প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ১০ থেকে ২০ বছর মেয়াদী।
সামাজিক নীতি হচ্ছে সেইসব নিয়ম-কানুন ও কর্মপন্থা যা কোনো সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে।
সামাজিক নীতি একটি ধারাবাহিক ও গতিশীল প্রক্রিয়া। এটি মূলত সমাজের কাঙ্ক্ষিত প্রয়োজন পূরণ তথা মানুষের কল্যাণের জন্য কিছু রীতি-নীতি, নিয়ম-কানুন, পদ্ধতি বা কৌশল, যা সরাসরি সরকার কর্তৃক গৃহীত হয় এবং যেখানে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার প্রয়াস চালায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত শ্রেণি তথা নারীদের। জন্য জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি প্রযোজ্য।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ নারী। দেশের সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত নারী উন্নয়ন। তাই নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নীতিতে নারীর উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। জাতীয় জীবনের সকল স্তরে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যম হিসেবে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক সব ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এতে নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কথাও বলা হয়েছে। নারী উন্নয়ন নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষ হিসেবে নারীর উন্নয়ন ও বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা; নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতা রোধ করা। পাশপাশি নারীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের প্রতি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উদ্দীপকে নাসরিন সুলতানা সম্প্রতি ইউনিয়নের মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। সমাজের অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত নারীদের দুরবস্থা তাকে বিচলিত করে। এসব সমস্যার সমাধানে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতির যথাযথ প্রয়োগ জরুরি।
অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত নারীদের দুরবস্থা দূর করার জন্য উদ্দীপকের নাসরিন সুলতানা কিছু উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। এর সমাধানের উপায় হিসেবে তাকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।।
পরিকল্পনা একটি বুদ্ধিজাত প্রক্রিয়া। প্রত্যেকটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানামুখী জটিলতা সৃষ্টি হয়। যেমন-পরিকল্পনার অপূর্ণতা, জনগণের অংশগ্রহণের অভাব, বিশেষজ্ঞের স্বল্পতা, অপর্যাপ্ত সম্পদ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। উদ্দীপকের নাসরিনও তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসব সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। এক্ষেত্রে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নাসরিনকে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাকে অগ্রাধিকারভিত্তিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণপূর্বক পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা করতে হবে। অভিজ্ঞ ও দক্ষ পরিকল্পনা প্রণয়নকারীর অভাব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আরেকটি বড় সমস্যা। এ জন্য তাকে পরিকল্পনা প্রণয়নে দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে।
পরিকল্পনা প্রণয়নে আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর অধিক নির্ভরতার কারণে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এক্ষেত্রে জনগণকে উন্নয়ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সেই সাথে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও অনেক সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এজন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।
Related Question
View AllMDG-র পূর্ণরূপ Millennium Development Goals |
জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সরকারি নীতিই জনসংখ্যা নীতি।
যে কোনো দেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সে দেশের জনসংখ্যা। অর্থাৎ দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্পদের সাথে জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা আবশ্যক। সঠিকভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত নীতিকেই জনসংখ্যা নতি বলা হয়।
শীলার কর্মকান্ডের সাথে বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার মিল রয়েছে।
বেগম রোকেয়া ছিলেন বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য তাদের সংগঠিত করতে চেষ্টা করেন। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার প্রসার নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দরিদ্র বালিকাদের শিক্ষাদান, বিধবা ও আশ্রয়হীন মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করতেন। উদ্দীপকের শীলার কর্মকাণ্ডেও এ বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয়।
শীলা উচ্চ শিক্ষা শেষ করে গ্রামে ফিরে যান। তিনি তার এলাকার অধিকার বঞ্চিত নারীদের সংগঠিত, শিক্ষাদান করে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং অধিকার নিশ্চিত করতে একটি মহিলা সমিতি ও নারী শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড উপরে বর্ণিত বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শীলার কাজের সাথে বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান নারীদের উন্নয়নে সরকারের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন যার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে।
নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে রক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা প্রভৃতি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর প্রধান উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন সব ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন, অভিভাবকহীন, বিধবা, অসহায় নারীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রভৃতির উদ্দেশ্যও এ নীতির লক্ষ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
উদ্দীপকের রূপপুর গ্রামের নারীরা পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও তাদের সমান মজুরি পায় না। শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। নারী-পুরুষের এই বৈষম্য দূরীকরণ ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। আর রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নের জন্য এ নীতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নে সরকার প্রণীত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নে কাজ করছেন। আর এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা
নয়টি দেশের সমাজকর্ম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে 'Study Group' গঠন করা হয়।
সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণে সমাজকর্মীর গুরুত্ব অপরিসীম।
সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাদের সেবায় বিশেষভাবে নিয়োজিত থাকে। অবহেলিত বঞ্চিত ও শোষিত শ্রেণির অধিকার রক্ষা এবং সর্বোপরি সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে পেশাদার সমাজকর্মীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ববহ। বিশেষ করে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারে সমাজকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!