে অসহায়ত্ব উপেক্ষা করে স্বনির্ভর হতে শেখায়। কঠোর অধ্যবসায় ও একনিষ্ঠ সাধনার দ্বারাই মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করতে সক্ষম হয়। যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ী সে কখনো পিছিয়ে থাকে না। অধ্যবসায়ই পারে মানুষকে উন্নতির শিখরে পৌছে দিতে। সকল প্রকার অসাধ্য সাধন করা যায় শুধু অধ্যবসায়ের দ্বারাই। কেউ যদি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যার্জনে সচেষ্ট হয় তবে শত বাধা আসলেও শুধু অধ্যবসায়ের গুণেই সে এসব বিপত্তি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। অধ্যবসায়ী একলব্য, এর অন্যতম দৃষ্টান্ত। পৃথিবীতে যত মহাপুরুষ পাণ্ডিত অর্জন করেছেন তাঁর প্রত্যেকেই ছিলেন অধ্যবসায়ী। তাই সার্বিক দিক বিবেচনার আলোকে বলা যায়, 'অধ্যবসায় দ্বারা পান্ডিত অর্জন করা যায়। এবং এ প্রেক্ষিতে প্রশ্নের মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
Related Question
View Allকৌরব ও পাণ্ডবদের অস্ত্রগুরু ছিলেন দ্রোণাচার্য।
অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য, কৌরব ও পান্ডবদের ছিল একটি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কুকুর। একদিন অর্মগুরু কৌরব ও পাণ্ডবদের অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষার পরীক্ষা নিতে গভীর বনে গেলেন। তাঁদের শিবিরের অল্প দূরেই ছিল একলব্যর সাধনার স্থান। একলব্য গভীর মনোনিবেশে অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষায় ব্যস্ত। এমন সময় কুকুরটি সেখানে এসে ঘেউ ঘেউ করে চিৎকার করাতে একলব্যের সাধনা ভেঙে যায়। যার জন্য একলব্য কুকুরটির মুখে বান নিক্ষেপ করেন।
মনোহর বাবুর কর্মকান্ডে যে নৈতিক গুণটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো দেশপ্রেম।
দেশপ্রেম বলতে বোঝায় দেশের প্রতি ভালোবাসা। মানুষ যেদেশে জন্মগ্রহণ করে, তার মাটি-জল আলো-বাতাস তার দেহকে পুষ্ট করে, তাকে বাঁচিয়ে রাখে। বড় হয়ে মানুষ তার মাতৃভূমির প্রতি মমত্ব অনুভব করে। মাতৃভূমির প্রতি এ মমত্ববোধই দেশপ্রেম। দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার নামই দেশপ্রেম। দেশপ্রেম ধর্মের অঙ্গ। উদ্দীপকের মনোহর বাবু গ্রামের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত আছেন। রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ, হাসপাতাল নির্মাণ এবং সেখানে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া এসব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। যিনি দেশপ্রেমিক, তিনি দেশের স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেন। তিনি সবসময় দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণের জন্য কাজ করেন। দেশের কোনো বিপদে দেশপ্রেমিক কখনো নীরব থাকতে পারেন না। দেশের মঙ্গলের জন্য প্রয়োজন হলে নিজের জীবন বিসর্জন দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। দেশপ্রেম মানবজীবনের একটি মহৎ গুণ। মনোহর বাবুর কর্মকাণ্ডে দেশপ্রেম নামক নৈতিক গুণটিই প্রকাশ পেয়েছে।
হ্যাঁ, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মনোহর বাবুর নৈতিক গুণটির অবশ্যই প্রয়োজন আছে।
মনোহর বাবুর কর্মকাণ্ডে দেশপ্রেমের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশপ্রেম ধর্মের অঙ্গ। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ব্যক্তি নিজ স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশের কল্যাণের। কথা চিন্তা করেন। তিনি দেশের উন্নতির জন্য কাজ করেন এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসেন। উদ্দীপকের মনোহর বাবু তার গ্রামের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় যেসব কর্মকাণ্ড সম্পাদন করেন তার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। দেশের উন্নতির জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের। প্রকাশ-ঘটে। রাষ্ট্র যাতে সঠিকভাবে শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়, সেজন্য যোগ্য নাগরিক হিসেবে দেশপ্রেমিক বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। নিজের দেশের কল্যাণের জন্য দক্ষ নাগরিক হিসেবে নিজেকে। গড়ে তুলতে হয়। কেবল নিজের বা নিজের পরিবারের স্বার্থ দেখলেই। চলে না, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের কথাও ভাবতে হয়। সমাজ তথা রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য সদা সচেষ্ট থাকতে হয়। এর নাম দেশপ্রেম। ত্যাগ ও তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেম নামক নৈতিক গুণটি অর্জন করতে হয়। দেশপ্রেম মানুষকে উদার করে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করে, আত্মসুখ বিসর্জন দেওয়ার প্রেরণা দান করে। দেশপ্রেম মনুষ্যত্বের পরিচায়ক। যার মধ্যে দেশপ্রেম নেই তাকে যথার্থ মানুষ বলা যায় না। আত্মকেন্দ্রিক মানুষ কখনো দেশপ্রেমিক হতে পারে না। দেশপ্রেমিক। দেশের সম্পদ, দেশের স্বার্থ, দেশের মর্যাদা প্রভৃতিকে নিজের সম্পদ, নিজের স্বার্থ ও নিজের মর্যাদা বলে মনে করেন। তাই বলা যায়, মনোহর বাবুর কর্মকান্ডে দেশপ্রেমের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।
দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার নার্স হচ্ছে দেশপ্রেম।
হাতে কাম, মুখে নাম'- এটি হরিচাঁদ ঠাকুরের অন্যতম উপদেশ। তিনি বলেছেন, গৃহকর্ম গৃহধর্ম করিবে সকল, হাতে কাম মুখে নাম ভক্তিই প্রবল। হরিচাঁদ ঠাকুর নিজেও সংসারী ছিলেন, তাই তিনি সংসারে থেকেই ধর্মচর্চা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনিই সবাইকে বুঝিয়েছেন যে, ধর্মচর্চার জন্য সংসার ত্যাগ করতে হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!