নান্টু মিঞা একজন কৃষক। তিনি অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেন। তিনি জমির মালিককে জমি ব্যবহারের জন্য ৩,০০০ টাকা, জমিতে নিয়োগকৃত শ্রমিকের মজুরি ১,৫০০ টাকা, বিনিয়োগকৃত মূলধনের সুদ বাবদ ১,২০০ টাকা এবং ঝুঁকি বহনের জন্য ২,০০০ টাকা দেন। তিনি দৈনিক ৬০০ টাকা হারে ট্রাক্টর ভাড়া করে জমি চাষ করেন। তার দেখাদেখি অন্যরাও ট্রাক্টর ভাড়া করে জমি চাষ আরম্ভ করে। ফলে ট্রাক্টর ভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৭৫০ টাকা। 

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

শুধু জমি ব্যবহারের জন্য এর মালিককে যে অর্থ প্রদান করা হয় তাকে নিট খাজনা বলে।

উত্তরঃ

জনসংখ্যা বৃদ্ধির দরুন জমির চাহিদা বৃদ্ধি পেলে এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কারণে অনুপার্জিত আয়ের উদ্ভব হয়।
জনসংখ্যা বাড়ার কারণে যদি কোনো এলাকার জমির চাহিদা বেড়ে যায়, তবে সে এলাকার জমির মূল্য আগের চেয়ে বেশি হবে। আবার স্থানীয় কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাধীনে যদি কোনো এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অফিস আদালত ইত্যাদি গড়ে ওঠে, তবে সে এলাকার জমির গুরুত্ব অনেকগুণ বেড়ে যায়। এতে জমির মালিকের অনুপার্জিত আয় সৃষ্টি হবে। এভাবেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি অনুপার্জিত আয়ের সৃষ্টি করবে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে নিচে মোট খাজনা নির্ণয় করা হলো। ভূমি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা থেকে মোট যে আয় অর্জিত হয়, তাকে মোট খাজনা বলে। ফলে, মোট খাজনা নিট খাজনা সুদ+ মজুরি + কর + মুনাফা
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, নান্টু মিঞা জমি ব্যবহারের জন্য জমির মালিককে ৩,০০০ টাকা, নিয়োগকৃত শ্রমিকের মজুরি ১,৫০০ টাকা, মূলধনের সুদ বাবদ ১.২০০ টাকা এবং ঝুঁকি বহনের জন্য ২,০০০ টাকা দেন। এক্ষেত্রে মোট খাজনার পরিমাণ হবে (৩,০০০+ ১,৫০০ + ১,২০০ + ২,০০০) বা ৭,৭০০ টাকা। অর্থাৎ উল্লিখিত জমির মোট খাজনা ৭,৭০০ টাকা।
সুতরাং উদ্দীপকের নান্টু মিঞার মোট খাজনা হলো ৭,৭০০ টাকা।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত খাজনাসমূহ বলতে নিট খাজনা, মোট খাজনা ও নিম খাজনাকে বোঝানো হয়েছে, যা উৎপত্তির দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন।

সাধারণত খাজনার উৎপত্তি হয় উৎপাদনের কোনো উপকরণের যোগান দাম অস্থিতিস্থাপক হলে। যেমন- জমির যোগান অস্থিতিস্থাপক হওয়ায় জমির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে নিট খাজনার উৎপত্তি হয়। আর, নিট খাজনার সাথে চাষাবাদের জন্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগ করলে মোট খাজনার উদ্ভব ঘটে। অন্যদিকে নিম খাজনার সৃষ্টি হয়, স্বল্পকালে মূলধনী দ্রব্য যেমন- যন্ত্রপাতি, কলকারখানা, দালানকোঠা ইত্যাদি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত আয় থেকে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, কৃষক নান্টু মিঞা অন্যের জমি ব্যবহারের জন্য মালিককে ৩,০০০ টাকা প্রদান করেন। যা মূলত নিট খাজনা হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের খাজনা দিতে হয় জমির যোগানের অস্থিতিস্থাপকতা, উর্বরতা ও অবস্থানগত, পার্থক্যের কারণে। অন্যদিকে চাষাবাদের জন্য আনুষঙ্গিত খরচ (যেমন- মজুরি ১,৫০০ টাকা, সুদ ১,২০০ টাকা ও মুনাফা বা ঝুঁকি বহনের জন্য ২০০০ টাকা) ও নিট খাজনার সমষ্টি হলো মোট খাজনা। আবার, ট্রাক্টর ভাড়া বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত আয় (৭৫০-৬০০) বা ১৫০ টাকা হলো নিম খাজনা। যা মূলত মূলধনী দ্রব্যের যোগান অস্থিতিস্থাপক হওয়ার কারণে স্বল্পকালে সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের খাজনা দীর্ঘকালে পরিলক্ষিত হয় না।
তাই পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত খাজনাসমূহের উৎপত্তির কারণ বা উৎস এক নয়।

207
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

অর্থনীতিতে ভূমি বা সীমাবদ্ধ যোগান বিশিষ্ট প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের জন্য তার মালিককে যে অর্থ দেওয়া হয়, তাকে খাজনা বলে।

226
উত্তরঃ

উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে জমির চাহিদা বাড়লেও ভূমির যোগান সম্পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক হয় বলে, ভূমিকে উৎপাদনের অস্থিতিস্থাপক উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়।
অস্থিতিস্থাপক যোগান হলো, যে উপকরণের যোগান বৃদ্ধি পায় না। ফলে চাহিদা বাড়লে কোনো উপকরণের যোগান অস্থিতিস্থাপক হলে সর্বনিম্ন যোগান দামের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করে। অর্থাৎ জমির যোগান অস্থিতিস্থাপক বা সীমাবদ্ধ হওয়ায় চাইলেই এর পরিমাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব না। এজন্য জমির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় জমির মালিককে জমি ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয়। এরূপ বৈশিষ্ট্যের জন্যই ভূমিকে উৎপাদনের একটি অস্থিতিস্থাপক উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়।

365
উত্তরঃ

উদ্দীপকে জামিল শেখের জমির আশেপাশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটায় তার জমির মূল্য কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় তার অনুপার্জিত আয় সৃষ্টি হয়।
সাধারণত, অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা কোনো এলাকার শিল্প, কারখানা, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র ইত্যাদির উন্নতির ফলে সে এলাকায় জমির চাহিদা বেড়ে যায় এবং জমির মূল্য আগের চেয়ে বেশি হয়। এর ফলে জমির মালিকগণ অতিরিক্ত আয় ভোগ করে। কিন্তু এই বর্ধিত আয়ের জন্য তাকে অর্থ ব্যয় করতে হয় না। এভাবে জমির মালিক বিনা খরচ বা পরিশ্রমে যে অতিরিক্ত আয় ভোগ করে তাকে অনুপার্জিত আয় বলে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, জামিল শেখের ক্রয়কৃত ১০ কাঠা আবাদি জমির পাশ দিয়ে বাইপাস রোড তৈরি হয় এবং ঐ রাস্তার পাশ দিয়ে গ্যাস লাইন চলে গেছে। রাস্তাঘাটের উন্নতির ফলে ঐ এলাকায় এসিআই কোম্পানি একটি গবাদি পশুর খাদ্যের কারখানা স্থাপন করেছে। এতে তার জমির দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এই সুযোগে তিনি অর্ধেক জমি (তথা ৫ কাঠা) ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে তিন বিঘা আমের বাগান কেনেন। অথচ তিনি সম্পূর্ণ জমি তথা ১০ কাঠা ৮০ হাজার টাকায় কিনেছিলেন। তার এই অতিরিক্ত আয় কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই সৃষ্টি হয় এবং তা শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য হয়। তাই বলা যায়, কোনো প্রকার অর্থ ব্যয় না করেই জামিল শেখের অনুপার্জিত আয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

273
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত আম বাগান থেকে অর্জিত আয় রিকার্ডোর খাজনা তত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত।

ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ডেভিড রিকার্ডো মনে করেন, খাজনা হচ্ছে জমির মালিক ও অবিনশ্বর ক্ষমতার প্রতিদান। এ ক্ষমতা বলতে তিনি জমির উর্বরা শক্তিকেই নির্দেশ করেন। তার মতে, সব জমির উর্বরা শক্তি সমান নয়, এক্ষেত্রে উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্ট জমি রয়েছে। এর উৎপন্ন ফসলের পার্থক্যের ওপরই খাজনা নির্ভর করে। রিকার্ডোর মতে, যে জমির উৎপাদন খরচ ও আয় পরস্পর সমান সেরূপ জমিকে 'গাজনাবিহীন জমি' বা 'প্রান্তিক জমি' বলা হয়। সুতরাং বিভিন্ন প্রকার জমির উর্বরা শক্তির পার্থক্যের জন্য খাজনার সৃষ্টি হয়। এজন্য তিনি খাজনাকে 'উৎপাদকের উদ্বৃত্ত' বা 'পার্থক্যজনিত প্রাপ্তি' বলে অভিহিত করেন।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, জামিল শেখ তিন বিঘা আমের বাগান থেকে আয় পায় যথাক্রমে ২৪,০০০ টাকা, ১৮,০০০ টাকা এবং ১২,০০০ টাকা। প্রত্যেক বিঘা জমিতে চাষের মোট ব্যয় ১২,০০০ টাকা। সুতরাং ১ম এক বিঘা জমির খাজনা (২৪,০০০ ১২,০০০) টাকা = ১২,০০০ টাকা। ২য় এক বিঘা জমির খাজনা = (১৮,০০০ ১২,০০০) টাকা
৩য় এক বিঘা জমির খাজনা = ৬,০০০ টাকা। (১২,০০০ ১২,০০০) টাকা = ০ টাকা।
এক্ষেত্রে ১ম ও ২য় জমিতে যে পরিমাণ উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয় তাই হলো ওই সব জমির খাজনা। ৩য় জমিতে কোনো উদ্বৃত্ত না থাকায়, এ জমির কোনো খাজনা নেই; এটি প্রান্তিক বা খাজনাবিহীন জমি। তাই উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যের আলোকে রিকার্ডোর খাজনা তত্ত্বটি বিশ্লেষণ করা যায়।

232
উত্তরঃ

শুধু জমি ব্যবহারের জন্য এর মালিককে যে অর্থ প্রদান করা হয় তাকে নিট খাজনা বলে।

300
উত্তরঃ

জনসংখ্যা বৃদ্ধির দরুন জমির চাহিদা বৃদ্ধি পেলে এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কারণে অনুপার্জিত আয়ের উদ্ভব হয়।
জনসংখ্যা বাড়ার কারণে যদি কোনো এলাকার জমির চাহিদা বেড়ে যায়, তবে সে এলাকার জমির মূল্য আগের চেয়ে বেশি হবে। আবার স্থানীয় কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাধীনে যদি কোনো এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অফিস আদালত ইত্যাদি গড়ে ওঠে, তবে সে এলাকার জমির গুরুত্ব অনেকগুণ বেড়ে যায়। এতে জমির মালিকের অনুপার্জিত আয় সৃষ্টি হবে। এভাবেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি অনুপার্জিত আয়ের সৃষ্টি করবে।

367
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews