ব্যবসায় সংগঠন পাঁচ প্রকার।
একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ব্যবসায়ই হলো একমালিকানা ব্যবসায়।
একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক নিজেই এর নিয়ন্ত্রক। ব্যবসায়ে অন্য কোনো অংশীদার না থাকায় যাবতীয় দায়-দেনার জন্য মালিক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও তাকে ব্যবসায়ের দায়-দেনা পরিশোধ করতে হয়। এ জন্যই বলা হয়, একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম।
নাফিজ ও তার বন্ধুদের প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি ছিল অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ হয়ে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করেন। এ ব্যবসায় যৌথভাবে পরিচালনা করা হয়।
উদ্দীপকের নাফিজ ও তার চার বন্ধু খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাটি এ চুক্তির ভিত্তিতে গঠন করেছেন। এ চুক্তিই তাদের ব্যবসায়ের প্রধান ভিত্তি। এ চুক্তির আলোকেই তাদের ব্যবসায়ের যাবতীয় কাজ (যেমন: মূলধন সরবরাহ, লাভ-ক্ষতি বণ্টন, পরিচালনা প্রভৃতি) করা হয়। এসব বৈশিষ্ট্য অংশীদারি ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং, মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির আওতায় নাফিজ ও তার বন্ধুরা প্রথম পর্যায়ে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করেছিল।
সাংগঠনিক ধরন পরিবর্তন করে উদ্দীপকের নাফিজরা যৌথ মূলধনী ব্যবসায় গঠন করেছেন; যা দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
সাধারণত বেশি মূলধন সংগ্রহ ও ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য যৌথ মূলধনী ব্যবসায় গঠন করা হয়। যৌথ মূলধনী ব্যবসায় ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী গঠিত ও পরিচালিত হয়। এ ব্যবসায় বৃহৎ আয়তনের হয়ে থাকে। এজন্য এতে বেশি সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়।
উদ্দীপকের নাফিজ ও তার বন্ধুরা প্রথমে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করেন। ব্যবসায়টির পণ্যের চাহিদা বাড়ায় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তারা আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তারা পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারছিলেন না। তাই তারা প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সাংগঠনিক ধরন পরিবর্তন করে যৌথ মূলধনী ব্যবসায় গঠন করেন।
ব্যবসায়টি যৌথ মূলধনী হওয়ায় শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি করে তারা প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করেন। এই অর্থ দিয়ে তারা সহজেই ব্যবসায়ের শাখা বিভাগীয় শহরেও সম্প্রসারণ করতে পেরেছেন। এতে সেখানে অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য উৎপাদন বাড়ায় মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি কর দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতেও সহায়তা করছে। এভাবে নাফিজদের যৌথ মূলধনী ব্যবসায়টি দেশের অর্থনীতিতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Related Question
View Allএকমালিকানা ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা।
একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের একটি পার্থক্য হলো:
এ ব্যবসায়ের মালিক একাই ব্যবসায় পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। অপরদিকে, অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারগণ যৌথভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে থাকেন।
আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা সংগঠন হওয়ায় এর স্থায়িত্বের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ ব্যবসায় একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়। মালিক কোনো কারণে ব্যবসায় পরিচালনায় ব্যর্থ হলে এ ব্যবসায়ের বিলোপ ঘটে। এজন্য এ ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়।
উদ্দীপকের আবির কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের কাছে ছোট একটি চায়ের দোকান খুলে কর্মজীবন শুরু করেন। দোকানটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন। কোনো অংশীদার কিংবা কর্মচারী না থাকায় সব কিছু তাকেই তত্ত্বাবধান করতে হয়। কোনো কারণে দোকান খুলতে না পারলে সেদিন তাকে ব্যবসায় বন্ধ রাখতে হয়। দোকানটি খোলা কিংবা বন্ধ রাখা তার ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধার ওপর নির্ভরশীল। তাই আবিরের চায়ের দোকানের স্থায়িত্ব সবসময়ই অনিশ্চিত থাকে।
সাংগঠনিক ধরন বিবেচনায় আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায়; যা কম ঝুঁকিপূর্ণ অথচ অসীম দায়সম্পন্ন।
এ ব্যবসায় স্বল্প পুঁজি ও দৈনন্দিন চাহিদা আছে এমন পণ্য নিয়ে সহজেই গঠন করা যায়। তাই এ ব্যবসায় কম ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এ ব্যবসায়ের লাভ হলে মালিক সম্পূর্ণ মুনাফা পায়। আবার লোকসান হলেও সম্পূর্ণটাই তাকে বহন করতে হয়। এজন্য এ ব্যবসায়ের ঝুঁকি কম হলেও মালিকের দায় অসীম হয়।
উদ্দীপকের আবিরের চায়ের দোকানটি একটি একমালিকানা ব্যবসায়। এ ব্যবসায়টি কম ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ব্যবসায়টির পুঁজি স্বল্প। ব্যবসায়ের সব লাভ তিনি একাই ভোগ করেন। তবে লোকসান হলে সব দায়- দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। কারণ ব্যবসায়ে লাভ-লোকসান যা-ই হোক তার কারণেই হয়।
ব্যবসায়ে ক্ষতি হলে প্রয়োজনে আবিরকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও দায় পরিশোধ করতে হবে। এ কারণেই ব্যবসায়ের ধরন বিবেচনায় আবিরের চায়ের দোকানে ঝুঁকি কম থাকলেও দায় অসীম হয়।
ব্যবসায় সংগঠন পাঁচ প্রকার।
একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ব্যবসায়ই হলো একমালিকানা ব্যবসায়।
একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক নিজেই এর নিয়ন্ত্রক। ব্যবসায়ে অন্য কোনো অংশীদার না থাকায় যাবতীয় দায়-দেনার জন্য মালিক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও তাকে ব্যবসায়ের দায়-দেনা পরিশোধ করতে হয়। এ জন্যই বলা হয়, একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
