নান্দাইল রোড রেলস্টেশন থেকে বুয়াইল বাজার হয়ে মধুবন বাজারে যেতে হয়। '১৯৭১' উপন্যাস যে জনপদকে ঘিরে রচিত তার নাম নীলগঞ্জ গ্রাম। ময়মনসিংহ-ভৈরব রোড হয়ে ভেতরে চল্লিশ মাইল গহিনে এই গ্রাম। অখ্যাত স্টেশন নান্দাইল রোডে মেল ট্রেন থামে না। লোকাল ট্রেন থামে মিনিট খানেকের জন্য। এই অখ্যাত স্টেশন ছেড়ে দশ মাইল ভেতরে বুয়াইল বাজার। স্থানীয় লোকজন এই বাজারটিকে নিয়ে অহংকার করে। ধান-চালের আড়ত, পাটের গুদাম, ধান ভাঙানোর কল, চায়ের দোকান থেকে রেডিও সারার কারিগর পর্যন্ত সবকিছু এই বাজারে পাওয়া যায়। বুয়াইল বাজার হয়ে মাইল ত্রিশ গেলে তবে মধুবন বাজার। যাতায়াতের একমাত্র ব্যবস্থা গরুরগাড়ি। তাও শীতকালে। বর্ষাকালে হাঁটা ছাড়া উপায় নেই। উজানের দেশ। তাছাড়া এই এলাকায় নদীনালা না থাকায় নৌ চলাচলের ব্যবস্থা নেই। তাই নান্দাইল রোড স্টেশন থেকে রুয়াইল বাজার হয়ে গরুরগাড়ি অথবা হেঁটে তিরিশ মাইল পাড়ি দিয়ে মধুবন বাজারে যেতে হয়।
Related Question
View All'১৯৭১' উপন্যাসে ঔপন্যাসিক কাহিনির ক্ষেত্রে কোনো নিশ্চিত মীমাংসার পৌঁছাননি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সম্ভাবনার বীজ বপন করে দিয়েছেন। উপন্যাসের সূচনায় ঔপন্যাসিক মতি মিয়ার শালা নিজাম আলিকে পাগল বলে উল্লেখ করেছেন। নিজাম আলিকে তিনি নিত্যদিনের পাগল বলেননি। এমনিতে নিজাম সুস্থ থাকে। শুধু মাঝে মাঝে দু-একদিন মাথা গরম হয়। মাথা গরম হলেও নিজাম কোনো কিছু ভাঙচুর করে না, কারও ওপর আক্রমণ করে না। শুধু গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ছোটাছুটি করে। আর সে মধুবন জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। হুমায়ূন আহমেদ স্পষ্ট করে কিছুই প্রকাশ করেননি। অথচ মেজর এজাজ আহমেদ ঝড়ের মধ্যে মধুবন জঙ্গল থেকে নিজাম আলিকে বের হতে দেখে মুক্তিবাহিনীর সাথে নিজামের সম্পর্ক রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।
দ্বিতীয়ত, আজিজ মাস্টারকে তুলে নিয়ে প্রশ্ন করলে সে সততার সঙ্গে সব প্রশ্নের উত্তর দেয়। এমনকি তার আশ্রয়দাতা জয়নাল মিয়ার ঘরে ট্রানজিস্টার আছে, সেই সত্যও আজিজ মাস্টার মেজর এজাজের কাছ থেকে লুকায়নি। কিন্তু স্বাধীন বাংলা বেতার শোনা প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তর দিতে দেরি করার জন্য মেজর এজাজ আজিজ মাস্টারকে মুক্তিবাহিনীর দোসর ভেবে নেন। এর জের ধরে আজিজ মাস্টারের প্রতি বর্বরতম আত্মসম্মানহীনতার শাস্তি আরোপ করেন। অপমান সহ্য করতে না পেরে আজিজ মাস্টার মৃত্যুকে বেছে নেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত জয়নাল মিয়ার বক্তব্যে প্রকাশ পায়, আজিজ মাস্টার মুক্তিবাহিনী সম্পর্কে কিছুই জানে না, জানার কথাও নয়।
তৃতীয়ত, রফিকের মতো সহযোগীকে মেজর এজাজ আহমেদ সন্দেহ করেন। রফিক নীলগঞ্জ গ্রামে এজাজ আহমেদের সফরসঙ্গী। রফিকের অপরাধ সে নীলগঞ্জবাসীর পক্ষে, বিশেষত আজিজ মাস্টারের শাস্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। বাঙালি হিসেবে আরেকজন বাঙালির প্রতি ভালোবাসা জাগার বিষয়টিকে মেজর এজাজ সন্দেহের চোখে দেখেছেন। সন্দেহকে সত্যি ভেবে নিজের দোসর রফিককেও শেষপর্যন্ত হত্যা করেছেন তিনি। তাই বলা যায় যে, '১৯৭১' উপন্যাসের কাহিনির ক্ষেত্রে হুমায়ূন আহমেদ যেখানে প্রত্যক ক্ষেত্রেই বপন করেছেন সম্ভাবনার বীজ; সেখানেই মেজর এজাজ আহমেদ জানিয়েছেন নিশ্চিত সিদ্ধান্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!