'দারা' শব্দের অর্থ স্ত্রী।
'আয়ু যেন শৈবালের নীর' বলতে মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনকে নির্দেশ করা হয়েছে।
শেওলার উপর পানির ফোঁটা যেমন ক্ষণস্থায়ী তেমনই ক্ষণস্থায়ী মানুষের জীবন। অল্প আয়ু নিয়ে মানুষ এ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার অস্তিত্ব নিঃশেষ হয়। সমস্ত হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে এভাবেই চিরবিদায় ঘটে একটি সত্তার। তাই কবি মানবজীবনকে শৈবালের উপরের জলবিন্দুর সঙ্গে তুলনা করেছেন। শৈবালের উপর পানির ফোঁটাও মানব আয়ুর মতো ক্ষণকাল স্থায়ী হয়। আলোচ্য অংশে এ বিষয়টিই প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্দীপকে 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় উল্লিখিত সাহসী যোদ্ধার মতো সংগ্রাম করে টিকে থাকার দিকটি উন্মোচিত হয়েছে।
অনুকূল আর প্রতিকূল এই দুই ধরনের পরিবেশে মানুষের বাস। তাই এ দুই-ই ঘুরে-ফিরে আসে মানবজীবনে। অনেক সময় প্রতিকূলতাকে মানুষ ভয় করে পিছিয়ে পড়ে জীবনযুদ্ধের ময়দান থেকে। কিন্তু যারা এই প্রতিকূলতাকে মেনে নিয়ে প্রতিনিয়ত এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, শেষ পর্যন্ত তারাই বিজয়ী হয়।
জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি বলেছেন জীবনটা এক যুদ্ধক্ষেত্র। সাহসী যোদ্ধার মতো সংগ্রাম করে এখানে টিকে থাকতে হয়। নানা ঘাত-প্রতিঘাত দেখে যারা ভীত হয়, পিছিয়ে যায় তারা কখনই সাফল্য অর্জন করতে পারে না। উদ্দীপকের কাশেমের জীবনেও 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার এই দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। পাঁচবার বিএ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও সে একেবারে ভেঙে পড়েনি। ষষ্ঠবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে কৃতকার্য হয়েছে।
"উদ্দীপকটি 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও চেষ্টা জীবনে সফলতা বয়ে আনে। তাই জীবন অর্থহীন নয়, বরং এই তিনের মাধ্যমেই জীবনের প্রকৃত অর্থের সন্ধান পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে সামনে থাকে মহামানবদের কীর্তিময় জীবনাদর্শ। তাঁরা নিজ নিজ কর্ম দ্বারা পৃথিবীতে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি এ বিষয়গুলোকে তুলে ধরেছেন। আমাদের জীবন নিছক স্বপ্ন নয়, বরং অনেক মূল্যবান। জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং এর প্রতিটি পদে আছে প্রতিকূলতা। তাই মানুষকে এ পৃথিবীতে সাহসী যোদ্ধার মতো সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হবে। মহাজ্ঞানী ও মহান ব্যক্তিদের পথ অনুসরণের মাধ্যমে প্রত্যেককে বরণীয় হতে হবে। অন্যদিকে উদ্দীপকে বলা হয়েছে সাহসী যোদ্ধার মতো সংগ্রাম করে সফলতা অর্জনের কথা। কাশেম বারবার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও মুষড়ে পড়েনি। গ্রামের একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নিয়ে সে আবারও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং কৃতকার্য হয়।
উদ্দীপকের কাশেমের চেষ্টায় সাহসী যোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি লক্ষণীয়, যা 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি তুলে ধরেছেন। তবে কবিতার বিষয়বস্তু আরও ব্যাপক। এসব দিক বিচারে তাই বলা হয়েছে উদ্দীপকটি কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!