মানুষ হয়ে মানুষকে ঘৃণা বা উপেক্ষা করা আত্মার ধর্ম নয়।
আমাদের সমাজের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি সাধনের জন্য লেখক বোধন-বাঁশিতে সুর দিতে বলেছেন।
বোধন-বাঁশিতে সুর দেওয়া বলতে লেখক ভদ্র সম্প্রদায়ের মধ্যে বোধ জাগ্রত হওয়ার বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন। আমাদের সমাজে মানুষে মানুষে বৈষম্য এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যেখানে তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায় বসেছেন সমাজের সর্বোচ্চ আসনে। তারা অপেক্ষাকৃত নিচু সম্প্রদায়কে ঘৃণা করেন, অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখেন। এ কারণেই আমাদের সমাজ এতখানি পশ্চাৎপদ। এ পশ্চাৎপদ সমাজকে টেনে তুলতে হলে ভদ্রলোক সম্প্রদায়ের মধ্যে বোধের জাগরণ ঘটাতে হবে। এজন্য লেখক বোধন-বাঁশিতে সুর দিতে বলেছেন।
উদ্দীপকের মাহফুজের মাধ্যমে 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের সমাজের আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায়ের মনোভাবের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
সমাজে মানুষে মানুষে বৈষম্য বিদ্যমান। এই শ্রেণিবৈষম্যের কারণে আমরা আজ পিছিয়ে পড়েছি। ধনিক শ্রেণির মানুষ নানাভাবে দরিদ্রদের অবহেলা ও শোষণ করে আসছে। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে সমাজের উন্নতি সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের প্রতি চরম অবহেলা ও ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে চেয়ারম্যানের ছেলে মাহফুজের আচরণে। সে তাদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে আসা নিম্নশ্রেণির মানুষদের দেখে বিরক্ত হয়। এ বিষয়টি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে প্রকাশিত সমাজের আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায়ের আচরণ ও মানসিকতার প্রতি ইঙ্গিত করে। আমাদের দেশের দশ আনা শক্তি যাদের ওপর নির্ভর করছে তাদেরই শোষণ ও অবহেলা করে আসছে তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায়। উদ্দীপকের মাহফুজের মাধ্যমে প্রবন্ধের এই ভদ্র সম্প্রদায়ের মানসিকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
চেয়ারম্যান সাহেব যেন 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের লেখকের ভাবনাকেই ধারণ করেছেন- মন্তব্যটি যথার্থ।
যুগ যুগ ধরে সমাজে শ্রমজীবী মানুষেরাই সভ্যতা গড়ে তুলতে এগিয়ে এসেছে। অথচ তারাই তথাকথিত ভদ্রলোকদের কাছে 'ছোটলোক' পরিচয়ে পরিচিত এবং তাদের দ্বারা নানাভাবে শোষিত ও অবহেলিত। আমাদের উচিত এসব মানুষের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, আমাদের দেশের বৃহৎ অংশ শ্রমজীবী মানুষ। তারা আজ ভদ্র সম্প্রদায় দ্বারা উপেক্ষিত ও অবহেলিত। দেশের মোট শক্তির হিসাবে এরা দশ আনা। এই দশ আনা শক্তি তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায় দ্বারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অথচ এরা ঐক্যবদ্ধ মহাশক্তিরূপে দেশ ও সমাজের কল্যাণ সাধন করে। উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের মধ্যেও এই মানবিক বোধের প্রকাশ ঘটেছে। তিনি মনে করেন ছিন্নমূল হতদরিদ্র লোকেরাও মানুষ। তাই তিনি তাদের মেয়ের বিয়েতে দাওয়াত করেছেন এবং নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করেছেন। তিনি দরিদ্র ও শ্রমজীবীদের অবহেলা না করে মূল্যায়ন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন এরাই দেশ ও জাতির সম্পদ। দেশের উন্নয়নে এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব মানুষই দেশের সম্পদ, জাতির শক্তি।
'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখক পতিত, চন্ডাল, ছোটলোক ভাইদের বুকে টেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে বলেছেন। উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবও মেয়ের বিয়েতে সাধারণ এসব মানুষকে আপ্যায়ন করার মধ্য দিয়ে এ কাজটিই করেছেন। এ দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!