বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী পাস হয় ১৯৯১ সালে।
মৌলিক অধিকার বলতে রাষ্ট্রপ্রদত্ত সেসব সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায়, যা নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য একান্ত অপরিহার্য।
মানুষের সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং ব্যক্তিত্ব ও মেধা বিকাশের জন্য যে সকল অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক বলবৎ করা হয়, সেগুলোই মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত। সংবিধানের ২৭ থেকে ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মোট ১৮টি মৌলিক অধিকার সন্নিবেশ করা হয়েছে। যেমন- জীবনধারণের অধিকার, স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও বাক্ স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, ধর্মচর্চার অধিকার, সম্পত্তি লাভ ও ভোগের অধিকার প্রভৃতি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির সাথে বাংলাদেশের সংবিধান রচনার মিল পাওয়া যায়।
সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ' জারি করেন। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে আইন মন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল। কমিটির সদস্যগণ সর্বমোট ৪৭টি বৈঠক শেষে সংবিধানের খসড়া তৈরি করেন এবং তা ১৯ অক্টোবর, ১৯৭২ গণপরিষদে উত্থাপিত হয়। এরপর সংবিধানের বিভিন্ন দিক গণপরিষদে আলোচনার পর ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, নাদির খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশাস্ত্রে অধ্যয়নরত। বিভিন্ন দেশের সংবিধানের ইতিহাস পড়তে গিয়ে সে দেখল একটি দেশ অতি দ্রুততার সাথে একটি অনন্য প্রকৃতির সংবিধান রচনা করেছে। এ থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকের দেশটির সংবিধান রচনার সাথে বাংলাদেশের সংবিধান রচনার সাদৃশ্য রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ অতি দ্রুততার সাথে সংবিধান রচনা করেছে। বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করতে স্বাধীনতার পর মাত্র নয় মাস সময় লাগে এবং সেখানে জনগণের সকল অধিকার সম্পূর্ণ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
উদ্দীপকের দেশটির অর্থাৎ বাংলাদেশের সংবিধানে সন্নিবেশিত চতুর্থ মূলনীতি হলো ধর্মনিরপেক্ষতা।
ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হলো- এখানে জনগণের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকবে
এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ধর্মের অপব্যবহার বিলোপ করা হবে। দেশে বসবাসরত প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজ পছন্দ অনুযায়ী ধর্ম পালন, চর্চা ও প্রচার করতে পারবে। এক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ধর্মাবলম্বীকে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা যাবে না বা তার প্রতি কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয় যে, ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হলো সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতার অবসান। রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা না দেয়া এবং ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বা নিপীড়নের অবসান। সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ধর্মহীনতা ছিল না, সকল নাগরিকের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা ছিল। এর মূলকথা ছিল রাষ্ট্র ধর্মের ব্যাপারে কোনো পক্ষপাতিত্ব করবে না। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করে যাদের অধিকাংশই মুসলমান। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ এদেশে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তাদের মাঝে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিদ্যমান। ১৯৭৯ সালে ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতার স্থলে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংযোজন করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা ধর্মনিরপেক্ষতাকে পুনরায় রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
উপরের আলোচনা শেষে আমরা বলতে পারি, সমাজজীবন থেকে সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতার অবসান ঘটিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সমাজব্যবস্থা কায়েম করাই হচ্ছে এ রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।
Related Question
View All১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন যে অধিকার সনদ প্রণয়ন করেছিলেন তার নাম 'ম্যাগনাকার্টা'।
একটি রাষ্ট্রকে সঠিক ও যথার্থভাবে পরিচালনা ও রাষ্ট্রীয় জীবনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সুষ্ঠু সংবিধান প্রণয়ন অপরিহার্য।
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। সংবিধানে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, শাসকের ক্ষমতা এবং নাগরিক ও শাসকের সম্পর্ক কীরূপ হবে তা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। জনগণের মৌলিক অধিকার কী কী এবং কীভাবে সংরক্ষিত হবে তাও সংবিধান নির্দিষ্ট করে। সংবিধান ছাড়া একটি সভ্য রাষ্ট্র পরিচালনার কথা কল্পনা করা যায় না। তাই বলা যায়, রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বিক দিক পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য সংবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন।
'ক' সংগঠনটি পরিচালনার নিয়মাবলি অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অলিখিত সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- এটি ঐতিহাসিকভাবে উদ্ভূত সাধারণ প্রচলিত প্রথা, রীতি-নীতি, অভ্যাস-আচরণের ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়। কোনো পরিষদ, সম্মেলন বা বিশেষভাবে গঠিত আইন পরিষদ কর্তৃক অলিখিত সংবিধান সৃষ্টি করা হয় না। লিখিত সংবিধান যেমন দলিল আকারে পাওয়া যায়, অলিখিত সংবিধান সেরূপ পাওয়া যায় না। অলিখিত সংবিধানের পরিবর্তন প্রক্রিয়াও সহজ। অলিখিত সংবিধান ব্যবস্থায় সাধারণ আইন-কানুন ও শাসনতান্ত্রিক আইনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
উদ্দীপকের 'ক' নামক সামাজিক সংগঠনটি চিরাচরিত নিয়ম-কানুন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এর নিয়মগুলো কোথাও লিপিবদ্ধ করা হয়নি। এতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। এখানে মূলত অলিখিত সংবিধানের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা 'ক' নামক সংগঠনের নিয়মগুলোর বৈশিষ্ট্যে উপরে আলোচিত অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' সংগঠন পরিচালনার নিয়মাবলির সাথে অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যেগুলো সাদৃশ্যপূর্ণ।
'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলির সাথে লিখিত সংবিধানের সাদৃশ্য রয়েছে। 'ক' ও 'খ' প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালনার নিয়মাবলির মধ্যে আমি 'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি উত্তম বলে মনে করি।
লিখিত সংবিধানের অধিকাংশ ধারা লিখিত থাকে বলে এটি জনগণের নিকট সুস্পষ্ট ও বোধগম্য হয়। এতে সাধারণত সংশোধন পদ্ধতি উল্লেখ থাকে বিধায় খুব সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না। আবার লিখিত সংবিধান স্থিতিশীল বিধায় শাসক তার ইচ্ছামতো এটি পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে না। লিখিত সংবিধানের সকল ধারা জনগণ ও শাসক মেনে চলতে বাধ্য হয়। সংবিধান লিখিত থাকায় জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়।
অন্যদিকে অলিখিত সংবিধান অস্পষ্টতা দোষে দুষ্ট। শাসক-শাসিতের সম্পর্ক বা অন্যান্য বিষয়গুলো এ সংবিধানে লিখিত থাকে না। সে কারণে শাসক ও শাসিত তাদের সুনির্দিষ্ট অধিকার, কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা গ্রহণ করতে পারে না। ফলে শাসনব্যবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। আবার অধিক পরিবর্তনশীলতার কারণে সংবিধানে স্থায়ী নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অলিখিত সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হবার আশঙ্কা থাকে।
উদ্দীপকের 'খ' নামক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও স্কুল পরিচালনায় সুস্পষ্টভাবে লিখিত নিয়মকানুন মেনে চলেন এবং যেকোনো ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হন। তাই আমি মনে করি 'ক' ও 'খ' প্রতিষ্ঠান দুটির নিয়মাবলির মধ্যে 'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি উত্তম।
বাংলাদেশের সংবিধান ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে কার্যকর হয়।
যে সংবিধানের অধিকাংশ নিয়ম কোনো দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না তাকে অলিখিত সংবিধান বলে। এ ধরনের সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- প্রথা ও রীতিনীতিভিত্তিক, চিরাচরিত নিয়ম ও আচার- অনুষ্ঠানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা। কোনো পরিষদ, সম্মেলন বা বিশেষভাবে গঠিত আইন পরিষদ কর্তৃক অলিখিত সংবিধান সৃষ্টি করা হয় না। লিখিত সংবিধান যেমন দুলিল আকারে পাওয়া যায়, অলিখিত সংবিধান সেরূপ পাওয়া যায় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!