সর্বোচ্চ ভ্যালু সৃষ্টি ও প্রদানের মাধ্যমে লাভজনক উপায়ে ক্রেতাদের সন্তুষ্টিবিধান, শক্তিশালী ক্রেতা সম্পর্ক সৃষ্টি ও বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে বিপণন বলে।
যে সকল প্রতিষ্ঠান পুনরায় উৎপাদনের জন্য বা সমাজে পণ্য বা সেবা সরবরাহ দেওয়ার জন্য পণ্য বা সেবা ক্রয় করে তাদেরকে শিল্প বাজার বা ব্যবসায় বাজার বলে। এ বাজারকে আবার উৎপাদকের বাজারও বলা হয়।
শিল্প বাজারের ক্রেতারা হলো উৎপাদক। এরা পণ্যের নতুন উপযোগ সৃষ্টির জন্য পণ্য ক্রয় করে। বিশ্বের প্রতিটি মানুষ ভোক্তা হওয়ার কারণে তারা কোনো না কোনোভাবে ভোক্তা বাজারের সদস্য। কিন্তু শিল্প বাজারের সদস্যরা উৎপাদন কিংবা পুনঃবিক্রয়ের জন্য পণ্য ক্রয় করে। তাই শুধুমাত্র উৎপাদক এবং মধ্যস্থব্যবস্থায়ীরাই এ বাজারের সদস্য। এ কারণে শিল্প বাজারের সদস্য সংখ্যা ভোক্তা বাজারের চেয়ে কম হয়।
কাকনতলার কর্মজীবী শিশুরা বিপণনের ব্যষ্টিক পরিবেশের উপাদান 'জনগোষ্ঠীর' অন্তর্ভুক্ত।
জনগোষ্ঠী হলো এমন একটি দল বা গোষ্ঠী, যারা ব্যবসায়ের কার্যক্রমের ওপর প্রত্যক্ষভাবে প্রভাববিস্তার করে। তাই বিপণনকারীকে জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়।
উদ্দীপকে কাকনতলা গ্রামে ১০ থেকে ১৫ বছরের ৩৭ জন বালক বিশেষ ধরনের জামদানি শাড়ি তৈরি করে। বহির্বিশ্বে এ শাড়ির কদর অনেক বেশি। নরম বা শক্ত হাতের বুনন ছাড়া এ শাড়িগুলো তৈরি হয় না। এ শাড়ি উৎপাদনে জড়িত শিশুরা অভ্যন্তরীণ জনগোষ্ঠী অন্তর্গত। কেননা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক কিংবা ব্যবস্থাপক সকলেই অভ্যন্তরীণ জনগোষ্ঠীর উপাদান। আর ঐ সকল কর্মজীবী শিশু মূলত শ্রমিক। এ শিশুরা প্রত্যক্ষভাবে শাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রভাববিস্তার করে। আর যেসব উপাদান বিপণন কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে তাই হলো ব্যষ্টিক পরিবেশ। তাই বলা যায়, কর্মজীবী শিশুরা ব্যষ্টিক পরিবেশের উপাদান 'জনগোষ্ঠীর' অন্তর্গত।
শিক্ষক ও উন্নত মানসিকতার ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক গৃহী উন্নত বিশ্বে শাড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি।
তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে প্রায়ই দেখা যায়, শিশুদেরকে নানা কর্মক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু শিশুদের জন্য এ সময়টা হচ্ছে পড়াশোনা করার সময়। কেননা শিশুশ্রম আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। তাই উন্নত দেশগুলোর কাছে এটি একটি নিন্দনীয় বিষয়।
উদ্দীপকে কাকনতলা গ্রামের ১০ থেকে ১৫ বছরের কিছু বালক বিশেষ ধরনের জামদানি শাড়ি তৈরি করে। দেশ কিংবা বিদেশ উভয় স্থানেই এ শাড়ির চাহিদা রয়েছে। তবে পশ্চিমা বিশ্বের কিছু দেশ এত অল্প বয়সী শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর বিপক্ষে। অথচ জীবনের প্রয়োজনে তাদের কাজ করতেই হবে। এজন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, উন্নত খাবার ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করার চিন্তা করছেন। এক্ষেত্রে শিক্ষক ও উন্নত মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের সিদ্ধান্তটি শিশুদের নতুন জীবন দান করবে। পশ্চিমা দেশগুলোর নিকট বাংলাদেশের শ্রম পরিবেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে। এতে তারা আবার রপ্তানিতে আগ্রহী হবে।
সুতরাং বলা যায়, সমাজের শিক্ষক ও কতিপয় ব্যক্তিবর্গের উদ্দীপকের সিন্ধান্তটি যৌক্তিক হয়েছে।
Related Question
View Allযে সকল পক্ষ, শক্তি বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মকাণ্ডকে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে তাকে সামষ্টিক পরিবেশ বলে।
যে সকল পক্ষ, শক্তি অথবা উপাদান বিপণন কার্যক্রমকে সরাসরি প্রভাবিত করে তাকে ব্যষ্টিক পরিবেশ বলে।
বিপণনের ব্যষ্টিক পরিবেশের উপাদানগুলো হলো- কোম্পানি, সরবরাহকারী, বিপণন মধ্যস্থব্যবসায়ী, ক্রেতা, প্রতিযোগী ও জনগোষ্ঠী। ব্যষ্টিক পরিবেশের এ উপাদানগুলো বিপণন কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাববিস্তার করে। এসকল উপাদান সাধারণত নিয়ন্ত্রণযোগ্য। যেমন- একটি কোম্পানির প্রতিটি বিভাগ ও উপবিভাগের ওপর কোম্পানির সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকে।
এমনিভাবে অন্যান্য উপাদানগুলোও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তাই বলা যায়, বিপণনের ব্যষ্টিক পরিবেশ নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
সামষ্টিক পরিবেশের অর্থনৈতিক উপাদানের কারণে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।
পরিবেশের যে সকল শক্তি, পক্ষ বা উপাদানসমূহ ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতা ও বায়ের ধরনকে প্রভাবিত করে তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে।
সাধারণত ভোক্তার আয়ের পরিবর্তনসমূহ, ব্যয়ধাঁচের পরিবর্তনশীলতা এবং সঞ্চয়ের হার ও ঋণের পরিমাণ অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদান হিসেবে গণ্য হয়।
উদ্দীপকের 'লিলি কেমিক্যালস লিমিটেড' একটি রং ফর্সাকারী ক্রিমের বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের পণ্যের মান ভালো হওয়ায় এবং দাম কম হওয়ায় বেশ সুনাম অর্জন করেছে। কিন্তু সম্প্রতি দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ভোগের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। অর্থাৎ ভোক্তারা আরও মানসম্মত ও বেশি মূলোর পণ্য ভোগ করতে চাচ্ছে। কেননা মানুষের আয় যখন বেড়ে যায় তখন স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি ব্যয়ের মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদাকে ফুটিয়ে তুলতে চায়। সুতরাং একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, সামষ্টিক পরিবেশের অর্থনৈতিক উপাদানের অন্তর্গত ভোক্তাদের আয় ও ব্যয়ধাঁচের পরিবর্তনের কারণেই উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।
উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহার করে
পণ্যমান উন্নত করার চিন্তা-ভাবনা যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
পণ্যমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ অবদান
রাখে। বর্তমানে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্যের মান
উন্নয়ন ও উৎকৃষ্ট সাধনে অবিরাম চেষ্টা চালাচ্ছে। কারণ এর মাধ্যমে
প্রতিযোগিতা মোকাবিলা ও ক্রেতাসন্তুষ্টি অর্জন অনেকটাই সহজ হয়।
উদ্দীপকের 'লিলি ক্যামিক্যালস লিমিটেড' একটি রং ফর্সাকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের পণ্যের মান ভালো এবং দাম কম হওয়ার কারণে প্রথম দিকে বেশ মুনাফা ও সুনাম অর্জন করে। কিন্তু দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে তাদের ক্রয় ধাঁচের মধ্যে পরিবর্তন দেখা দেয়। তারা আলাদা রং, ডিজাইন, বৈশিষ্ট্য ও ভ্যালুকে গুরুত্ব দিতে থাকে। এক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য বেশি হলেও তাদের কোনো আপত্তি নেই। এমতাবস্থায় 'লিলি কেমিক্যালস লিমিটেড' তাদের বর্তমান পণ্যের আরও মানোন্নয়ন এবং নতুন নতুন বৈশিষ্টা যুক্ত করে পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহারের চিন্তা-ভাবনা করে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত সমস্যা সমাধানের পদ্ধতিটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী।
কোনো পণ্য বা সেবা বিপণনে যে সকল পক্ষ, শক্তি বা পারিপার্শ্বিক উপাদানসমূহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাববিস্তার করে তাকে বিপণন পরিবেশ বলে।
বিপণন পরিবেশের সামষ্টিক উপাদানগুলো অনিয়ন্ত্রণযোগ্য।
যে সকল অনিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তি বিপণন কার্যক্রমে পরোক্ষভাবে প্রভাববিস্তার করে সেগুলোর সম্মিলিত প্রভাবকে সামাষ্টিক পরিবেশ বলে। সামষ্টিক পরিবেশের প্রধান উপাদানগুলো হলো- জনসংখ্যাগত পরিবেশ, অর্থনৈতিক পরিবেশ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রযুক্তিগত পরিবেশ, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশ। এই বাহ্যিক উপাদানগুলো বৃহত্তর সামাজিক শক্তিসমূহের সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় কোম্পানির কার্যক্রমে প্রভাববিস্তার করে; যা কোম্পানির পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। তাই সামষ্টিক পরিবেশের উপাদানগুলোকে অনিয়ন্ত্রণযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!