হুমাযায় মানবসমাজের কতিপয় লোকের তিনটি দোষের উল্লেখ রয়েছে। তাহলো- ১. গিবত বা পরনিন্দা, ২. কারও 'সামনে তার নিন্দা করা এবং ৩. অর্থলিপ্সা।
অর্থলোভী বলতে সেসব ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে যারা পরের হক আদায় করে না। গরিব-দুঃখীর পাওনা দেয় না। কৃপণতার কারণে সে বারবার অর্থের হিসাব করতে থাকে। আর ধারণা করে এ অর্থ তাকে অমর করে রাখবে। অর্থাৎ অর্থলোভী বলতে এখানে অর্থের প্রতি অধিক মোহবিষ্ট ব্যক্তিকে বোঝানো মানো হয়েছে। হয়েছে।
অনুচ্ছেদটি পাঠ করে আমরা আমরা জানতে জানতে পারি যে, নাঈম মিথ্যাবাদী। সে তার বন্ধু ফারুকের নামে মানুষের কাছে বদনাম বা গিবত করে। অন্যদিকে, ফারুক একজন অর্থলোভী ও কৃপণ ব্যক্তি। ঘটনাক্রমে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হলে বিষয়টি ইমাম সাহেরের গোচরীভূত হয়। ইমাম সাহেব তাদের সূরা আল-হুমাযাহ পাঠ করে শোনান। সূরা হুমাযায় পরনিন্দাকারী ও অর্থলিঙ্গু ব্যক্তিদের পরিণতি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
সূরা আল-হুমাযাহ শোনার পর নাঈম ও ফারুকের বোধোদয় হয় যে, তারা যা করেছে বা করছে তা তাদেরকে করুণ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমরা বলতে পারি যে, নাঈম ও ফারুকের ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব যে ভূমিকা পালন করেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কারণ তার ভূমিকার জন্যই নাঈম ও ফারুক তাদের করুণ পরিণতি থেকে ফিরে আসতে পারে।
সূরা হুমাযায় মানবসমাজের কতিপয় লোকের দুটি মারাত্মক নৈতিক দোষ ও তাদের অর্থলিপ্সার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ছয়টি আয়াতে এসব কাজের মারাত্মক পরিণামের উল্লেখ আছে। প্রথম দোষটি হলো গিবত বা পরনিন্দা। গিবত করা হারাম এবং এতে কবীরা গুনাহ হয়। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে গিবত করাকে আপন মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করার শামিল বলে উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয় দোষটি হলো, কারও সামনে তার নিন্দা করা। এটিও জঘন্য কাজ। যার মুখোমুখি নিন্দা করা হয়, তাকে অপমানিত করা হয়। সে তখন এর প্রতিবাদ করে এবং এতে ঝগড়াঝাঁটি ও ফিতনা-ফাসাদের সৃষ্টি হয়।
তৃতীয় দোষটি হচ্ছে, অর্থলিপ্সা। অর্থ অনেক সময় অনর্থের কারণ হয়। অর্থলোভী ব্যক্তি পরের হক আদায় করে না। গরিব-দুঃখীর পাওনা দেয় না। কৃপণতার কারণে সে বারবার অর্থের হিসাব করতে থাকে। আর ধারণা করে এ অর্থ তাকে অমর করে রাখবে। তার এ ধারণা একেবারেই অমূলক। যে সকল লোকের মধ্যে এ দোষগুলো থাকবে আখিরাতে তাদের পরিণাম হবে করুণ। তাদেরকে 'হুতামা' নামক অতি গভীর জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তারা চূর্ণবিচূর্ণ হবে, কঠিন অগ্নিতে প্রজ্বলিত হবে। এ শাস্তি শেষ হবে না। কাজেই নাঈম ও ফারুককে এ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। অবশ্য এ পরিণতি তারা বেঁচে থাকতে পারে, যদি তাওবা করত সংশোধন হয়।
Related Question
View Allআল কুরআনের অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ প্রথম সূরা হলো সূরা আল ফাতিহা।
আল্লাহর বাণী- হে আমার প্রতিপালক। আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ কর। এটি কুরআনের সূরা ত্বহার ১১৪নং আয়াত। এখানে জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করার কথা বলা হয়েছে। জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। কেননা শিক্ষা ও জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালাকে চিনতে পারি। তার বিধান জানতে পারি। সুতরাং আমরা ভালো করে লেখাপড়া শিখব। জ্ঞানার্জনে কোনোরূপ অবহেলা করব না। আর সাথে সাথে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর নিকট মুনাজাত করব। কেননা মহান আল্লাহই সবকিছুর মালিক।
উদ্দীপকের আব্দুর রহিম কুরআন তিলাওয়াতে (শরিয়তের) তাজবিদ সহকারে কুরআন পড়ার বিধানটি পালন হয়নি। কারণ তাজবিদসহ কুরআন তিলাওয়াত করা আল্লাহর নির্দেশ। তাই এটি ওয়াজিবও।
তাজবিদ শব্দের অর্থ উত্তম বা সুন্দর করা। আল-কুরআনের আয়াতসমূহকে উত্তমভাবে বা সুন্দর ও শুদ্ধ করে পড়াকে তাজবিদ বলা হয়। অর্থাৎ আল-কুরআনের প্রতিটি হরফকে মাখরাজ ও সিফাত অনুসারে বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করাকে তাজবিদ বলে।
আব্দুর রহিমের কুরআন তিলাওয়াত ছিল সুমধুর। কিন্তু তা ছিল অশুদ্ধ। যা আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী। কেননা তাজবিদ অনুযায়ী কুরআন পড়া আল্লাহ পাকের নির্দেশ। আর শুদ্ধরূপে কুরআন শিক্ষার মাহাত্ম্য অনেক। রাসুল (স.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়। সুতরাং আমরা তাজবিদ সহকারে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করব।
প্রদত্ত উদ্দীপকের আব্দুল করিমের কুরআন তিলাওয়াতের পদ্ধতিটি ছিল আল্লাহর নির্দেশের যথাযথ অনুসরণ।
তাজবিদ সহকারে কুরআন পড়া আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ। আর শুদ্ধরূপে কুরআন শিক্ষার ফজিলত অনেক। এ প্রসঙ্গে রাসুল (স.) ইরশাদ করেন- “তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়।
উদ্দীপকের আব্দুল করিমের কণ্ঠস্বর সুমধুর নয়। কিন্তু তিনি দেখে ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। কেননা তাজবিদ অনুসারী কুরআন পড়া ওয়াজিব, আর না পড়লে গুনাহ হয়। এতে অনেক সময় কুরআনের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। যেমন- সূরা ইখলাসে এসেছে (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) বলুন (হে নবি) তিনি আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়। এখানে (قُلْ)শব্দের অর্থ বলুন। আর যদি ও (কাফ)-কে ভুল মাখরাজ থেকে উচ্চারণ করে বলা হয় کُن তাহলে অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। কেননা ১৮ শব্দের অর্থ– খাও বা ভক্ষণ কর। ফলে আল কুরআনের অর্থের বিকৃতি ঘটে। যা কোনোভাবেই জায়েয নয়।
হাদিস (اَلْحَدِيثُ)শব্দটি আরবি। এর অর্থ- কথা, বাণী ইত্যাদি।
পবিত্র কুরআন মজিদ আরবি ভাষায় রচিত। আরবি ভাষায় রয়েছে ২৯টি হরফ বা বর্ণ। প্রত্যেকটি হরফ বা বর্ণ নির্দিষ্ট স্থান থেকে উচ্চারিত হয়। আরবি বর্ণ উচ্চারিত হওয়ার স্থানকে মাখরাজ বলে। মাখরাজগুলো মুখের ৫টি স্থানে অবস্থিত। এগুলোর মধ্যে হলক বা কণ্ঠনালি অন্যতম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!