শহিদ তিতুমীর ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা এবং সৈয়দ আহম্মদ বেরেলভীর শিষ্য।
শহিদ তিতুমীর ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা এবং সৈয়দ আহম্মদ বেরেলভীর শিষ্য।
নীলকর ও মহাজনদের অত্যাচার ও উৎপীড়ন থেকে সর্বহারা কৃষক সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য তিনি এক আন্দোলন পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত এ সংস্কার আন্দোলন ইতিহাসে ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত। আর ফরাজেয়ি শব্দটি ফরজ বা অত্যাবশ্যকীয় শব্দ থেকে উৎপত্তি বা ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন হিসেবে পরিচিত।
উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে নাজমুল হাসান সাহেবের মনে শহিদ তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার কথা মনে পড়ার কারণ হচ্ছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এটির গুরুত্ব অপরিসীম।
মূলত তিতুমীর ব্রিটিশদের শক্তিশালী আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য বিশ্বস্ত শিষ্য গোলাম মাসুদ ও মিসকিন আলীর পরিকল্পনায় নারিকেলবাড়িয়ার গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা স্থাপন করেন। আর এটি ছিল বাংলার প্রতি অত্যাচার - ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে এক তেজোদীপ্ত প্রতিবাদ। লর্ড বেন্টিংক লে-কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে তিতুমীরের বিরুদ্ধে একটি সুসজ্জিত বাহিনী প্রেরণ করা হলে তিতুমীর বাঁশের কেল্লার মাধ্যমে তা প্রতিহত করার ব্যবস্থা করেন। এ যুদ্ধের পরিণতি সম্পর্কে জেনেও তিতুমীর ইংরেজদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে ও পড়েন। কিন্তু তোপের মুখে তাঁর বাঁশের কেল্লা বেশিক্ষণ টিকে থাকতে । পারেনি। তবু বীরের মতো লড়াই করে তিতুমীর বহু অনুচরসহ নিহত হন। ন তবে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ধ্বংস হলেও তা যুগ যুগ ধরে বাঙালিদের স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনা ও প্রেরণা জুগিয়েছে।
এর সুতরাং বলা যায় যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের ভাষণ শুনে যেমন ত্ব বাঙালিরা স্বাধীনতার চেতনা পেয়েছিল ঠিক তেমনি উদ্দীপকে নাজমুল এ হাসান সাহেবের সংগ্রামের একই অনুভূতি পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে নাজমুল হাসানের উপলব্ধি অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর ন্যায় শহিদ
তিতুমীরও মুক্তির জ্বলন্ত প্রতীক ছিলেন বলে আমি একমত পোষণ করছি। ভারতবর্ষের ইতিহাসে জমিদার নীলকর ও শোষক শ্রেণির অত্যাচার, নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে শহিদ তিতুমীর ছিলেন এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। তিনি জমিদার ও নীলকরদের অবৈধ কর ও রাজস্ব দিতে নিজ অনুসারীদের বারণ করেছিলেন। মূলত তার সংগ্রাম ছিল অত্যাচার ও শোষণ আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে। তিনি হিন্দু-মুসলিম সকল নিপীড়িত জনগণকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ন্যায়ের সংগ্রামে ঐক্যবন্ধ করে সামরিক শিক্ষা শুরু করেন। এর ফলে কৃষ্ণদেব রায় ও কালীপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় প্রমুখ জমিদার ভীত হয়ে ব্রিটিশদের কাছে তিতুমীরের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ রটান। কিন্তু অকুতোভয় তিতুমীর সরকারকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, তার সংগ্রাম হচ্ছে অত্যাচারী জমিদার, নীলকরদের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে। কিন্তু ব্রিটিশরা তার কথায় কর্ণপাত না করে ম্যাজিস্ট্রেট আলেকজান্ডারকে তার বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে চব্বিশপরগনা, নদীয়া ও ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করেন। তবে এ ঘটনায় বড়লাট বেন্টিংক শঙ্কিত হন। এবার তিতুমীর প্রধান সহকারী গোলাম মাসুদ ও মিসকিন আলীর পরামর্শে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সুশিক্ষিত ইংরেজ বাহিনীর কাছে বাঁশের কেল্লার পতন ঘটে এবং তিতুমীর ও তার অনেক অনুচর নিহত হন।
Related Question
View Allব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসকে ইমপিচমেন্টের সম্মুখীন হতে হয়।
ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্ধারিত তারিখে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভূমি নিলামে তুলে বকেয়া আদায়ের যে কঠোর আইন ছিল, তাকে সূর্যাস্ত আইন বলে।
১৭৯৩ সালে সূর্যান্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী জমিদারদের নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করতে হতো। যেসব জমিদার ঐ সময়ের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হতেন, তাদের জমিদারি নিলামে তোলা হতো। সূর্যান্ত আইনের কবলে পড়ে বাংলার অসংখ্য জমিদার, বিশেষ করে মুসলমান ভূস্বামীরা তাদের জমিদারি হারান
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনে ব্রিটিশ ভারতের নিয়ামক আইন বা রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর প্রতিফলন ঘটেছে।
দ্বৈতশাসনের কারণে সৃষ্ট জটিলতা ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের ফলে বাংলায় ব্যাপক মানবীয় বিপর্যয় ঘটে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীরা আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়। তারা কোম্পানিকে দেউলিয়াত্বের পর্যায়ে নিয়ে যায়। এরপর ১৭৭২ সালে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ওয়ারেন হেস্টিংসকে বাংলার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তার দায়িত্ব ছিল এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটানো। ১৭৭৩ সালে তিনি 'নিয়ামক আইন' প্রণয়ন করেন, যা কোম্পানিকে ভারতের শাসক হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়। মূলত এ আইনটি ছিল কোম্পানির ভারতীয় সাম্রাজ্য সম্পর্কে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মধ্যকার একটি আপোস রক্ষামূলক ব্যবস্থা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কোম্পানি পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠার সময় কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যাপক বিস্তৃতির ফলে বেশ কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং আইনের কয়েকটি ধারা অকার্যকর প্রমাণিত হয়। এ প্রেক্ষিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপককে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। নতুন আইনটি কোম্পানির ব্যবসা বৃদ্ধিতে সহায়ক হলেও ত্রুটিপূর্ণ ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত আইনে ব্রিটিশ ভারতের নিয়ামক আইনেরই প্রতিফলন ঘটেছে
উক্ত আইন অর্থাৎ নিয়ামক আইনের ত্রুটি বিশ্লেষণসহ আমার মতামত
নিম্নরূপ-
প্রথমত, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এ আইনের মাধ্যমে কোম্পানির ভারতীয় সাম্রাজ্যের ওপর সার্বস্ট্রেীম ক্ষমতা স্থাপন করতে চেয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। কেননা, এ আইনে সার্বভৌমত্ব কার্যকর করার জন্য কোনো এজেন্সি গঠনের প্রস্তাব করা হয়নি।
দ্বিতীয়ত, এ আইনের দ্বারা মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সির ওপর কলকাতা প্রেসিডেন্সির কর্তৃত্ব স্থাপন করা হয়। কিন্তু কর্তৃত্বের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট না থাকায় পরবর্তীতে বহু জটিলতার সৃষ্টি হয়।
তৃতীয়ত, গভর্নর জেনারেল ও তার পরিষদের কর্তৃত্বের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট না হওয়ার সুযোগে মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সি স্বাধীনভাবে চলতে চেষ্টা করে। এর ফলে বাংলা প্রেসিডেন্সির সাথে মতবিরোধ দেখা দেয়।
চতুর্থত, গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের সদস্যবর্গ এবং সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির নিয়ন্ত্রণ ছিল। এতে শাসনকার্যে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি হয়।
পঞ্চমত, ভারতে ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর সুপ্রিমকোর্টের এখতিয়ার স্থাপন করা হলেও এ আইনে ব্রিটিশ নাগরিকদের সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট না 'হওয়ায় কোর্টের সাথে কাউন্সিলের সদস্যদের নানা বিষয়ে মতানৈক্য দেখা যায়।
ষষ্ঠত, সেসময় সুপ্রিমকোর্ট ইংল্যান্ডের আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করতো। অপরদিকে, গভর্নর জেনারেল ও তার কাউন্সিল ভারতীয় আইন দ্বারা সদর দেউয়ানি আদালত ও সদর নিজামত আদালতগুলোতে বিচারকার্য চালাতো। ফলে আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, নিয়ামক আইনের উদ্দেশ্য মহৎ ছিল, কিন্তু এ আইনের সৃষ্ট ব্যবস্থা ছিল ত্রুটিপূর্ণ।
১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা রহিত করা হয়।
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য স্থাপনে যেসব গভর্নর জেনারেল অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন, লর্ড ওয়েলেসলি তাদের অন্যতম। তিনি নতুন ইংরেজ কর্মচারীদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব করেন। কিন্তু বোর্ড অব ডাইরেক্টরস তার এ পরিকল্পনা অনুমোদন না করায় পরে তা ভারতীয় ভাষা শিক্ষার কলেজে পরিণত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!