Retting শব্দের অর্থ পাট জাগ দেওয়া বা পচানো অর্থাৎ পাটের ছাল ফিতার মতো বের করে পচাকে বোঝায়।
গ্রীষ্মকালে চারপাশে ফুলের প্রাচুর্যতা কমে যায়। যার কারণে মৌমাছিরা চাকে বেশি মধু সঞ্চয় করতে পারে না বলে কলোনিতে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। এ সময় মৌমাছিদের কাজ কম থাকে এবং রানী মৌমাছি ডিম পাড়া কমিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে নাজিম মুন্সিকে দেওয়া কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শকৃত পদ্ধতিটি ছিল পাটের রিবন রেটিং। রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচনের কৌশলগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো
i. পাট গাছের বয়স ১০৫-১১০ দিন হলে পাট কাটা উচিত। কারণ এ সময় পাট কাটলে আঁশের মান ভালো হয়, গোড়ায় তেমন কাটিং থাকে না।
ii. পাট কাটার পর পাতা ঝরানোর জন্য পাতার অংশগুলো খড়কুটা দিয়ে ৭২ ঘন্টা (৩ দিন) ঢেকে রাখলে পাতা ঝরে যায় অথবা পাট গাছের আগা থেকে ৬-৯ ইঞ্চি (১৫-২২.৫ সেমি) পরিমাণ মাথা কেটে দিলে পাতা ঝরানোর প্রয়োজন হয় না। এরপর পাট গাছের গোড়ার ৩-৪ ইঞ্চি পরিমাণ অংশ বাঁশের মুগুর বা হাতুড়ি দিয়ে থেঁতলাতে হবে।
iii. পাতা ঝরানো ও গোড়া থেঁতলানোর পর ইংরেজি 'U' আকৃতি রিবনারের সাহায্যে ছাল ছাড়াতে হয়। তিনটি পাটকাঠি 'U'- এর মধ্যে রেখে ছাল দু'দিকে টান দিলেই কাঠি থেকে ছাল সহজে পৃথক হয়ে আসে। পরে কয়েকটি গাছের ছাল একত্রে নিয়ে আঁটি বাঁধা হয়।
iv. প্রতি বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে উৎপাদিত পাটের ছাল পচানোর জন্য ১টি গর্ত (১২ হাত লম্বা, ৪ হাত পাশ এবং ২ হাত গভীর) করতে হবে এবং পলিথিন দিয়ে গর্তের তলা ও কিনারা ভালোভাবে ঢেকে দিতে হবে। এরপর গর্তে প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে গর্তের ভেতরে মুড়ি/আঁটি/বান্ডিল বাঁধা ছালগুলোকে ফেলতে হবে। প্রতি কেজি ছাল পচার জন্য ৩-৪ লিটার পানির প্রয়োজন হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, মুড়ি/বান্ডিল বাঁধা ছালগুলো পুকুর, ডোবা, মাটি বা সিমেন্টের চাড়িতে বা মাটির গর্তে পলিথিন ব্যবহার করে জাগ দেওয়া যায়। সাধারণত ১২-১৫ দিনের মধ্যে পচন সম্পন্ন হয়। ছালে পচন ক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য গর্তের পানিতে কিছু পাট পচা পানি দিতে হবে অথবা প্রতি ১০০০ কেজি ছালের জন্য ১০০ গ্রাম ইউরিয়া সার দিতে হবে। গুণগতমানের আঁশ উৎপাদনে এ পদ্ধতি অত্যন্ত উপযোগী।
V. ছাল পানিতে ডুবানোর ৭-৮ দিন পর দু'একটা ছাল তুলে ও ধুয়ে দেখতে হয় আঁশ পৃথক হয়েছে কিনা। সাধারণত ১২-১৫ দিনের মধ্যে পচন সম্পন্ন হয়। ছাল ধুয়ে আঁশ সংগ্রহ করতে হয়।
উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে পাটের রিবন রেটিং পদ্ধতিতে অল্প পানিতে পাটের ছাল পচানোর পদ্ধতি জানা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতিটি হলো পাটের রিবন রেটিং। পাটের রিবন রেটিং হলো বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত স্বল্প পানিতে অল্প সময়ে পাট পচানোর একটি বিকল্প পদ্ধতি। পাটের গুণগতমান সংরক্ষণের জন্য এই প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিভিন্ন স্থানে নদ-নদী, পুকুর ইত্যাদির অভাব ও পরিষ্কার পানির অভাবে পাটের আঁশের মানগত অবস্থা অনেক সময় হ্রাস পায়। এ অবস্থায় বাংলাদেশের পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট বহু পরীক্ষার পর বাঁশের হুকের সাহায্যে বা সিংগেল রোলার রিবনার বা ডাবল রোলার রিবনার এর সাহায্যে কাঁচা পাটের গাছ থেকে ছাল ছাড়ানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। এ পদ্ধতিতে স্বল্প পানিতে অথবা পানির পাত্রে, যেমন- চাড়িতে পাট জাগ দেওয়ার মাধ্যমে পাটের উন্নত আঁশ সংগ্রহ করা যায়। রিবন রেটিং এ লোহার তৈরি হুক ব্যবহার করা হয়। হুকের সাথে ঘূর্ণায়মান রিং থাকে। ফলে ছাল টানার সময় দ্রুত ছাল সরে যায়। এ পদ্ধতিতে পাটের আঁশ ছাড়ালে আঁশের স্থিতিস্থাপকতা দৃঢ় থাকে, ফলে তার মূল্য বৃদ্ধি পায়। প্রাপ্ত পাটকাঠি মজবুত ও টেকসই হয়। আঁশে কাটিংস হয় না বলে উন্নত আঁশ পাওয়া যায়। অল্প জায়গায় বেশি পাট পচানো যায়। লোহার রিবনার বহু বছর ব্যবহার করা যায়। এই পদ্ধতিতে ছাল ছাড়াতে বিঘা প্রতি তুলনামূলক শ্রমিক (৪-৫ জন) কম লাগে। সর্বোপরি অনেক কম সময়ে আঁশ ছাড়ানো যায় বলে এ পদ্ধতিতে চাষি দ্রুত লাভবান হতে পারে।
উল্লিখিত আলোচনা থেকে বলা যায়, পাটের আঁশের গুণগতমান সংরক্ষণে রিবন রেটিং পদ্ধতি ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম।
Related Question
View Allঅভিজ্ঞ কৃষক হলো একজন স্থানীয় নেতা ও কৃষকদের পরামর্শদাতা যিনি নিজ উৎসাহে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন ও নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন।
কৃষি তথ্য সার্ভিস গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান, যা গণমাধ্যমের সাহায্যে কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তিসমূহ গ্রামীণ পর্যায়ে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে।
বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত আধুনিক লাগসই কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি সহজ, সরল, সাবলীল এবং বোধগম্যভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করাই কৃষি তথ্য সার্ভিসের প্রধান লক্ষ্য। আধুনিক তথ্যবহুল ওয়েবসাইট, কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র, মোবাইলভিত্তিক কৃষি তথ্য সেবা, কমিউনিটি রেডিও, কৃষক টেলিভিশন, ই-বুক এসবের মাধ্যমে ডিজিটাল কৃষি বা ই-কৃষির সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়ে চলেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া পোস্টার, লিফলেট, বুকলেট ও ভিডিওচিত্র তৈরি এবং কৃষি ডায়েরি, কৃষি কথা প্রভৃতি প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
উদ্দীপকে শাওনের অধ্যয়নরত বিশ্ববিদ্যালয়টি হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৬টি অনুষদের ছাত্র-ছাত্রীদের স্ব-স্ব বিষয়ের ওপর ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি প্রদান করা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষা কার্যক্রম। অনুষদগুলো হলো-
i. কৃষি অনুষদ: কৃষিজ ফসল উৎপাদন, মাটির গঠন এবং কৃষি সম্প্রসারণ বিষয়ক শিক্ষা প্রদান করা হয়।
ii. পশুপালন অনুষদ: পশুপালন পদ্ধতি, পশুর পুষ্টি ও প্রজনন নিয়ে বিস্তৃত শিক্ষা দেওয়া হয়।
iii. পশু চিকিৎসা অনুষদ: পশুর বিভিন্ন ধরনের রোগ ও এর প্রতিকার বিষয়ক শিক্ষা প্রদান করা হয়।
iv. মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ: মাছ চাষ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিশদ শিক্ষা দেওয়া হয়।
v. কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ: বিভিন্ন ধরনের কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি ও এর কার্যক্রম নিয়ে পাঠ্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
vi. কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ: গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবস্থা ও সমবায়-বিপণন নিয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়।
তাছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম হলো-
i. স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষাক্রম পরিচালনা করা।
ii. শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে বিভিন্ন বিষয়ের গবেষণার ফলাফল শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা।
iii. শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ গ্রন্থাগারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের পুস্তক, জার্নাল, থিসিস, লিফলেট, পত্রপত্রিকা ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা।
তাই বলা যায়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উল্লিখিত শিক্ষা কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করে কৃষি শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকের শাওন উদ্যোক্তা হিসেবে মৌমাছি চাষ করে। মৌমাছি চাষের মাধ্যমে মধু উৎপাদন করে বাড়তি আয় দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব। এ চাষে কম পুঁজি নিয়ে কাজ শুরু করে বেশি লাভবান হওয়া যায়।
মৌমাছি চাষের জন্য ব্যাপক জমির প্রয়োজন হয় না। শুধু জমির আইল বা বাগানের নিচে মৌবাক্স বসিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। শীত মৌসুমে একটি বাক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে এক কেজি মধু পাওয়া যায়। ১০টি বাক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে ১০ কেজি অর্থাৎ, মাসে ৪০ কেজি মধু পাওয়া যায়। এভাবে মধুর মৌসুমে ব্যাপক টাকা আয় করা সম্ভব। মৌচাক দিয়ে মোম তৈরি করা যায়। মৌমাছি প্রধানত মধু উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়। রোগব্যাধি নিরাময়ে মধুর ব্যবহার অতি সুপ্রাচীন। আয়ুর্বেদীয় এবং ইউনানী পদ্ধতিতে তৈরি বহু ওষুধেই মধু ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মৌমাছির চাকের মধু, মোম ও পরাগরেণু মিশিয়ে যে মৌ- রুটি তৈরি করা হয় তা ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় উপকারী বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া মৌমাছি ফুলে ফুলে ঘুরে পরাগায়ন ঘটায় যার ফলে দানা-বীজ তৈরি হয়। সরিষা ফসলে মৌমাছির চাক বসালে ফসলের ফলন ২০-৩০% বৃদ্ধি পায়। আবার, সরিষা থেকে মধু সংগ্রহ করে একই সাথে দ্বিগুণ লাভ হয়। মাত্র একবার ১৫-১৬ হাজার টাকা ব্যয় করে প্রথমে প্রকল্প স্থাপন করলে মৌ- বাক্স এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি ১০-১৫ বছর ব্যবহার করা যায়। এতে বাড়তি কোনো খরচও হয় না। এই উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণের সাথে বহুলোক জড়িত থাকে বিধায় বেকারত্ব সমস্যা কমে। এমনকি মধু ও মোম বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।
অতএব বলা যায়, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে শাওনের নেওয়া মৌমাছি চাষের উদ্যোগটি অত্যন্ত লাভজনক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের সমস্যা সমাধানে প্রতি মাসে অথবা জরুরি প্রয়োজনে কৃষকদের নিয়ে যে বৈঠক করেন তাকে উঠোন বৈঠক বলে।
উদ্যান জাতীয় ফসল বাড়ির আশেপাশে বন্যামুক্ত উর্বর জমিতে বিশেষ যত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ করা হয়। স্বল্প পরিসরে বাড়ির আশেপাশে চাষ করা গেলেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও মাঠে আলু চাষ করা হয়।
উদ্যান ফসল তাজা ও রসালো অবস্থায় ব্যবহার করা হয়। আলু সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। আলু চাষের সময় ও পরিপক্কের পর উত্তোলনের সময় বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়, যা উদ্যান ফসলের বৈশিষ্ট্য। এসব কারণে আলুকে উদ্যান ফসল বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!