১৯৭১ সালের ২রা মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করার জন্যই মূলত যৌথবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। ভারত প্রথম থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন দেয়। মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে গেরিলা ট্রেনিং গ্রহণ করে এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে প্রবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর ব্যাপক আক্রমণ চালাতে থাকে। এ যুদ্ধকে আরো বেগবান করার জন্য বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী ২১শে নভেম্বর যৌথভাবে যৌথবাহিনী গঠন করে।
নাসিফের বাবা মুক্তিবাহিনীর ৯নং সেক্টরের সদস্য ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯নং সেক্টরের অধীনে ছিল দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চল, ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ এবং বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা। মুক্তিযুদ্ধের সময় সঠিকভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এ ১১টি সেক্টরের একটি হচ্ছে ৯নং সেক্টর। ৯নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. এ জলিল এবং মেজর জয়নাল আবেদীন। এ সেক্টরের যুদ্ধারা যুদ্ধে অসীম সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেছিল এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করেছিল। ৯নং সেক্টরে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গেরিলা বাহিনী তৎপর ছিল। তাদের মিলিত আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজিত হয়েছিল এবং ৯নং সেক্টর শত্রুমুক্ত হয়েছিল। উদ্দীপকে দেখা যায়, নাসিফের বাবা বরিশাল এলাকাতে মুক্তিযুদ্ধ করেন। বরিশালসহ পার্শ্ববর্তী আরও কিছু এলাকা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯নং সেক্টর গঠিত হয়েছিল। তাই বলা যায়, নাসিফের বাবা ৯নং সেক্টরেই যুদ্ধ করেছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটিতে অর্থাৎ ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ছাড়াও অনেকগুলো আঞ্চলিক বাহিনী ছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে- উক্তিটি যথার্থ।
মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ১১টি সেক্টর ও তার অধীন অনেক সাব-সেক্টর ছাড়াও রণাঙ্গনে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়। এসব বাহিনীর পাশাপাশি সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে কিছু বাহিনী গড়ে ওঠে যারা ভারতে কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেনি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল), আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা-ময়মনসিংহ), বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল), হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ-বরিশাল), হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ), আকবর বাহিনী (মাগুরা) লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা) ও জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)। এসব গেরিলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড ছিল স্বেচ্ছাসেবামূলক, স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। দেশের অভ্যন্তরে জনগণের মনোবল অটুট রাখা, পাকিস্তানি ও তাদের দোসরদের অতর্কিত আক্রমণে পরাস্ত করা ও যুদ্ধের জন্য লোকবল সংগ্রহ ও তাদের ট্রেনিং প্রদান ছিল এসব বাহিনীর প্রধান কাজ। কাগজে-কলমে গেরিলারা সেক্টর কমান্ডার দ্বারা পরিচালিত হলেও বাস্তবে এরা এলাকাভিত্তিতে নিয়ন্ত্রিত হতো। বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গেরিলা ছিল লক্ষাধিক। এছাড়াও এর কয়েকগুণ ছিল স্বেচ্ছাসেবক। যারা মুক্তিযুদ্ধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ছাড়াও অনেকগুলো আঞ্চলিক বাহিনী ছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
Related Question
View All১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান বিজয়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র শুরু করে।
জুলফিকার আলী ভুট্টো বাঙালিদের ক্ষমতা গ্রহণে বাধা দেওয়ার জন্য ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেন। তিনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সংকট তৈরি করেন। এই পদক্ষেপ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
ইয়াহিয়া খান ১লা মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। এতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ক্ষোভআরও বেড়ে যায়। আওয়ামী লীগ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
২রা মার্চ ১৯৭১ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। এটি স্বাধীন বাংলার প্রথম আনুষ্ঠানিক পতাকা ছিল।
৩রা মার্চ ১৯৭১-এ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ওই দিন পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে আন্দোলন আরও গতিশীল হয় এবং জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা বৃদ্ধি পায়।
শাজাহান সিরাজ ৩রা মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এটি মুক্তি আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা এনে দেয় এবং ছাত্র-জনতাকে আরও সংগঠিত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!