উৎপাদন স্থির থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বেড়ে যাওয়াকে মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) বলে।
মানুষের অসীম অভাব এবং সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা থেকেই নির্বাচনজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়।
দুষ্প্রাপ্য সম্পদ দ্বারা কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলো আগে পূরণ করা হবে তা নির্ধারণ করা বা চিহ্নিত করাকেই 'নির্বাচন' বলা হয়। মানুষের অভাব অফুরন্ত আর এই অফুরন্ত অভাবের মধ্যে সব অভাব সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই অভাবের গুরুত্ব এবং সম্পদের বিকল্প বা দক্ষ ব্যবহারও নির্ধারণ করতে হয় বলে নির্বাচনজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে শামীম চৌধুরী অর্থনীতির ধারণা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ ও আলফ্রেড মার্শালের সংজ্ঞা অনুসরণ করেছেন।
অ্যাডাম স্মিথের মতে, 'অর্থনীতি এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ অনুসন্ধান করে।' সম্পদকে কেন্দ্র করেই অর্থনীতি গড়ে উঠে। তাই সম্পদ আহরণই মানুষের অর্থনৈতিক কার্যাবলির মূল উদ্দেশ্য। অর্থাৎ সমাজে কীভাবে সম্পদ উৎপাদন হয় এবং কীভাবে ব্যবহৃত হয় তা অর্থনীতির প্রকৃত আলোচ্য বিষয়। অ্যাডাম স্মিথই সর্বপ্রথম অর্থনীতিকে একটি স্বতন্ত্র ও বিশিষ্ট শাস্ত্রে রূপদান করেন। তিনি অর্থনীতিকে 'সম্পদের বিজ্ঞান' নামে আখ্যায়িত করেন। পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শাল বলেন, 'অর্থনীতি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।' সাধারণ কার্যাবলি বলতে মার্শাল মানুষের অর্থ উপার্জন ও ব্যয়সংক্রান্ত কার্যাবলিকে বুঝিয়েছেন। তার মতে, কেবল সম্পদ নয় বরং সম্পদকে কেন্দ্র করে মানুষের অর্থনৈতিক কার্যাবলি নিয়েই অর্থনীতি আলোচনা করে। অর্থাৎ অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন। তাই বলা যায় উদ্দীপকে শামীম চৌধুরী অর্থনীতির ধারণা অ্যাডাম স্মিথ ও আলফ্রেড মার্শালের সংজ্ঞা অনুসরণ করেছেন।
অর্থনীতির উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে নাছির ও অয়নের তেমন ধারণা নেই। তাই শিক্ষক শামীম চৌধুরী তাদের অর্থনীতির উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে জানতে বলেন। যা নিচে আলোচনা করা হলো-
প্রথমত, হযরত মুসা (আ.)-এর সময়ে অর্থাৎ ২৫০০ খ্রিষ্টপূর্ব হিব্রু (Hebrew) সভ্যতার যুগে ধর্মগ্রন্থে বা দর্শনের বইয়ে অর্থনীতি বিষয়ে অগোছালোভাবে কিছু আলোচনা হয়। দ্বিতীয়ত, প্রাচীন গ্রিস হলো এমন একটি দেশ যেখানে অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভিন্ন ধারণার উৎপত্তি ঘটে।এরিস্টটলের সময়ই গ্রিসের শ্রমিকদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ বণ্টন শুরু হয় যা পরবর্তীতে শ্রমবিভাগ বলে পরিচিতি লাভ করে। তৃতীয়ত, প্রাচীন ভারতে চতুর্থ খ্রিষ্টপূর্বে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে' রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি ও সামরিক বিষয়ের ওপর আলোচনা করা হয়। চতুর্থত, অর্থনীতি একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি পায় যখন ইংরেজ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ ১৭৭৬ সালে তার বিখ্যাত বই An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations 'রচনা করেন। আজকের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো অ্যাডাম স্মিথের এ বই। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, শিক্ষক শামীম চৌধুরী অর্থনীতির উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে যে ধারণা দিয়েছেন তা ছাড়াও অর্থনীতির বিকাশের ক্ষেত্রে আরও অনেক বিষয় রয়েছে।
Related Question
View Allভূমিবাদীদের (Physiocracy) মতে, কৃষিই (খনি ও মৎস্য ক্ষেত্রসহ) হলো অন্যতম বা প্রধান উৎপাদনশীল খাত।
দুষ্প্রাপ্যতা বলতে অসীম অভাবের তুলনায় সম্পদের সীমাবদ্ধতাকে বোঝায়।
মানুষ তার অভাব পূরণ করার জন্য যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ভোগ করতে চায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। অর্থাৎ মানবজীবনের অসংখ্য অভাবের তুলনায় উৎপাদনের উপকরণ তথা প্রাপ্ত সম্পদের স্বল্পতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে। উদাহরণ- সাকিবের কাছে এক হাজার টাকা আছে। তার শার্ট, প্যান্ট এবং ভালো জুতা দরকার। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তার টাকার পরিমাণ কম। এটি সম্পদের 'দুষ্প্রাপ্যতাকে' নির্দেশ করছে।
সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত। সেখানে প্রায় সব শিল্প- কারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি বা সামাজিক নির্দেশে পরিচালিত হয়ে থাকে। তাছাড়া সমাজতন্ত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত দামে দ্রব্যাদি ভোগ করে থাকে। কোনো ভোক্তা চাইলেই নিজের খুশিমতো অর্থ ব্যয় করে কোনো কিছু ভোগ করতে পারে না। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা নেই বললেই চলে, কারণ সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য পরিচালিত হয়। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে জমি, কলকারখানা ও খনি প্রভৃতি প্রায় সকল কিছুর মালিকানা থাকে সরকার বা রাষ্ট্রের হাতে। সেখানে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও বণ্টন প্রক্রিয়া (কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে, কীভাবে এবং কাদের জন্য উৎপাদিত হবে) সম্পর্কে মৌলিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার কিছু পার্থক্য রয়েছে।
যে অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের। ওপর রাষ্ট্রীয় বা সরকারি মালিকানা থাকে তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। পক্ষান্তরে, যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলা হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তার স্বাধীনতা থাকে না। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ভোক্তা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। কারণ সেখানে দাম-সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব কেন্দ্রের হাতে ন্যস্ত। সেখানে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় চাহিদা- যোগানের স্বয়ংক্রিয় ঘাত-প্রতিঘাতের দ্বারা দাম নির্ধারিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোন কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে ও কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কীভাবে বণ্টন করা হবে- এসব পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা নির্ধারিত হয়। তাই সেখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়, তাই সেখানে ধনতন্ত্রের মতো সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা ও মুনাফা অর্জনের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। সেই সাথে বেসরকারি পর্যায়ে - অর্থনৈতিক কার্যাবলির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকে।
কাজেই বলা যায়, সুমির দেশের অর্থব্যবস্থা তথা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার অনেক পার্থক্য রয়েছে।
ইংল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো- "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে।"
অর্থনীতির ভাষায় শ্রমিকদেরকে কাজে উৎসাহিত করার জন্য গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থাই হলো প্রণোদনা।
অর্থনীতিতে উৎসাহ বা প্রণোদনা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষ প্রণোদনা পায় বলেই যে কোনো কাজ যত্নের সাথে সম্পন্ন করে। কাজের স্থায়িত্ব, শ্রমিকদেরকে লভ্যাংশ প্রদান, বিনামূল্যে পোশাক, চিকিৎসা, বাসস্থান, বেতনসহ ছুটি, বৃদ্ধ বয়সে পেনশন, কাজের ঝুঁকি হ্রাস ইত্যাদি প্রণোদনার কৌশল ব্যবহার করে শ্রমিকদেরকে অধিক উৎপাদনে উৎসাহিত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!